সোনারগাঁয়ের পলাশই বিমান ছিনতাইকারী মাহাদী


সি নিউজ ডেস্ক :  ঢাকা থেকে দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের ‘ময়ূরপঙ্খী’ উড়োজাহাজ ছিনতাইকারী কথিত মাহাদির পরিচয় মিলেছে। তার নাম মাহমুদ পলাশ (২৪)। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামের পিয়ার জাহানের ছেলে পলাশই মাহদি হাসান ওরফে মাহমুদ পলাশ।

প্রসঙ্গত, ঢাকা থেকে দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের ‘ময়ূরপঙ্খী’ উড়োজাহাজ রোববার ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছিল। প্রায় দুই ঘণ্টার টানটান উত্তেজনার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি ছিনতাই চেষ্টার অবসান হয়।
সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ কমান্ডো অভিযানে উড়োজাহাজে থাকা অস্ত্রধারী তরুণ নিহত হন। টিকিটে তার নাম মো. মাজিদুল বলে প্রাথমিক ভাবে জানানো হয়েছিল।

এর আগে উড়োজাহাজটি থেকে যাত্রী-ক্রুসহ সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় বিমানবন্দর এলাকায় ভিড় করে অসংখ্য মানুষ। এ ঘটনায় সাতটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাত ১০টার দিকে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১১সালের দিকে পিরোজপুর ইউনিয়নের মঙ্গলেরগাঁও তাহেরপুর আলিম মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করে মাহমুদ পলাশ। এরপর সোনারগাঁ ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও পড়াশোনা শেষ করতে পারেনি।

পলাশের বাবা ১৯৯০সাল থেকে বিদেশে থাকতেন। প্রথমে কুয়েত এবং পরে সৌদি আরবে ছিলেন তিনি। প্রবাসী বাবার দেওয়া টাকা-পয়সা নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল জীবন যান করতেন পলাশ। এর মধ্যে নাচগান থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র শিল্পে জড়ান তিনি। কয়েকটি শর্টফিল্মও তৈরি করেন বলে জানায় পরিবার।
একটা সময় বাসা ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন পলাশ। বাড়িতে তেমন যেতেন না। মাঝে মধ্যে টাকার প্রয়োজন হলে বাড়ি যেতেন।

পলাশের বাবা গত সাত বছর আগে বিদেশ থেকে স্থায়ীভাবে দেশে চলে আসেন। এলাকায় একটি মুদি দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।মাহমুদ পলাশরা চার ভাইবোন। তিন বোন এবং এক মাত্র ভাই ছিল মাহমুদ পলাশ বাব-মায়ের এক মাত্র ছেলে হওয়ায় প্রবাসী বাবা তার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে নি। গৃহিণী মা রেনু আক্তার তার বেপরোয়া চলা ফেরায় বাধা দিয়েও তাকে কাছে রাখতে পারেনি।

পলাশের বাবা বলেন, গত ২০/২৫ দিন আগে বাড়িতে এসেছিল পলাশ। সাধারণত বাড়িতে সে এত দিন থাকতো না। গত ২০/২৫ দিনে অনেকটা পাল্টে যায় তার চলাফেরা ও চালচলন। মসজিদে যাওয়া-আসা করে, এমনকি আজানও দিয়েছিল কয়েকবার।

তিনি জানান, গত শুক্রবার বাসা থেকে বিদায় নেওয়ার সময় তার মাকে বলে যায়-ভ্রমণ ভিসায় আমি দুবাই যাচ্ছি।

তবে দুবাই যাওয়ার বিষয়ে বাবাকে কিছু বলেননি পলাশ। তার বাবা বলেন, ছেলের উচ্ছৃঙ্খল জীবন নিয়ে তিনি এতটাই অতিষ্ঠ ছিলেন যে, তিনি চেয়েছেন- হয় ছেলে ভালো হোক, না হয় মারা যাক।

গত রোববার রাতে সোনারগাঁ থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) জানান, পলাশের বাসায় এসে একটি ছবি দেখিয়ে তার বাবাকে বলেন-এটা আপনার ছেলের ছবি কিনা।


 
ওই (এসআই) সাংবাদিকদের বলেন, “পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে একটি তথ্য আসে যে মেহেদী বা মাহাদী হাসান নামের বা এ ধরনের কেউ দুবাই যাবে এমন কেউ সোনারগাঁয়ে আছে কিনা। পাশাপাশি মৃতদেহের একটি ছবি পাঠানো হয়েছিল। ছবি নিয়ে তিনি রাতে পলাশদের বাড়িতে গেলে তার পরিবার পরিচয় নিশ্চিত করে।” পরে ছবি দেখে এবং দুবাই যাওয়ার বিষয়টি মিলিয়ে পরিবার নিশ্চিত হয় নিহত ব্যক্তি মাহমুদ পলাশ।

ঢাকাই চলচ্চিত্রে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নায়িকা সিমলা তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছে পলাশের পরিবার। এবিষয়ে জানতে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সিমলার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পলাশের বাবা আরও জানান, প্রায় ১০ মাস আগে চিত্রনায়িকা সিমলাকে বাড়িতে নিয়ে আসে পলাশ। বাবা-মায়ের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেয়। সিমলার সঙ্গে তাদের কথাও হয়। তিনি বলেন, এক-দেড় মাসের ব্যবধানে দু’বার আসে পলাশ ও সিমলা। দ্বিতীয়বার এসে পলাশ বলেছে-আমি সিমলাকে বিয়ে করেছি। সিমলাও বিষয়টি স্বীকার করেছে।

পিআর জাহান বলেন, “আমি সিমলাকে তখন বলেছি- তোমার সঙ্গে বয়সের এত ব্যবধান, কীভাবে আমার ছেলেটাকে বিয়ে করেছো? যাহোক বিয়ে যেহেতু করেই ফেলেছো, আমার ছেলেটা যাতে ভালো হয়ে যায় একটু খেয়াল রেখো।”

তিনি জানান, পলাশের মা রেনু আক্তারের সঙ্গে এরপর তিন মাসের মতো সিমলার কথাবার্তা ও যোগাযোগ হয়। পরে আর যোগাযোগ হয়নি। হয়তো সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছিল।
পলাশের বাবা বলেন, বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনার বিষয়ে প্রথমে তারা কিছুই জানতেন না। পরবর্তীতে তারা ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া সদর উপজেলার সাতমাথা ভাইপাগলা মাজারের পাশে পলাশ ২০১৪ সালে মেঘলা নামে একজনকে বিয়ে করেন। তাদের আড়াই বছর বয়সী আয়ান নামের একটি পুত্র সন্তানও আছে। মেঘলা বগুড়ার স্থানীয় নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপালের মেয়ে। তার বাবা বগুড়ায় আইন পেশায় জড়িত। কমান্ডো অভিযানে উড়োজাহাজে থাকা অস্ত্রধারী তরুণ নিহত হন। টিকিটে তার নাম মো. মাজিদুল বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল।

এর আগে উড়োজাহাজটি থেকে যাত্রী-ক্রুসহ সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় বিমানবন্দর এলাকায় ভিড় করে অসংখ্য মানুষ। এ ঘটনায় সাতটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাত ১০টার দিকে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়।

তাহেরপুর সহকারী শিক্ষক নুরনবী জানান, সে মাদ্রাসা পড়ার সময় দুরন্ত প্রকৃতির ছিল। এ জন্য তাকে মাদ্রাসা থেকে তাকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।

সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির জানান, আমরা তার পরিবারের সাথে কথা বলেছি তারা পলাশের লাশ আসবে কিনা। কিন্তু তারা এ অবাধ্য ও রাষ্ট্রদ্রোহী কাজে নিয়োজিত ছেলের লাশ চায় না। 

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিরার অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, বিমান ছিনতাই কাজে পলাশ মাহমুদের সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা আমরা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি তার তদন্ত করে দেখার জন্য।


 

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments