স্বাধীনতার পর সরকার সমর্থিত ডাকসুর ভিপি-জিএস এই প্রথম


সি নিউজ ডেস্ক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৪ সালে। শুরুতে এর নাম ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাসু)। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশের পর ডাকসু নির্বাচন হয়েছে ৭বার।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর সরকার সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের প্রার্থীরা ডাকসুর শীর্ষ পদে জায়গা পাননি। বরাবরই জয়ী হয়েছেন বিরোধী দল সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের প্রার্থী। কিন্তু এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ভিপি-জিএস হলেন সরকারী দলের অঙ্গ সংগঠন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ।

এ প্রসঙ্গে ১৯৯০ সালের ডাকসুর নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) খায়রুল কবির খোকন বলেন, ‘সরকার সমর্থিত কোনও ছাত্র সংগঠন ডাকসুতে নির্বাচিত হয়েছে এমন ইতিহাস আমার জানা নেই। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তো ছাত্র সংগঠনগুলো ক্যাম্পাসে যেতেই পারেনি।’  

১৯২৪-২৫ সালে প্রথম ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মনোনীত করা হয়। ১৯২৫ সালে ভিপি হন মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। ১৯৫৩ সালে ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে এর ডাসু নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ডাকসু। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

সভাপতি এবং ১৬ জন ছাত্র প্রতিনিধি থেকে ১০ জন কর্মকর্তা নির্বাচনের ব্যবস্থা রাখা হয়। কোষাধ্যক্ষ থাকতেন একজন শিক্ষক। ১৯৫৩ সালে ডাকসুতে পরোক্ষ নির্বাচনের বদলে প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি চালু হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোটে প্রথম নির্বাচন হয়। এতে প্রথম ভিপি ও জিএস নির্বাচিত হন এসএ বারী এটি ও জুলমত আলী খান।

এরপর ভিপি ও জিএস নির্বাচিত হয়েছেন যথাক্রমে নিরোদ বিহারী নাগ ও আবদুর রব চৌধুরী, একরামুল হক ও শাহ আলী হোসেন, বদরুল আলম ও মো. ফজলী হোসেন, আবুল হোসেন ও এটিএম মেহেদী, আমিনুল ইসলাম তুলা ও আশরাফ উদ্দিন মকবুল, বেগম জাহানারা আখতার ও অমূল্য কুমার, এসএম রফিকুল হক ও এনায়েতুর রহমান, শ্যামা প্রসাদ ঘোষ ও কেএম ওবায়দুর রহমান, রাশেদ খান মেনন ও মতিয়া চৌধুরী, বোরহান উদ্দিন ও আসাফুদ্দৌলা, ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী ও শফি আহমেদ, মাহফুজা খানম ও মোরশেদ আলী, তোফায়েল আহমেদ ও নাজিম কামরান চৌধুরী, আসম আবদুর রব ও আবদুল কুদ্দুস মাখন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ডাকসুর ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং জিএস নির্বাচিত হন মাহবুবুর জামান। এরপর প্রায় ৭ বছর পর ১৯৭৯ সালে জাসদ-ছাত্রলীগের প্যানেলে ভিপি হয়েছিলেন মাহমুদুর রহমান মান্না এবং জিএস হয়েছিলেন আখতারুজ্জামান। ১৯৮০ সালে মাহমুদুর রহমান মান্না দ্বিতীয়বারের মতো ভিপি নির্বাচিত হন বাসদ-ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে এবং জিএস হন আখতারুজ্জামান। এরপর ১৯৮২ সালে আখতারুজ্জামান ভিপি নির্বাচিত হন এবং জিএস হন বাসদ-ছাত্রলীগের জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু।

১৯৮৯ সালে এরশাদ সরকারের আমলে ডাকসু নির্বাচনে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ভিপি এবং মুশতাক আহমেদ জিএস নির্বাচিত হন। এই প্যানেলটি ছিল ছাত্রলীগসহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর একটি যৌথ প্যানেল। ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২৮ বছর আগে ১৯৯০ সালে। ১৯৯০ সালের ৬ জুন ডাকসুর ও ১৮টি আবাসিক হল সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।  এই নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল জয় লাভ করে। এ সময় আমান উল্লাহ আমান ভিপি নির্বাচিত হন এবং জিএস হন খায়রুল কবির খোকন। এরপর ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ সরকারের পতনের পর ২৮ বছরে শুধু ডাকসু নয়, কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি।

কিন্তু ২০১৯ সালের ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হলো ডাকসু নির্বাচন। শুধু তাই নয়, ভিপি-জিএসও নির্বাচিত হলেন ছাত্রলীগের।
উল্লেখ্য, নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুসারে ডাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে লড়েন ২২৯ জন প্রার্থী। ডাকসুর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, এবার মোট  ভোটার সংখ্যা ৪২ হাজার ৯২৩ জন।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments