স্কুলছাত্রীকে ব্লেড দিয়ে কে‌টে রক্তাক্ত ক‌রে পালা‌ল চোর


সিনিউজ, শরীয়তপুর: অন্ধকা‌রে ঘরে ঢু‌কে মালামাল চুরি ক‌রে পালা‌নোর সময় চোরকে চিনে ফেলায় শামীমা নাসরিন (১৪) নামের এক স্কুলছাত্রীকে ব্লেড দিয়ে কেটে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। পু‌লিশ ও স্থানীয়া সূত্র জানায়, সদর উপজেলার চিতলিয়া গ্রামের রুহুল আমীন মৃধার মেয়ে শামীমা নাসরিন স্থানীয় আংগারীয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। রোববার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাদের বসত ঘরে বসে পড়া-লেখা করছিল। তখন ওই ঘরে পরিবারের অন্য সদস্যরা ছিলেন না। হঠাৎ ঘরের ভেতর একটি কক্ষে শব্দ হয়। তখন সে প্রতিবেশী মিন্টু হাওলাদারকে ঘরের মালমাল নিয়ে পালাতে দেখে। তাকে বাঁধা দিতে গেলে মিন্টু হাতে থাকা টর্চলাইট দিয়ে শামীমার মাথায় আঘাত করে। তখন শামীমা অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরে। এ সময় মিন্টু ব্লেড দিয়ে তার হাত কেটে রক্তক্ত করে। স্বজনরা উদ্ধার করে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

চিকিৎসাধীন শামীমা নাসরিন জানায়, সম্ভবত মিন্টু আগে থেকেই ঘরের ভেতর লুকিয়ে ছিল। সন্ধ্যার পর যখন আমি একা ঘরে পড়তে ছিলাম তখন সে ঘরের মালামাল নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাকে চিনে ফেলি। তখন বাঁধা দেই, সে আমাকে আঘাত করে।

ঘটনার পর মিন্টু হাওলাদার গ্রাম থেকে পালিয়ে গেছে। এনিয়ে তার পরিবারের সদস্যরাও কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক কাজী শাহ আব্দুল্লাহ শামীম বলেন, মেয়েটির বাম হাতে বেশ কয়েকটি স্থানে ব্লেটে কাটার চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া মাথায় আঘাত পেয়েছে। শারীরিক ও মানসিক আঘাতের কারণে তার সেরে উঠতে একটু সময় লাগবে।

শরীয়তপুর সদরের আংগারীয় পুলিশ ফাড়ির পরিদর্শক মিন্টু মণ্ডল বলেন, এই ঘটনা শুনে রোববার রাতে জনতা মিন্টুকে স্থানীয় রংয়ের বাজারে আটক করেছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছার আগেই তার আত্মীয়-স্বজনরা তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এখন সে এলাকা থেকে পালিয়েছে। ওই স্কুল ছাত্রীর পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ব্যপারে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হ‌য়ে‌ছে।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments