বাংলাদেশ

গাড়িচালকের জন্য ১২ পয়েন্ট, কাটা গেলে লাইসেন্স বাতিল


 

সি নিউজ: নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে সরকার নতুন সড়ক পরিবহন আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। আজ সোমবার মন্ত্রিসভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। এখন আইনটি পাসের জন্য সংসদে তোলা হবে। নতুন আইনে বেপরোয়াভাবে বা অবহেলা করে গাড়ি চালানোর কারণে কেউ গুরুতর আহত বা নিহত হলে মামলা হবে দণ্ডবিধির ৩০৪ (খ) ধারায়। এই ধারায় সাজা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড এবং সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা। বর্তমানে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ডের বিধান আছে। তবে এই সর্বোচ্চ শাস্তি বাদেও আরও কিছু উল্লেখযোগ্য বিষয় আইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার অনেক কিছু পর্যালোচনার আইনটি নতুনভাবে করেছে। আগের আইনে ১৭৭টি ধারা ছিল। আজকের অনুমোদন হওয়া আইনে ১২৪টি ধারা ও ১৩টি অধ্যায় করা হয়েছে। ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ তে আগের থেকে একটি অধ্যায় বাড়ানো হয়েছে।নতুন এ আইনের উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে- সারাবিশ্বে ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যাপারে পয়েন্ট কাটার ব্যবস্থা আছে। একজন ড্রাইভার বা গাড়িচালক অপরাধ করে থাকলে তা পয়েন্ট কাটা যেতে থাকে। আমাদের বাংলাদেশেও সেই আধুনিক ব্যবস্থা এবার চালু করা হয়েছে।’ আইনমন্ত্রী বলেন, নতুন আইনে গাড়িচালকের জন্য মোট ১২টি পয়েন্ট থাকবে। অপরাধ করলে তার এক এক করে পয়েন্ট কাটা যাবে। পয়েন্ট সব শেষ হয়ে গেলে ওই গাড়িচালক লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে।

নতুন আইনে যা আছে: 

আইনের ধারা ৬ এ বলা হয়েছে, ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য বয়স হতে হবে ১৮ বছর। পেশাদার হলে বয়স হতে হবে ২১ বছর। এছাড়া লাইসেন্সধারী হতে চাইলে ন্যূনতম যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণী বা সমমানের যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে। ১২ ধারায় বলা আছে, লাইসেন্সধারী কোনও ব্যক্তি শারীরিকভাবে অক্ষম, অপ্রকৃতিস্থ, মদ্যপ হলে তার লাইসেন্স প্রত্যাহার-স্থগিত করা যাবে। নতুন আইনে যানবাহনের চালক, হেলপারসহ পরিবহন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করা হবে। এটি গেজেট বা প্রজ্ঞাপনে নেই। শ্রম আইন ২০০৬ এর সঙ্গে মিল করে কর্মঘণ্টা সরকার ঠিক করবে। আইনের নতুন ধারায় মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন সংখ্যা, সীমানা নির্ধারণ, মোটরযানের ইকোনোমিক লাইফ, গতিসীমা, শব্দমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনার কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক সহায়তা তহবিলের বিষয়টি আইনে যোগ করা হয়েছে। লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চালানোসহ নানা অপরাধে এই আইনে শাস্তির বিধান থাকলেও দুর্ঘটনার কারণে মৃত্যু বা ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ থাকলে তার বিচার ফৌজদারি আইনেই হবে। উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সালের মোটরযান অধ্যাদেশ সংশোধন, পরিমার্জন ও সংশোধন করে একটি আইন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ২০১৩ সালে। এরপর গত বছরের ২৭ মার্চ মন্ত্রিসভার বৈঠকে কিছু পর্যবেক্ষণসহ আইনটি নীতিগত অনুমোদন পায়। প্রায় ১৪ মাস পর আইনটির খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হলো।

 

Admin

0 Comments

Please login to start comments