পঞ্চগড়ে ধর্ষিত ছাত্রী, মামলা তুলে নিতে চাপ


সিনিউজ, পঞ্চগড়: পঞ্চগড়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করার পর থেকেই ধর্ষক পরিবারের হুমকিতে পড়েছেন ধর্ষণের শিকার কিশোরীর পরিবার। মামলা তুলে নিয়ে শালিসে বসার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালীদের দিয়ে প্রতিনিয়ত চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

গত ৯ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড় পৌর এলাকার দশম শ্রেণি পড়ুয়া ওই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে জগদীশ চন্দ্র রায় (২৮) নামে ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার মহলবাড়ি এলাকার এক যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দেয় স্থানীয়রা। পরদিন ওই ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বড় ভাই বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় জগদীশকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। কিন্তু মামলার পর থেকে স্বস্তিতে নেই ওই কিশোরীর পরিবার। মামলার পর থেকেই ধর্ষক পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে তাদেরকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। বিষয় শালিসের মাধ্যমে সমঝোতা করার জন্য জোর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। আর এই কাজে ধর্ষক পরিবার বেছে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের। তাদের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। মামলা করে ধর্ষক পরিবারের হুমকিতে এখন দিশেহারা দরিদ্র ওই কিশোরীর পরিবার। 

ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার মহলবাড়ি এলাকার সুরেন চন্দ্রের ছেলে জগদীশ চন্দ্র রায় (৩০)। পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে পড়ছে। থাকতো পঞ্চগড়েই। ৫ বছর ধরে ওই ছাত্রীকে গৃহশিক্ষক হিসেবে পড়িয়ে আসছে জগদীশ। ওই কিশোরী যখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়তো তখনই ধর্ষণ করে জগদীশ। এরপর ভয়ভীতি ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। ওই কিশোরী মা ও ভাই বাইরে কাজ করেন। তাই বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ওই কিশোরীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক চালিয়ে যায় গৃহশিক্ষক জগদীশ।

ওই কিশোরী জানান, এমন কোনো দিন নেই যে তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করছে না। এমনকি সমঝোতায় বসার জন্য বাড়িতে লোক পাঠিয়ে দিচ্ছে। তাদের এমন নির্যাতনে আমরা ঘরে বাইরে স্বস্তি পাচ্ছি না।

কিশোরীর মা বলেন, বার বার তারা টাকা দিয়ে বিষয়টি সমঝোতা করতে চাপ দিচ্ছে। কখনো মোবাইল ফোনে আবার কখনো সরাসরি। আমি তাদের বার বার বলেছি যে আমি আমার মেয়ের ধর্ষণের বিচারের জন্য মামলা করেছি আদালতে যা হবে আমি তাই মেনে নিবো। আমি বিচার চাই, টাকা চাই না। তারপরও তারা আমাদের চাপ দিয়ে যাচ্ছে। তাদের ভয়ে আমাদের পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পঞ্চগড় সদর থানার উপ-পরিদর্শক ভবেশ চন্দ্র রায় বলেন, ওই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি তদন্তাধিন রয়েছে। খুব শিগগিরই চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। এখানে সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। যারা ওই কিশোরীকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে তাদের তথ্য আমাদেরকে দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব। 

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments