বাংলাদেশ

সৌদিতে নারী কর্মী নির্যাতন: সরকারকে সহযোগিতায় প্রস্তুত বায়রা


সিনিউজ: সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সরকার নিয়োগকর্তাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সমিতি- বায়রা প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছে।

মধ্য প্রচ্যের দেশটি থেকে নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে নারী কর্মীদের দেশের ফেরার কয়েকটি ঘটনার পর মঙ্গলবার রাজধানীতে গণমাধ্যমের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এতথ্য জানান সমিতির নেতারা।

বায়রা মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী বলেন, সৌদি আরবের শ্রমবাজারে নারী কর্মীদের নিয়ে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়োগকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়া সমাধান সম্ভব নয়।

“মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে, আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইলে, ওই এমপ্লোয়ি সম্পর্কে ডিটেইলস চাইলে, আমরা সব তথ্য মন্ত্রণালয়কে দিয়ে সহযোগিতা করব, যাতে ওই নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় এবং ব্ল্যাকলিস্টেড করা যায়।”

বাংলাদেশের সঙ্গে ২০১৫ সালে চুক্তির ভিত্তিতে সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মী পাঠানো শুরু হয়। গত পাঁচ বছরে প্রায় দুই লাখ নারী গৃহকর্মী পাঠানো হয় মধ্যপ্রাচ্যের রক্ষণশীল মুসলিম দেশটিতে।

কিন্তু সৌদি আরবের বাসা-বাড়িতে কাজ করতে যাওয়া এসব নারীদের অনেকেই অকালে দেশে ফিরে নিয়োগকর্তাদের কাছে নির্যাতিত হওয়ার অভিযোগ করেন।

গত মাসের শেষ সপ্তাহেও বাংলাদেশ দূতাবাসের ‘সেইফ হোমে, আশ্রয় নেওয়া এমন ৬৪ জন নারী শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবের শ্রম বাজার নিয়ে ইস্কাটন রোডে বায়রার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় বায়রা সভাপতি বেনজীর আহমেদ বলেন, “আমরা চাই, সবাই যেন মালয়েশিয়ায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে জনশক্তি রপ্তানি করতে পারে। কেউ কেউ সিন্ডিকেট করার চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু সেই সিন্ডিকেট যেন না হয় সেজন্য আমরা কাজ করছি।

“মালয়েশিয়ায় মাইগ্রেশন খরচ যেন না বাড়ে সেজন্য মন্ত্রণালয় আমাদেরকে বলেছে। আমরা আশা করছি, কেউ নির্ধারিত ফির বেশি গ্রহণ করবে না। দালাল যতই থাকুক, সবাইকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে জনশক্তি নিতে হবে।”

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বাজার। পাঁচ বছরমেয়াদী এই চুক্তির আওতায় ২০১৬ সাল থেকে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে মালয়েশিয়ায় কর্মী নেওয়া হচ্ছে। সরকারের বাইরে দশটি জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সি সেখানে লোক পাঠাতে পারে।

কিন্তু প্রবাসী এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগসাজশে একটি চক্র ওই দশ এজেন্সিকে নিয়ে সিন্ডিকেট করে শ্রমিকদের কাছ থেকে দুই বছরে অন্তত ২০০ কোটি রিঙ্গিত হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠার পর গতবছর ওই ব্যবস্থা স্থগিত করে মালয়শিয়া।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বায়রা সভাপতি বলেন, “গাজীপুরে বায়রা টেকনিক্যাল ট্রেনিং অ্যান্ড টেস্টিং সেন্টার নির্মাণের ক্ষেত্রে আমরা রাজউকের অনুমতি নেওয়ার চেষ্টা করছি।”

মতবিনিময় সভার শুরুতে বায়রার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ, সহ-সভাপতি মনসুর আহমেদ কালামসহ কয়েকজন কার‌্যনির্বাহী কমিটির সভায় অনাস্থা প্রস্তাব তোলার পরও কেন মহাসচিব মতবিনিয়ম সভায় বক্তব্য রাখছেন তা নিয়ে হৈচৈ করেন।

প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে আলোচ্য সূচির বাইরে কথা না বলতে অনুরোধ করলে তারা বসে পড়েন। তবে সভা শেষে একই মঞ্চেই তারা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।

শফিকুল বলেন, “বায়রার ইমেজের কথা চিন্তা করে এতদিন আমরা প্রকাশ্যে কিছুই বলিনি। কিন্তু এখন আমরা বলতে বাধ্য হচ্ছি। সংঘবিধিবিরোধী কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত মেনে নেব না।”

মনসুর বলেন, “বায়রার সভাপতি ও মহাসচিব কার্যনির্বাহী কমিটিকে পাশ কাটিয়ে কাজ করছেন। তারা অযৌক্তিকভাবে সংগঠনের সমিতির সদস্যদের পক্ষে অবস্থান গ্রহণকারীদের অপসারণের অসাংগঠনিক ও স্বেচ্ছাচারী হটকারি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

“সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিকে পাশ কাটিয়ে তারা যেইসব কাজ করছে আমরা তার প্রতিবাদ করছি।”

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments