হাওয়াই দ্বীপে রহস্যময় শব্দ!

হাওয়াই দ্বীপে রহস্যময় শব্দ!

সি নিউজ : সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইতে অদ্ভুত শব্দ শুনতে পাচ্ছেন সেখানকার মানুষ। শব্দটার সঙ্গে চেনা আওয়াজের কোনো মিল না থাকায় সেখানকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টার শনিবার এক প্রতিবেদনে জানায়, গত কয়েকদিন ধরেই হাওয়াই দ্বীপের বেশ কিছু স্থান থেকে রহস্যময় শব্দটি শোনা যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে পৃথিবীর বহু স্থানেই নাকি এমন অদ্ভুত শব্দ শোনা গিয়েছিল। কিন্তু কোনোটারই শব্দের উৎস সম্পর্কে জানা যায়নি।
স্থানীয় অনেকের মতে, বাইবেলে উল্লিখিত সাত বাঁশির সুরের একটি হতে পারে এটি। নিউ টেস্টামেন্টে উল্লেখ আছে, সভ্যতার শেষ দিকে যখন যিশুর আগমনের সময় এসে যাবে তার আগে বিশেষ সাতটি সুর একে একে বিশ্ব ব্রহ্মান্ডে বেজে উঠবে। আর খুলতে শুরু করবে একটি একটি করে দুর্যোগের অধ্যায়। ইশ্বরের ইচ্ছায় সাত দেবদূতের কাছে থাকা শিঙা একে একে বাজতে থাকবে।
স্থানীয়দের মতে, একে একে বেজে ওঠা সেই শিঙার আওয়াজই এটি। অর্থাৎ সভ্যতার শেষ প্রায় সমাগত। পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখার জন্য মানুষ কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হওয়াই এর মূল কারণ বলে মত তাদের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশের পরই তা ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকে সভ্যতার এমন পরিণতির জন্য শক্তিমান দেশগুলোর রাষ্ট্রনেতাদের দায়ী করেন।
কেউ আবার মজা করে লেখেন, দেশের খোদ প্রেসিডেন্টের কানে কি শব্দটা পৌঁছেছে। তিনিই তো পৃথিবীর জলবায়ু ধ্বংস করার মূল উদ্যোক্তা।
তবে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলেও কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। বিজ্ঞানীরাও এমন রহস্যময় শব্দ সম্পর্কে কোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এর আগে যখন রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যে এমন শব্দ শোনা গিয়েছিল বলে দাবি উঠেছিল, তখনও আধুনিক বিজ্ঞান নিশ্চুপই ছিল। এদিকে, রহস্যময় শব্দের উৎপত্তি নিয়ে অপর এক পক্ষ ভিন্ন দাবি তুলেছে। তাদের দাবি, এই শব্দের সঙ্গে সৌরজগতের ১০ম গ্রহও দায়ী থাকতে পারে।
তারা এই শব্দের সঙ্গে রহস্যময় নিবিরু গ্রহের আগমনের সম্ভাবনা দেখছেন। এই শব্দের সঙ্গে তারা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে দেখা দুটি সূর্যের উদাহরণও জুড়ে দেন।
অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞানমনস্ক কেউ কেউ দাবি করেন, প্রাকৃতিক কারণেই এমন অদ্ভুত শব্দের সৃষ্টি হয়েছে। এর পেছনে ভূগর্ভস্থ পানির প্রবাহ, সুড়ঙ্গ থেকে বের হওয়া প্রবল বাতাস, ভূগর্ভস্থ ভূমিকম্পকেও দায়ী করেন। যদিও এসব যুক্তির কোনোটিরই জোড়াল প্রমাণ নেই।