বাংলাদেশ

বেসরকারি হাসপাতালে নৈরাজ্য


সি নিউজ ডেস্ক : অসচ্ছল রোগীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হাসপাতালে ১০ ভাগ ফ্রি বেড থাকার নিয়ম থাকলেও নিয়ম মেনে ফ্রি বেডের সুবিধা দিচ্ছে না অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল। রাখছে না সব ওয়ার্ডে ১০ শতাংশ বিনা খরচের শয্যাও। আদায় হচ্ছে নানা রকমের বিল।

কৃত্রিমভাবে তৈরি নানা জটিলতায়, বেশিরভাগ হাসপাতালের ফ্রি বেডগুলোই এখন রোগী শূন্য। অনিয়মের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

রাজধানীতে বেসরকারি হাসপাতাল পপুলারে ৫’শ শয্যা থাকলেও নিয়ম অনুযায়ী সব ওয়ার্ডেই শতকরা ১০ ভাগ ফ্রি বেডের বিষয়টি মানা হয়নি। ভাড়া ছাড়া আদায় হচ্ছে সব ধরনের বিল।

বগুড়া থেকে ফ্রি বেডে চিকিৎসা নিতে এসে ৪ দিনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিল ২৩ হাজার টাকা দিতে হয়েছে জনৈক্য মোতাহারকে। একই বিপাকে পড়তে হয়েছে অনেককেই।

কেয়ার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬০ রোগীর বিপরীতে ফ্রি বেডে মাত্র একজন। সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেলে ১৫০ রোগীর মধ্যে এ সুবিধা পেয়েছেন ৪ জন। চিহ্নিত করা হয়নি বিনা খরচের শয্যাও।

সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেলের ব্যবস্থাপক এ কে এম মুজিবুর রহমান বলেন, ফ্রি বেড চিহ্নিত না করার মূল কারণ হলো রোগী হয় তো মনোকষ্টে পড়বেন। তাই ফ্রি বেড চিহ্নিত করা হয় না।

শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেন, রোগীরা শুধু বঙ্গবন্ধু মেডিকেল ও ঢাকা মেডিকেলে ফ্রি চিকিৎসা নিতে যায়। তারা প্রাইভেট হাসপাতালে ফ্রি বেডের চিকিৎসা নিতে যায় না। তারা মনে করে, বেসরকারি হাসপাতালে আসলেই ব্যয়হুল চিকিৎসা হবে।

মেডিকেল শিক্ষা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক এ কে এম আহসান হাবিব বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে ১০ ভাগ ফ্রি বেড থাকার নিয়ম করা হয়েছিলো অসচ্ছল রোগীর চিকিৎসা ও শিক্ষার্থীকে পাঠদানের সুবিধা দিতে। এখানে ওষুধ ছাড়া সব সেবা দিতে হবে বিনামূল্যে। এই বিষয়ে কিছু কিছু অভিযোগ আছে। বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে যে সব হাসপাতাল বিনামূল্যে ১০ ভাগ বেড ও চিকিৎসা-সুবিধা দিচ্ছে না, এর তালিকা চেয়েছে হাইকোর্ট। ৮ মে’র মধ্যে তা জমা দিতে বলা হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগকে।
 

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments