আন্তর্জাতিক

সিরিয়ায় সীমা অতিক্রম করলে তুরস্কের অর্থনীতি ধ্বংস করে দেয়ার হুমর্কি ট্রাম্পের


সিনিউজ: সোমবার এক টুইটে এ হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। রোববার হঠাৎ ওই অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজ রোববার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘তুরস্ক খুব শিগগির তাদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী উত্তর সিরিয়ায় সামরিক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে … মার্কিন সৈন্যরা এই সংঘাতে জড়াতে চায় না। আইএসকে পরাজিত করার পর এই অঞ্চলে মার্কিন সৈন্যরা আর থাকবে না।’ বিবিসি, সিএনএন।

হোয়াইট হাউসের ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘কুর্দি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আইএস সদস্য বলে সন্দেহ করা হয় এমন ১২ হাজার লোক বন্দী আছে – যার মধ্যে অন্তত চার হাজার হচ্ছে বিদেশি যোদ্ধা, এবং এই বন্দীদের দায়িত্ব এখন তুরস্কই নেবে।’ রোববার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপের পরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে তুরস্কের জন্য কুর্দি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান চালানোর সুযোগ তৈরি হলো। অথচ কিছুদিন আগ পর্যন্তও কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফ মিলিশিয়ারা ছিল মার্কিন বাহিনীর প্রধান মিত্র। সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের(আইএস) বিরুদ্ধে যুদ্ধে এসডিএফ মিলিশিয়ারা মার্কিন সেনাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র তাদের সেনাদের সরিয়ে নেবার পর ক্ষুব্ধ কুর্দি মিলিশিয়ারা বলেছে, ওয়াশিংটন তাদের পিঠে ‘ছুরি মেরেছে’। এসডিএফের একজন মুখপাত্র আরবি টিভি চ্যানেল আল হাদাতকে বলেছেন, ‘আমেরিকা আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো যে এই অঞ্চলে তুরস্কের সামরিক অভিযান তারা করতে দেবে না। কিন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতিতে আমরা বিস্মিত। এসডিএফের জন্য এটা পিঠে ছুরি মারার সামিল।’ তুরস্ক এসডিএফকে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী বলে মনে করে এবং সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে এসডিএফকে হটিয়ে তুরস্ক তাদের ভাষায় একটি ‘নিরাপদ এলাকা’ প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর।

এসডিএফের এসব অভিযোগ-সমালোচনা ও নিজ দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনার পর ট্রাম্প ওই টুইট করেন। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের নিজ রিপাবলিকানরাও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments