জাতীয়

ছাত্রলীগ নেতাদের ঈদ-সেলামি দেইনি: জাবি উপাচার্য


সিনিউজ: উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বুধবার থেকে দুদিন সর্বাত্মক ধর্মঘট কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এ কর্মসূচিকে অযৌক্তিক দাবি আন্দোলনকারীদের ধর্মঘটপ্রত্যাহারের আহবান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি ড. ফারজানা। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ছাত্রলীগ নেতাকে ঈদ সেলামি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীর একাংশের ধর্মঘট কর্মসূচি ঘোষণার পর বিকালে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান।

ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, আইনগত সকল নিয়ম অনুসরণ করেই বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান উন্নয়ন মহাপরিকল্পনার নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে আমার বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির যে অভিযোগ ওঠেছে, তার কোনো প্রমাণ নেই। এসব উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের উর্দ্ধতনদের অবহিত করেছি এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছি।।

ছাত্রলীগ নেতাদের কোটি ঈদ সেলামি দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে জাবি ভিসি বলেন, এটি সত্যের অপলাপ মাত্র। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আমার নীতিবিরুদ্ধ। ছাত্রলীগের নেতাদের আমি কেন সেলামি দেব? এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন বিরোধে একটি চক্র নিজেদের উদ্দেশ্য চরিতার্থে জন্য এই অপপ্রচার চালিয়েছে।

আন্দোলনরত ছাত্র-শিক্ষকদের ধর্মঘট কর্মসূচি প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় অংশীদার হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সুনাম অক্ষুণ্ন আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমি আশা করবো, বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্র-শিক্ষক সংগঠনগুলো নিজ নিজ কর্মসূচি পালনে সতর্ক ও সহনশীল হবে।

প্রসঙ্গত, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’–এর ব্যানারে এক মাস ধরে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নিয়ে উপাচার্য ফারজানা ইসলামের ‘মধ্যস্থতায়’ ছাত্রলীগের নেতাদের বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তদন্তসহ তিন দফা দাবিতে তাঁদের এ আন্দোলন। এ ছাড়া ‘পূর্ণাঙ্গ মহাপরিকল্পনা’ ছাড়া এসব উন্নয়ন প্রকল্প বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের ক্ষতি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের। এসব দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে দুদফা বৈঠকে সমঝোতা না হওয়ায় উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments