জাতীয়

‘৮ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত বুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ’


সিনিউজ: বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে ৮ দফা দাবি আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এসব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, আবরার হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।

আবরারের খুনিদের ফাঁসিসহ ৮ দফা দাবিতে মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সকাল থেকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে বুয়েট শহীদ মিনারে সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা সাংবাদিকদের সামনে আট দফা দাবি তুলে ধরেন।

তাদের দাবিগুলো হলো-

১. খুনীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২. ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিশ্চিতভাবে শনাক্তকৃত খুনীদের সকলের ছাত্রত্ব আজীবন বহিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে।

৩. দায়েরকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি করতে হবে।

৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি তা তাকে সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ বিকেল পাঁচটার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে। একই সঙ্গে ডিএসডব্লিউ স্যার কেন ঘটনাস্থল থেকে পলায়ন করেছেন তা উনাকে আজ বিকেল পাঁচটার মধ্যে সকলের সামনে জবাবদিহি করতে হবে।

৫. আবাসিক হলগুলোতে র‍্যাগের নামে এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সকল প্রকার শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনকে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। একইসঙ্গে আহসানউল্লাহ হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল ১১ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখ বিকেল পাঁচটার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।

৬. রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখ বিকেল পাঁচটার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।

৭. মামলা চলাকালীন সকল খরচ এবং আবরারের পরিবারের সকল ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

৮. এছাড়া আগামী সাত দিনের মধ্যে বুয়েট সব ছাত্রসংগঠনের সাংগঠননিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেয় তারা।

শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক মিজানুর রহমান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে আসলে আন্দোলনকারীরা তাকে ঘিরে ধরেন। এসময় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের জন্য তার কাছে দাবি জানান।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘স্যার, যে ঘটনা ঘটলো ক্যাম্পাসে। তাতে আপনি ছাত্ররাজনীতি বন্ধের ঘোষণা দেবেন কিনা।’ কিন্তু শিক্ষার্থীরা ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের কাছ থেকে সন্তোষজনক জবাব না পেয়ে তোপের মুখে পড়েন তিনি।

পরে অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন নেই।’

এসময় শিক্ষার্থীরা করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments