পাবনায় স্বামী-স্ত্রীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন


সিনিউজ, পাবনা: পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের মাদারবাড়িয়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক দম্পতিকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত সখিনা খাতুন বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, জমি বিরোধ নিয়ে স্থানীয় জামায়াতের কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগের দায়ের করা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ওই দম্পতিকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন চালানো হয়েছে। এসময় তারা ওই নারীর মাথার চুল কেটে ও গায়ে সিগারেটের আগুনে পুড়িয়ে বেধরক মারধর করেছে।এ সময় হামলাকারীরা তার বাড়িঘরেও ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ মারধরের ঘটনা ঘটে। আহত দম্পতি সখিনা খাতুন (৩৫) ও তার স্বামী জিলাল প্রামাণিককে (৪৫) ঘটনার রাতেই পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সখিনা খাতুন বলেন, স্থানীয় জামায়াতের ক্যাডার শাহজাহান ও তার সহযোগীরা আমার বাড়ির ২৩ শতাংশ জমির দলিল জাল করে দখলের পাঁয়তারা করায় তাদের বিরুদ্ধে আদালতে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ ৮ বছর ধরে মামলা চলে আসছে। ওই মামলায় শাহজাহান আলী, মারুফ হোসেন, বকুল হোসেন ও জনিকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিরা আমাদের বিভিন্ন সময়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। 

গতকাল রাতে তারা পরিকল্পিতভাবে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমাকে ও আমার স্বামীকে নির্যাতন করে। আমার মাথার চুল কেটে দেয় ও গায়ে সিগারেটের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। আমি এই সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন জিলাল প্রামাণিক বলেন, আমি কেঁচির কারখানায় কাজ করি। আমার সামান্য জমির কাগজ জাল করে দখলের অপচেষ্টা করেছে জামায়াতের শাহজাহান ও তার লোকজন। আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করায় একের পর এক হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিল। মামলা তুলে না নিলে প্রাণনাশের হুমকি অব্যাহত রেখেছে। গতকাল রাতে দলবল বেধে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধরক মারধরসহ মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালায়। এ ঘটনায় আমি উপায়ান্ত না পয়ে পুলিশের স্মরণাপন্ন হই।

নির্যাতনের শিকার ওই দম্পতির মেয়ে কাজলী বলেন, তাদের নির্যাতনের কারণে আমরা ভয় ও আতঙ্কের মধ্য রয়েছি। 

ঘটনার বিষয়ে পাবনা দোগাছি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আলী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিম আহম্মেদ বলেন, লোকমুখে ঘটনাটি শুনেছি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিতের জন্য পুলিশের এক কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পাঠানো হলে সত্যতা পাওয়া গেছে। নির্যাতিত স্বামী-স্ত্রী বর্তমানে পাবনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। ভিকটিমের অভিযোগের আলোকে পাবনা সদর থানাতে একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে বলে জানান তিনি।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments