জাতীয়

পর্যবেক্ষক পাঠাবে না ইইউ থাকবে বিশেষজ্ঞ দল


সি নিউজ: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের দিকে ইইউ চোখ রাখছে। তবে সময় স্বল্পতায় প্রস্তুতি না থাকায় এই নির্বাচনে পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দল পাঠাবে না তারা। ইইউ’র নির্বাচনি একটি ছোট বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে ৪০ দিনের মতো অবস্থান করবেন এবং তারা নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।  সেই সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে তাদের কিছু সুপারিশও দেয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকাস্থ ইইউ-এর রাষ্টদূত রেনিজ টেরিংকে। গতকাল আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ইইউ রাষ্ট্রদূত।  ইইউ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশে সফরে আসা ইইউ নির্বাচনি বিশেষজ্ঞ এবং দল প্রধান ডেভিড নয়েল ওয়ার্ড। এছাড়া প্রতিনিধি দলে ছিলেন বাংলাদেশ সফরে আসা নির্বাচনি বিশেষজ্ঞ ইরিনি-মারিয়া গোওনারি। প্রায় ১ ঘণ্টা বৈঠক শেষে নির্বাচনি পর্যবেক্ষক না পাঠানো এবং নির্বাচনি বিশেষজ্ঞ পাঠানো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইইউ রাষ্ট্রদূত রেন্সজে তেরিংক বলেন, অনেক কারণেই বাংলাদেশে নির্বাচনি পর্যবেক্ষক পাঠানো হয়নি।  একটি পূর্ণ নির্বাচনি পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে বেশ আগে থেকেই অনেক প্রস্তুতি নিতে হয়।  যার প্রস্তুতি কমপক্ষে ৬ মাস আগে থেকে শুরু করতে হয়। আমাদের অন্যান্য অংশিদার দেশগুলো থেকেও নির্বাচনি পর্যবেক্ষক পাঠানোর চাপ রয়েছে। ফলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ইইউ হেডকোয়ার্টার নির্বাচনি পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। ফলে যতগুলো দেশ থেকে নির্বাচনি পর্যবেক্ষক পাঠানোর অনুরোধ এসেছে, তার সবগুলো রাখা ইইউর পক্ষে সম্ভব নয়।তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে নির্বাচনি পর্যবেক্ষক ইইউ পাঠায়নি। তবে ইইউ চেষ্টা করেছে একটি নির্বাচনি বিশেষজ্ঞ দল প্রেরণের। যার মাধ্যমে ইইউ বাংলাদেশের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে। নির্বাচন কমিশনকে ইইউ পক্ষ থেকে কি ধরনের সুপারিশ করা হয়েছে এবং তার জবাবে ইসি থেকে কি জানানো হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সাফল্য কামনা করেছি। কারণ ১০ কোটি ৪০ লাখ ভোটার এবং ৪০ হাজার নির্বাচনি কেন্দ্র নিয়ে ইসির সামনে একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ আসছে। এটি একটি বড় কর্মজজ্ঞ। আমরা আশা করি এটি একটি বেশ প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হবে। সেই সঙ্গে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।টেরিংকে বলেন, ইইউ নির্বাচনি বিশেষজ্ঞ দলের সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি বলেন, তাদের সফরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের নির্বাচনে ইইউ আগ্রহ রয়েছে তা প্রকাশ করা। ইইউ বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচনের দিকে চোখ রাখছে। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা, কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন ছিল গতকাল।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments