রাজনীতি

সায়েন্সল্যাব-জিগাতলায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় শতাধিক আহত


সিনিউজ:  রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি, সিটি কলেজ থেকে জিগাতলা এলাকায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ফের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ রবিবার দুপুরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অষ্টম দিনের আন্দোলনে ওই এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এসময় একদল সন্ত্রাসীর হামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত চার শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়াও সন্ত্রাসীদের লাঠিসোঁটার আঘাতে আরও শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে আন্দোলনকারীরা। সাংবাদিকরা হামলাকারীর ছবি তুলে গেলে বাধা দেয় হামলাকারীরা। বেশ কয়েকজন ফটোসাংবাদিককে মারধর করা হয়েছে। এ সময় সাইন্সল্যাব মোড়ে নাগরিক টেলিভিশনের একটি গাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন লাগানো হয়। হামলাকারীরা বর্তমানে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে অবস্থান নিয়েছে। আর আন্দোলনকারীরা রয়েছেন নিউ অ্যালিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যাল পয়েন্টে। সেখানে উভয়পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকা থেকে পিলখানা পার হয়ে জিগাতলা বাসস্ট্যান্ডের দিকে গেলে পুলিশ তাদের সেখান থেকে ঘুরে চলে যেতে বলে। কিন্তু, তারা পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা করে ধানমন্ডি ৩/এ সড়কে অবস্থিত আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে শিক্ষার্থীদের একাংশ সেখান থেকে ঘুরে সায়েন্স ল্যাবরেটরির পথ ধরে। কিন্তু, অপর অংশ সেখানেই অবস্থান করে আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এসময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে হঠাৎই ধানমন্ডি লেকের দিক থেকে একদল সন্ত্রাসী লাঠি সোঁটা, রামদা, কিরিচ ইত্যাদি নিয়ে এসে তাদের ওপর চড়াও হয়। এসময় ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়ায় ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মী।একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দুষ্কৃতকারীদের হামলায় অন্তত চার শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। অন্তত তিনজনের মাথা ফেটে গেছে। এছাড়াও একজনের গাল ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কেটে গেছে। রক্তক্ষণ ঠেকাতে ও প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক তাদের পপুলার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে। এদিকে, ঘটনাস্থল থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চলে যাওয়ার পর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মোটরসাইকেল বহর নিয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় মহড়া দিতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, পিলখানা-জিগাতলা এলাকায় বিজিবি প্রহরা দেওয়া শুরু করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। হামলায় অনেক শিক্ষার্থীর মাথা ফেটে গেছে। অনেকের গাল-মুখ কেটে গেছে। অন্তত শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ১০টি জেলার ৩০০টি ইউনিয়নের অপটিক্যাল ফাইবার কানিক্টিভিটি উদ্বোধনকালে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

Admin

0 Comments

Please login to start comments