৮ বছর আগে তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী কাজ না করায় ফের আগুন


সি নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারে ৮ বছর আগেও অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছিল। ওই সময় তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদনও জমা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ভবনে আগুন প্রতিরোধে করনীয় কোনো নির্দেশনাই মানা হয়নি। ফলে, ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটিতে ফের ভয়াবহ আগুনে প্রাণ গেল ২৫ মানুষের।

ফায়ার সার্ভিস, সিটি করপোরেশন কর্মকর্তা ও আশেপাশের মানুষের সাথে কথা বলে এসব বিষয়ে জানা যায়।

ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (ঢাকা মেট্টো) দেবাশীষ বর্ধন বলেন, ভবনটি অগ্নি নিরাপত্তার জন্য ন্যূনতম কোনো সিস্টেম নেই। যে লিফট রয়েছে সেটিও ছোট, সিঁড়ি রয়েছে ২ ফুট আর ৪ ফুটের। জরুরি বের হওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এক ভবনের সাথে আরেক ভবন লাগানো অবস্থায় রয়েছে, ফলে বাকি ভবনগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।

তিনি বলেন, ৮ বছর আগে এই ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় অগ্নি নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সুপারিশ অনুযায়ী কোনো পরিবর্তন আসেনি ভবনে। ফলে ফের আগুন লাগল এবং ২৫ জন মারা গেল। সামান্য এস্টিংগুইসার পর্যন্ত নেই এই ভবনে। যেখানে প্রতি ফ্লোরে অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্র থাকা দরকার। এই ধরনের ভবনে সাধারণত জরুরি বের হওয়ার জন্য নির্গমনের পথ থাকে সেটিও নেই এখানে।

বনানী কামাল আতাতুর্ক এ্যাভিনিউয়ের বাসিন্দা হাজী লোকমান গাজী বলেন, এফআর টাওয়ার বরাবর ২ দিকে অন্তত ১৫/২০ টি ভবন আছে যেগুলোর একটিরও অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। এর আগে একবার আগুন লেগেছিল তখন বেশ কয়েকজনের প্রাণহানি হয়েছিল।

ওই সময়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কেন ব্যবস্থা নেয়া হলো না সে বিষয়ে সিটি করপোরেশন বা রাজউক কোনো তদারকি করেনি। সবশেষ ২০১৭ সালে ফায়ার সার্ভিস এসব ভবনে অগ্নি নিরাপত্তা জোরদার করতে পুনরায় তাগিদ দিয়ে চিঠি দেয়। এরপরও কোনো কাজ করা হয়নি।

এদিকে, রাজউক সূত্রে জানা যায়, বনানীর এফআর নামে ভবনটি রাজউক থেকে ১৫ তলার অনুমতি পেয়েছে। ভবনটি প্রথম দিকে ১৫ তলাই করা ছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে ১৫ তলার ওপর একে একে আরও ৭ তলা করা হয়। এফআর টাওয়ারের মালিক ইঞ্জিনিয়ার ফারুক হোসেন কিভাবে এই ভবনে নকশা বহির্ভূত আরও ৭ তলা করলেন তা কেউ জানেন না।

গতকাল (২৮ মার্চ) রাতে ফারুক হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি এর কোনো উত্তর দিতে পারেননি। কিছুক্ষণ পর তিনি বলেন, কাশেম গ্রুপ জোর করে ২০, ২১ ও ২২ তলা বানিয়েছে। এখানে ভবন মালিক ও ভবন পরিচালনা মালিকদের সাথে সুসম্পর্ক না থাকার কারণে কারো খবর কেউ নেয় না আর কারও কথা কেউ শোনেন না বলে জানান তিনি।

তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, নকশা বহির্ভূত ভবন হয়ে থাকলে তার মালিক ও এর পেছনে যাদের হাত রয়েছে তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে।

আর মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, খুব শিগগিরই পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে উত্তর সিটি করপোরেশনের সব ভবনের নকশা জমা দিতে হবে। যেসব ভবন নকশার বাইরে নির্মাণ করা হয়েছে ওইসব ভবনে অভিযান চালানো হবে এবং প্রয়োজনে ভেঙ্গে ফেলা হবে। গুলশান ও উত্তরের এলাকায় যত ভবন আছে সেগুলোর ফায়ার ফাইটিং নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে।

অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, ভবনের ভেতরে ফিনাইল বোর্ড দিয়ে ডেকোরেশন করা ছিল। এই বোর্ডের কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এগুলোর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে ও আগুনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফিনাইল বোর্ডসহ প্লাস্টিকের যেসব আইটেম ছিল সেগুলো ওয়ান কাইন্ড অব ফুয়েলের মতো। এগুলোতে আগুন লাগলে দ্রুত ছড়িয়ে যায় এবং তাই হয়েছে।

এছাড়া অনেক ইলেক্ট্রনিকস যন্ত্রপাতি ছিল বিশেষ করে কম্পিউটার, এসি ও ইলেক্ট্রিক ক্যাবল। ফ্লোরে কার্পেট থাকার কারণে আগুনের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবনের ভেতরে ফায়ার ফাইটিং সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সামান্য কিছু যন্ত্রপাতি ছিল যেগুলো ব্যবহার উপযোগী ছিল না।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments