জাতীয়

টাঙ্গাইলে কফি চাষে সফল কৃষক সানোয়ার

 ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

ইউরোপের অনেক দেশে কফি’র চাষ হয়। সেই কফি এখন চাষ হচ্ছে টাঙ্গাইলের মধুপরে। সানোয়ার হোসেন নামের এক কৃষক মধুপুর বনে কফি চাষের উদ্যোক্তা। গাছের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত শাখা-প্রশাখায় কফির ফলে ভরপুর। অনেকেই কফি বাগান দেখতে ভিড় করছেন। তারাও কফি চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। কৃষি বিভাগও মধুপুর বনে কফি চাষের সম্প্রসারন করার কথা জানিয়েছেন।
 
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বনাঞ্চল মহিষমাড়া গ্রামে নিজের বাড়ির পেছনে কফির বাগানটি করেছেন সানোয়ার হোসেন। নানা ধরণের ফলের পাশাপাশী তিনি সখের বশে গড়ে তুলেছেন এই কফির বাগান। সরেজমিনে দেখা গেছে, সানোয়ার হোসেনের ৪৫০টি কফি গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছের গোড়া থেকে প্রত্যেক শাখা-প্রশাখা ফলে ভরপুর। কিছু কিছু  ফল পাকতেও শুরু করেছে। এছাড়ও তিনি নতুন করে আরেকজন কৃষকের জমিতে ২০০ কফির চারা রোপন করেছেন।
সানোয়ার হোসেন বলেন, চা-কফি খাওয়ার নেশা থেকে এই কফি চারা লাগান তিনি। বান্দরবানের রায়খালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্র থেকে ২০১৭ সালে ২০০ চারা কিনে আনেন। দুই বছর পর গতবছর কিছু ফল আসে। আর এ বছর প্রচুর ফল এসেছে। তিনি বলেন, প্রতিটি গাছে ২ কেজির মতো ফল এলেও শুকিয়ে প্রায় ২৫০ গ্রাম পাওয়া যায়। তবে কফির প্রক্রিয়াজাত করনের যন্ত্র নেই তার কাছে। সরকারের কাছে তার দাবী কফি প্রক্রিয়াজাত করনের যন্ত্র দেয়ার।
 
ছোট ছোট গোল গোল সবুজ লাল কফিতে ভরপুর তার বাগান। সবুজ কফিগুলো পেকে লাল। এর পর কালো হচ্ছে। জানা গেছে, এগুলো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় শুকালে কফির বিন পাওয়া যায়। পরে মেশিনে গুঁড়া করা হয়। সানোয়ার হোসেনের এই বাগানে কাজ করছেন কয়েকজন শ্রমিক। কফি বাগানে কাজ করে যে পারিশ্রমিক পান তাতে তাদের সংসার ভালো ভাবে চলছে।এত করে সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থানের।
নিরাপদ ফল-ফসল উৎপাদনে এলাকার মানুষের কাছে সানোয়ার হোসেন আদর্শ। অনেকেই প্রতিদিন আসেন কফি বাগান দেখতে। জীবনে প্রথম কফি গাছ ও বাগান দেখে তারা অভিভুত। অনেকেই কফি বাগান করার জন্য সানোয়ার হোসেনের পরামর্শ নিচ্ছেন।
 
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, টাঙ্গাইলের মধুপুর ও সখীপুর উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া কফি চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়া গেলে এ অঞ্চলে কফি চাষের এক বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে।

টাঙ্গাইলসহ সারাদেশে সরকারী সহায়তায় কৃষকদের যদি কফি চাষে আগ্রহী করা যায় তবে কফির আমদানী নির্ভরতা কমে আসবে। এত সাশ্রয় হবে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা। এমনটাই মরেন করছেন সংশ্লিষ্ঠরা।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments