স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজস্ব আয় বর্ধন করতে হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী


সি নিউজ ডেস্ক : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম বলেছেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্ব আদায় বর্ধন করতে হবে। তা না হলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাবলম্বী হতে পারবে না। শুধু সরকারের অনুদানের উপরে নির্ভর করে কোন প্রতিষ্ঠান তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না।

মন্ত্রী বুধবার সকাল ১১টায় শেরপুর শহীদ দারোগ আলী পৌরপার্ক মাঠে শেরপুর পৌরসভার ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে শেরপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইপ মোঃ আতিউর রহমান আতিক এমপি। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এটিএম জিয়াউল হক, পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট চন্দন কুমার পাল পিপি।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করেছিল। ঠিক ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধুর কন্যা ক্ষমতায় এসে দেশকে আজ মধ্যম আয়ের দেশের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ আজ একটি মডেল দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার আগে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৪৩০০ মেগাওয়াট, আর এখন দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ২২ হাজার মেগাওয়াট। আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া।

আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ্ ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের কোন বাড়ি বিদ্যুৎ বিহীন থাকবে না। আমরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করার জন্য বিনামূল্যে পাঠ্য বই বিতরণ করছি। যা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি বিরল দৃষ্টান্ত। আমরা প্রতিটি জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও আইটি সেন্টার স্থাপনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দেশের সকল পৌরসভাকে আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। শুধু প্রকল্প নিলেই চলবে না এর বাস্তবায়ন করতে হলে সকল পৌর নাগরিকদের একযোগে কাজ করতে হবে।

গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ্য ব্যবস্থার উপর বর্তমান সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ কৃষক যেন তার উৎপাদিত ফসল দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে ন্যায্য মূল্য পায়। দেশের যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য ১০০টি ইকনোমিক জোন করা হচ্ছে। এজন্য যুবকদের আইটি শিক্ষার উপর জোর দিতে হবে।

তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে মুজিব ইন্দিরা চুক্তি বাস্তবায়ন করে ভারতের সাথে ছিটমহল সমস্যা সমাধাণ করে ১০ হাজার একর জমি আমরা পেয়েছি। মায়ানমার ও ভারতের কাছ থেকে ১৯ হাজার ৪০ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা আমরা বেশি পেয়েছি।

বিশেষ অতিথির ভাষণে হুইপ আতিক বলেন, শেরপুর জেলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে রূপান্তরিত করতে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, শেরপুর-ময়মনসিংহ সড়কটি ফোরলেনে উন্নতি করণ ও শেরপুর পৌরসভায় একটি আইটি সেন্টার নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। এ ব্যাপারে তিনি মন্ত্রীর সহযোগিতা চান। তিনি আরো বলেন শেরপুরের ৩টি নির্বাচনী এলাকায় বার বার নৌকার প্রতি সমর্থন দিয়ে শেরপুরের জনগণ দেখিয়ে দিয়েছে শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের ঘাটি। এখানে কোন জঙ্গিবাদের স্থান নেই।অনুষ্ঠানের পূর্বে আদিবাসী নারীরা নৃত্য ও গান গেয়ে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments