লাইফস্টাইল

হাইপো থাইরয়েডিজম : যেসব খাবার পরিহার করতে হবে


সি নিউজ ডেস্ক : খাদ্যে এমন কিছু উপাদান আছে যেগুলো থাইরয়েড হরমোনের ফাংশনকে সঠিকভাবে কাজ করতে দেয়না। তাই,যাদের হাইপো থাইরয়েডিজম অনিয়ন্ত্রিত তাদের উচিত নীচের খাবার গুলো বাদ দেয়া। যাদের নিয়ন্ত্রিত হাইপো থাইরয়েডিজম আছে তারা সীমিত পরিমাণে খেতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেয়া উচিত। অনেকের অনেক প্রিয় খাবার হয়ত বাদ পড়তে পারে। তবে সুস্থ থাকাটা সবার আগে প্রাধান্য পাওয়া উচিত। 

যে খাবারগুলো খেতে পারবেন না 
যতদিন থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে না আসে ততদিন পর্যন্ত নিম্নে লিখিত খাবারগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।পাশাপাশি, মেডিসিন সঠিক ভাবে চালিয়ে যেতে হবে।আর কখন কি পরিমাণে ,কোন খাবার গ্রহণ করা যাবে সে বিষয়ে ডাক্তার এবং পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।
 গ্লুটেন সমৃদ্ধ খাবার 
গমের তৈরি যেকোন খাবারে গ্লুটেন থাকে।আর গ্লুটেন অন্ত্রের কার্যকারিতাকে বাঁধাগ্রস্ত করে এবং দেহে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
সেজন্য,গমের তৈরি যেকোন খাবার যেমন: নুডুলস,পাস্তা,সুজি,ম্যাকারনি,স্প্যাগেটি,ব্রেড খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে । অথবা সীমিত পরিমাণে খেতে হবে। তবে,চালের আটার তৈরি নুডুলস,পাস্তা বা কেক খাওয়া যাবে।কারণ এগুলো গ্লূটেন ফ্রি।
সয়া ফুড
টফু,মীসো,সয়ামিল্ক,সয়াসস বা সয়াবিন তেল হাইপো থাইরয়েডিজমে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য স্বাস্থ্যসম্মত নয়।তাই,যেকোন ধরণের সয়া ফুড পরিহার করা উচিত। কারণ,সয়া ফুড থাইরক্সিন শোষণে বাঁধা প্রদান করে।
ক্রুসিফেরাস এবং গয়ট্রজেনাস গোত্রের খাদ্য
ফুলকপি,বাঁধাকপি,মূলা,সরিষা শাক,শালগম, ব্রকলি,লেটুস, কলমি শাক, কুমড়ার বীচি, শালগম, সাদামূলা, বেগুন প্রভৃতি সবজি আয়োডিন শোষণে বাঁধা প্রদান করে।তাই এই খাবার গুলো পরিহার করা উচিত।
এই ধরণের সবজি যদি খেতে ইচ্ছা করে তবে খুব ভালভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে। অতিরিক্ত পরিমানে এবং কাঁচা অবস্থায় খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
কফি এবং অ্যালকোহল
কফি পানে সবচেয়ে বড় অপকারিতা হল কফি হাইপো থাইরয়েডিজমের মেডিসিন শোষণে বাঁধা প্রদান করে। অপরদিকে,এটা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত যে অ্যালকোহল থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতাকে বাঁধাগ্রস্ত করে। সুতরাং,কফি এবং অ্যালকোহল উভয় ধরণের পানীয় বাদ দিতে হবে যদি সুস্থ থাকতে চান।
চাষের মাছ, মুরগি, ডিম বা জেনিটিক্যালি মডিফাইড ফুড
চাষ করা মাছ,মুরগী মানেই হল কৃত্রিম ভাবে হরমোন বা এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা,যা একজন থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য বিপদজনক বলে বিবেচিত।তাই, চাষকৃত মাছ, মুরগী এবং ডিম বা অন্য যে কোন খাদ্য যা জেনেটিক্যালি মডিফাই করা তা পরিহার করা উচিত।
প্রসেস ফুড,ফাস্ট ফুড এবং কার্বোনেটেড বেভারেজ এবং চিনি
সুস্থ থাকার জন্য একজন হাইপো থাইরয়েডিজম রোগীকে অবশ্যই ঘরে তৈরি সুষম এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে।পাশাপাশি,বাইরের খাবার, ফ্রোজেন ফুড,সাদা চিনি এবং কোমল পানীয় পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
ভেজিটেবল অয়েল 
রান্নায় তেলের ব্যবহার অপরিহার্য।তবে বর্তমানে আমরা রান্নায় যে ভেজিটেবল অয়েলব্যবহার করি যেমন: সয়াবিন তেল,সরিষার তেল,ভুট্টার তেল,ক্যানলা অয়েল,সূর্যমুখীর তেল প্রভৃতি নানা ভাবে প্রসেস করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে এগুলো জেনেটিক্যালি মডিফাইড।যা,আমাদের দেহের হরমোনের ভারসাম্য কে বিনষ্ট করতে পারে। এই ভেজিটেবল অয়েল যা মূলত পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের উৎস এবং এটি তিন ভাবে থাইরয়েডের কার্যকারিতা কে বাঁধাগ্রস্ত করে। প্রথমত,থাইরয়েড গ্লান্ডকে থাইরয়েড হরমোন প্রোডাকশনে বাঁধা দেয়।

দ্বিতীয়ত,থাইরয়েড হরমোনকে রক্তের মাধ্যমে পরিভ্রমণ করে সেল এ প্রবেশ করার প্রক্রিয়াকে বাঁধাগ্রস্ত করে। তৃতীয়ত-সেলকে সঠিক ভাবে থাইরয়েড হরমোন ব্যবহার করতে বাঁধা প্রদান করে। সুতরাং,যাদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য এই ধরণের ভেজিটেবল অয়েল গুলো ব্যবহার বাদ দিলে সুস্থ থাকাতে পারবেন।

সুতরাং,থাইরয়েডের রোগীদের জন্য সব চেয়ে ভাল কুকিং অয়েল হল নারকেলের তেল,অলিভ ওয়েলবা অর্গানিক বাটার।কেননা,এ গুলোর উৎপাদন প্রক্রিয়া ভিন্ন।তবে,অবশ্যয় রান্নায় সীমিত পরিমানে তেল বা বাটার ব্যবহার করতে হবে।

 ট্রান্স ফ্যাট

ট্রান্স ফ্যাট,আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুব খারাপ ধরণের ফ্যাট এবং যাদের থাইরয়েডের সমস্যাস রয়েছে তাদের জন্য আরো খারাপ।
ফ্রোজেন আইটেম, কেক,বিস্কিট,ফাস্ট ফুড,বনস্পতি ঘি,ডোনাট প্রভৃতি খাবারে ট্রান্স ফ্যাট থাকে।আর,প্রতিদিন ১% এর ও কম ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণ করা উচিত।
ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণের পরিমাণ যদি এর চেয়ে বেশি হয় তবে তা হরমোনাল ইম্ব্যালেন্স সহ উচ্চ রক্তচাপ,উচ্চ কোলেস্টেরল,আন হেলদি গাট ব্যক্টেরিয়ার উৎপাদন,পেটের চারদিকে মেদ বৃদ্ধি,কয়েক ধরণের ক্যান্সার, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি সহ আরো নানা ধরণের শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করে।

ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতিত যেকোনো ধরণের ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ
যারা হাইপো থাইরয়েডিজম আক্রান্ত তাদের জন্য কিছু ভিটামিন এবং মিনারেলস জরুরী।তবে,কোন ভিটামিন বা মিনারেলস সাপ্লিমেনট গ্রহণ করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।কেননা, কার জন্য কোন পুষ্টি উপাদান কতটুকু প্রয়োজন তা একজন ডাক্তারই ভালো বুঝবেন।
সঠিক মাত্রাতে যদি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শরীর না পায় তবে তা থেকে লাভের থেকে ক্ষতি বেশি।
যেসব খাবারে কৃত্রিম ভাবে নানা উপাদান যোগ করা হয়
আজকাল বানিজ্যিক ভাবে বা রেস্টুরেন্টে যে খাবার গুলো তৈরি করা হয় তাতে কৃত্রিম ভাবে নানা রকম ক্ষতিকর উপাদান যোগ করা হয়।কখনো খাবারের স্বাদ বাড়াতে,কখনো খাবারকে আকর্ষণীয় করে তুলতে আবার কখনো বা খাবার দীর্ঘ দিন সংরক্ষণের জন্য এসব উপাদান যেমন : মনো সোডিয়াম গ্লুটামেট বা এমএসজি,কর্ন সিরাপ,নাইট্রেটস,সোডিয়াম ফসফেট,হোয়ে প্রোটিন,মডিফাইড স্টার্চ ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকে।যা একজন সুস্থ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ও ভাল নয়।আর একজন হাইপো থাইরয়েডিজমে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য খারাপ তো বটেই।

সুতরাং,বাইরে থেকে খাবার কেনার সময় ফুড লেভেল খুব ভালভাবে পড়ে নেবেন যে কোন কৃত্রিম উপাদান আছে কিনা খাবারটি তে।
যদিও বাইরের খাবার মানেই নানাভাবে প্রিজারভেটিভ,অ্যাডেটিভস বা অন্য কোন কৃত্রিম উপাদান যোগ করা।তাই,সবচেয়ে ভাল হয়,যে খাবারটি খেতে চান ঘরে তৈরি করে খান।
ফ্লুরাইড সমৃদ্ধ পানি
আমরা যে পানি পান করে বেঁচে থাকি বা রান্না বান্নার কাজে ব্যবহার করে থাকি তাতে কোন ক্ষতিকর উপাদান আছে কি নেই তা জানার তেমন সুযোগ বা ইচ্ছা আমাদের নেই।
অথচ জীবন বাঁচানোর জন্য আমরা যে পানি পান করে থাকি তাতে থাকতে পারে ফ্লুরাইডের মত ক্ষতিকর উপাদান।এই ফ্লুরাইড নানাভাবে থাইরয়েডের কার্যকারিতায় ক্ষতি করতে পারে।

তাই,সরাসরি ট্যাপের পানি পান করবেন না।পান করার পুর্বে পানিকে খুব ভালো মানের ফিল্টারের সাহায্যে পানযোগ্য করে নেবেন।  যেন তা ফ্লূরাইড সহ অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান অপসারণ করতে পারে।
ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার এবং সাপ্লিমেন্ট
ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার এবং ক্যালসিয়ামের সাপ্লিমেন্ট উভয় আন্ডার এক্টিভ থাইরয়েডের চিকিৎসায় ব্যবহৃত মেডিসিনের শোষণে বাঁধা দেয়।গরুর দুধ বা লো ফ্যাট মিল্ক উভয়ই উচ্চ ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার।সুতরাং,যাদের হাইপো থাইরয়েডিজম আছে তারা থাইরয়েডের মেডিসিন গ্রহণের পর অন্তত চার ঘন্টা অপেক্ষা করে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার অথবা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করবেন। তাহলে,থাইরয়েডের মেডিসিনের কার্যকারিতায় কোন সমস্যা হবে না।
এছাড়া,অন্যান্য যে উপাদান গুলো থাইরয়েডের মেডিসিনের কার্যকারিতায় বাঁধা প্রদান করে সেগুলো হল:
-আয়রন সাপ্লিমেন্ট অথবা মাল্টি ভিটামিন যেখানে আয়রন রয়েছে
-এন্টাসিড যেখানে ম্যাগনেসিয়াম অথবা অ্যালুমিনিয়াম রয়েছে
-কিছু কোলেস্টেরল লোয়ারিং মেডিসিন এবং আলসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত মেডিসিন আন্ডার এক্টিভ থাইরয়েডের চিকিৎসায় ব্যবহৃত মেডিসিনের শোষণে বাঁধা দেয়।তাই,থাইরয়েডের মেডিসিন গ্রহণের পর পরই এই ধরণের মেডিসিন গ্রহণ করা উচিত নয়।
থাইরয়েডের মেডিসিন গ্রহণের অন্তত ৩-৪ ঘণ্টা আগে অথবা পরে এই ধরণের মেডিসিন গ্রহণ করা ভাল।
এছাড়া,কিছু ফল এবং বাদাম আছে যারা থাইরয়েড হরমোনের কার্যকারিতায় বাঁধা প্রদান করে। সেগুলো হল-কাঠবাদাম,কাজুবাদাম,আখরোট,নাশপাতি,আঙ্গুর,তাল,স্ট্রবেরি,ডুমুর,পীচ ফল। সুতরাং,সুস্থ থাকতে হলে এই খাবার গুলো বাদ দেয়া ভাল।

Admin

0 Comments

Please login to start comments