৩৭ লাখ টাকার পর্দা কেনার দুর্নীতি বালিশ কেনার দুর্নীতির কাছে হেরে গেছে: ফখরুল


সিনিউজ:  বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এক হাসপাতালে (ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ) ৩৭ লাখ টাকার পর্দা কেনার দুর্নীতি বালিশ কেনার দুর্নীতির কাছে হেরে গেছে। অর্থাৎ পর্দার কাছে হেরে গেছে বালিশ। এই হচ্ছে বর্তমান অবস্থা, চারদিকে শুধু লুট ও লুটেরা। এ অবস্থায় চলছে এখন দেশে।

শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন হলমার্ককে আবার সুযোগ দেয়া হবে। অর্থাৎ লুটেরা অর্থনীতিকে আবার লুটেরার মধ্য দিয়ে নিয়ে আসা হবে। এদের চরিত্র হচ্ছে এরা লুটেরা। এমনভাবে লুট করছে যে, এ দেশ ফোকলা একটা দেশে পরিণত হতে চলেছে। অর্থনীতি ফোকলা হতে চলেছে। মেগা প্রজেক্ট হচ্ছে মেগা চুরি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সাইফুর রহমান একজন দেশপ্রেমিক ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের আমলে আসা সাপ্লাইয়ার্স ক্রেডিটের প্রজেক্ট বাতিল করে দিয়েছিলো। সেকারণে মাইক্রো ইকোনমিক্স যেকোনো অর্থনীতিবিদকে জিজ্ঞাসা করলে দেখবেন তারা বলবেন, সাইফুর রহমান সাহেবের সময়ে সামষ্টিক অর্থনীতি ছিলো সবচেয়ে ভালো। ইচ্ছা করে নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য বা দলের লোকদের লাভবান করার জন্য সাইফুর রহমানরা দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেননি। এটা খুব বড় কথা- দেশ বিক্রি করে দেননি।

বিএনপির সময়ে ব্যাংকের অনুমতি না দেয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, খুব চাপ ছিলো নতুন ব্যাংক দেয়ার, লিজিং কোম্পনি দিতে হবে। তিনি(সাইফুর রহমান) শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত দেননি। আমাদের লোকেরাও বিক্ষুব্ধ উনি দেননি। অনেকে ব্যবসায়ী ছিলেন তারা বলেছেন যে, আমরা পাইনি। আজকে প্রমাণ হয়েছে এই যে ব্যাঙের ছাতার মতো ব্যাংক দিয়েছে, ব্যাঙগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে আছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক অর্থমন্ত্রীর প্রশংসা করে সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, জাতীয় সম্পদ যাতে গুটিকয়েকের মধ্যে সীমাবদ্ধ হতে না পারে যাতে করে জনগনের কাছে পৌছানো যায় অর্থাৎ সম্পদের সুষম বন্টন করার জন্য সবসময়ে সাইফুর রহমানের সাহেব সংগ্রাম করতেন। আমরা তার জনিয়র সহকর্মী হিসেবে কাছে থেকে তা দেখেছি। আমি দেখেছি উনি কিভাবে ধনীদের থেকে সম্পদ এনে সাধারণ মানুষের কাছে বিতরন করতেন- এটা করার চেষ্টা করতেন।

তিনি বলেন, আমাদের সময়ে, সাইফুর রহমান সাহেবের সময় উন্নয়নের ব্যাপারে গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন সবচাইতে বেশি হয়েছে, অর্থ সেখানে বেশি দেয়া হয়েছে। আজকে ওই গ্রামীন অবকাঠামো খুঁজে দেখেন সেই জায়গায় কোনো বরাদ্ধ নাই। পদ্মাসেতুতে আছে, ফ্লাইওভারে আছে, মেট্রোরেলে আছে। বিদেশীরা কাজটা পাচ্ছে, তারা টাকা নিয়ে গেছে, মালামাল তাদের দেশের থেকে নিয়ে যাচ্ছে। আজকে সুষম বন্টন বন্ধ হয়ে গেছে। সাইফুর রহমান সাহেবকে ওই ভাবে আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে।

সাবেক অর্থমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশে অর্থনীতির মোড় যারা ঘুরিয়েছিলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসকে যারা পাল্টিয়ে দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে সাইফুর রহমান অন্যতম।

তিনি বলেন, সাইফুর রহমান সাহেবরা সবসময় জন্মায় না, তারা ক্ষনজন্মা। জিয়াউর রহমানের এই কৃতিত্ব ছিলো তিনি গ্যালাক্সি অব জুয়েলস নিয়ে এসেছিলেন, তিনি কতগুলো উজ্জল নক্ষত্রকে তুলে নিয়ে এসেছিলেন যারা দেশটাকে ওই বটমলেস বাসকেট থেকে সমৃদ্ধির বাংলাদেশে নিয়ে গিয়েছিলেন। আমি আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বলেছিলাম, বিদেশিরা এখনো মনে করে যদি জিয়াউর রহমানের জন্ম না হতো তিনি যদি বাংলাদেশের পলিটিক্সে না আসতেন তাহলে বাংলাদেশ একটা ফেইলড স্টেটে পরিণত হতো।

সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে সরকার বড় বড় কথা বলে। সব কিছু তাদের নিয়ন্ত্রনে। গণমাধ্যম তাদের নিয়ন্ত্রনে। সরকার কথা বলতে দেয় না। তারা চায় না সত্য প্রকাশ হোক।

আজকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রেখেছে শুধু একটা মাত্র কারণে যে, উনি যদি বাইরে থাকেন তাহলে লুটপাট চলবে না। এভাবে মানুষের অধিকারকে বিনষ্ট করা যাবে না। ঠিকই উনি সমগ্র মানুষকে নিয়ে সেটাকে প্রতিহত করবেন। ইনশাআল্লাহ এদেশের মানুষ অবশ্যই দেশনেত্রীকে মুক্ত করে আনবে, গণতন্ত্রকে মুক্ত করবে এবং লুটপাট প্রতিহত করবে।

বিএনপি নেতা কাইয়ুম চৌধুরী ও এজিএম শামসুল হকের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও সাইফুর রহমানের ছেলে সাবেক এমপি এম নাসের রহমান বক্তব্য রাখেন।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments