লাইফস্টাইল

সফল উদ্যোক্তা হওয়ার ১২ মূলমন্ত্র


সিনিউজ: সফল উদ্যোক্তা হওয়ার মূলমন্ত্র পেতে হলে আপনাকে সত্যিকার সফল উদ্যোক্তাদের কাছেই যেতে হবে। একাডেমিকরা হয়তো আপনাকে থিওরি বলতে পারবেন, হিসাব দেখাতে পারবেন। কিন্তু সত্যিকার জীবনে যাঁরা সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন – তাঁরাই শুধু সফল উদ্যোক্তা হওয়ার সত্যিকার মূলমন্ত্র খুঁজে পেয়েছেন। একাডেমিক বা ইন্সটিটিউশনাল জ্ঞান গুলোকে বাস্তব জীবনে সত্যিকার কাজে লাগানোর জন্য আপনাকে সত্যিকার সফল উদ্যোক্তাদের কাছেই যেতে হবে।

বিজনেস ইন্সটিটিউটের বইয়ের চেয়ে অনেক সময়ে সেলফ ডেভেলপমেন্ট বইগুলো বেশি কাজে লাগে, কারণ, ব্যবসা সম্পর্কিত বেশিরভাগ বেস্ট সেলিং সেলফ ডেভেলপমেন্ট বই লেখা হয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রের সফল মানুষদের ওপর গবেষণা করে। তাঁদের জ্ঞান, অভ্যাস, কাজ করার ধরন – ইত্যাদি এ্যানালাইসিস করে লেখকরা সফল মানুষদের কমন গুণ ও কাজের ধরন গুলো খুঁজে বের করেন। যেগুলো সবারদ উপকারে আসতে পারে।

নেপোলিয়ন হিল তাঁর সেলফ ডেভেলপমেন্ট ক্লাসিক “থিংক এ্যান্ড গ্রো রিচ” লেখার আগে কয়েক বছর ধরে ৫০০ জন অসাধারণ সফল মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, এবং তাঁদের ওপর গবেষণা করেছেন। “স্মার্টার ফাস্টার বেটার” বইয়ের লেখক চার্লস ডুহিগ ও একই কাজ করেছেন। এই বইগুলোতে সাধারণ ভাবে, অতি সফল মানুষদের সাফল্যের পেছনের কারণগুলো এমন ভাবে তুলে ধরা হয়, যাতে সেগুলো কাজে লাগিয়ে পাঠকরাও তাঁদের জীবনে সফল হতে পারেন।

লেখক, সাংবাদিক, ও গবেষক কেভিন ক্রুজ এই কাজটিই করেছেন। তবে তিনি বই লেখেননি। বর্তমান সময়ে জীবিত ২০০ জন সফল মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। যাঁদের বেশিরভাগই সফল উদ্যোক্তা, এর মধ্যে রিচার্ড ব্র্যানসন, ওয়ারেন বাফেট সহ ৭জন বিলিওনেয়ার আছেন।

তিনি সবাইকেই খুব সাধারণ একটি প্রশ্ন করেছেন: ”আপনার অসাধারণ প্রোডাক্টিভিটি বা কর্মক্ষমতার পেছনের ১ নম্বর কারণটি কি?”

এর উত্তর এক একজন এক এক ভাবে দিয়েছেন, তবে এর মাঝে ১২টি বিষয় সবচেয়ে বেশিবার উঠে এসেছে, এবং ইন্টারভিউ দেয়া প্রায় সবাই এর কোনও না কোনওটি ফলো করেন।

এই বিষয়গুলো নিয়ে কেভিন “বিজনেস ইনসাইডার” এ একটি আর্টিকেল প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি বিষয়গুলো সুন্দর ভাবে সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করেছেন। আমরা আজ সেই ১২টি বিষয়কে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার ১২টি মূলমন্ত্র আকারে আপনার সামনে তুলে ধরছি, যাতে আপনিও সেগুলো কাজে লাগিয়ে নিজের সাফল্যকে আরও উন্নত করতে পারেন।

তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক –
 

০১. সফল উদ্যোক্তারা ঘন্টার বদলে মিনিট হিসাব করে কাজ করেন

বেশিরভাগ মানুষ ঘন্টা হিসাব করে কাজ করেন। এমনকি উদ্যোক্তারাও দিনে কয় ঘন্টা কাজ করলেন – এটাই হিসাব করেন। কিন্তু ক্রুজ এর ভাষায়  “আলট্রা সাকসেসফুল” বা অতি সফল উদ্যোক্তারা কাজ করেন মিনিটের হিসেবে।

ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “সেরা সফল উদ্যোক্তারা দিনে ২৪ ঘন্টার বদলে পুরো ১৪৪০ মিনিট নিয়েই সচেতন থাকেন। এবং তাঁরা বোঝেন জীবনে সময়ের মূল্য সবচেয়ে বেশি। টাকা গেলে টাকা পাওয়া যায়, কিন্তু সময় গেলে আর তা ফিরে পাওয়া যায় না।”

বিল গেটস কে নিয়ে একটা গল্প প্রচলিত আছে। তাঁর ডেস্ক থেকে একবার কয়েক হাজার ডলার পড়ে গিয়েছিল। তিনি সেটা আর তোলেননি। কারণ, সেটা তুলতে গিয়ে তাঁর যতটা সময় খরচ হত, সেই সময় কাজে লাগিয়ে তিনি আরও বেশি টাকা আয় করতে পারতেন।

এই গল্প সত্যি কি মিথ্যা – এটা নিয়ে সন্দেহ আছে। কিন্তু গল্পের পেছনের মেসেজটা দিনের আলোর মত সত্যি। সময়কে যে কোনও কিছুর চেয়ে বেশি মূল্য দিলে, সময় তা বহু গুণে ফিরিয়ে দেয়।

কাজেই, সফল উদ্যোক্তা হওয়ার অন্যতম মূল মন্ত্র হল, প্রতিটি মিনিট এর ব্যাপারে সচেতন থেকে কাজ করতে হবে। যদি ১ ঘন্টা কাজ করেন, তবে খেয়াল রাখুন ৬০টি মিনিটই যেন কাজে লাগে। দেখবেন, ১ ঘন্টার কাজ ১ ঘন্টার অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। বাকি সময়টা আপনি অন্য জরুরী কাজে লাগাতে পারবেন। এতে প্রোডাক্টিভিটি অনেক গুণ বেড়ে যাবে।

০২. এক সময়ে শুধু একটি কাজেই মনোযোগ দিন

ফোকাস হল অসাধারণ সফল হওয়ার আরেকটি অন্যতম মূলমন্ত্র। আপনি যখন যেটাই করছেন, সেটাতে পূর্ণ মনোযোগ দিন। তারচেয়েও বড় কথা, দিনের কাজের শুরুটা করুন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দিয়ে। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার জানা থাকার কথা যে, কোন কাজটি করা আপনার ব্যবসার উন্নতির জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরী।

বেশিরভাগ ”আলট্রা সাকসেসফুল বিজনেস পিপল” – তাঁদের দিনের কাজ শুরু করার পর ২ ঘন্টা গভীর ভাবে একটি কাজই করেন – যে কাজটি তাঁদের ব্যবসার জন্য সবচেয়ে জরুরী। এই সময়ে তাঁরা কারও সাথে কথা বলেন না, বা অন্য কোনও দিকে মনোযোগ দেন না।

এই ‘ডিপ ওয়ার্ক’ আওয়ারে তাঁদের প্রোডাক্টিভিটি সেরা পর্যায়ে থাকে, এবং দিনের বাকি কাজগুলোও তাঁরা অনেক গুছিয়ে করতে পারেন। আপনিও দিনের কাজ শুরুর পর প্রথম ২ ঘন্টা কি করবেন – সেদিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিন। আশা করা যায় আপনার কাজের মান অনেক বেড়ে যাবে।

০৩. ক্যালেন্ডার ধরে কাজ করুন

কিছু মানুষ তাঁদের দিনে একদম ছোট ছোট অপ্রয়োজনীয় কাজও শিডিউলের মধ্যে রাখেন। কেভিন ক্রুজ ২০০ জন অতি সফল মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে জানতে পেরেছেন, এতে উপকারের চেয়ে অপকার বেশি। আপনি যদি অগুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোও শিডিউল করে রাখেন, তার কমবেশি ৪১% করতে পারবেন না। এইসব না করা কাজ অবচেতন মনে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।

GTD মেথডও এই কথাই বলে। ছোট ছোট কাজ শিডিউল করে, না করার ফলে সেগুলো অবচেতন মনে থেকে যায়, যার ফলে ”Zeigarnik effect“ নামক একটি সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই সমস্যার কারণে অহেতুক মানসিক চাপ, নিদ্রাহীনতা – ইত্যাদি হয়।

অতি সফল মানুষরা দিনের সব ছোটছোট বিষয় শিডিউলে না রেখে, ক্যালেন্ডার অনুযায়ী কাজ করেন। অর্থাৎ, তাঁরা কোন তারিখে কোন কাজটা শেষ করেবন – তা শিডিউল করে রাখেন। এবং সেই জরুরী কাজগুলোকে ছোট ছোট ভাগ করে দিনের শিডিউলে ঢোকান। এতে তাঁদের ফোকাস শুধু জরুরী কাজগুলোতেই থাকে, এবং অহেতুক মানসিক চাপ নিতে হয় না।

০৪. ঢিলেমি বন্ধ করার জন্য ঢিলেমির ফলাফল আগে ভাবুন

সফল উদ্যোক্তা হওয়া, বা অন্য যে কোনও বিষয়ে সফল হওয়ার জন্য ঢিলেমি বাদ দেয়াটা একটি জরুরী মূলমন্ত্র। ঢিলেমির কুফল খুবই ভয়াবহ। বহু প্রতিভাবান ও দক্ষ মানুষ শুধুমাত্র এই ঢিলেমি বা কাজ ফেলে রাখার কারণে জীবনে ব্যর্থ হয়েছেন।

সাধারণ মানুষদের মত, সফল মানুষদেরও ইচ্ছা হয় কাজ ফেলে বিশ্রাম নিতে, মুড না থাকলে একটু জিরিয়ে নিতে, প্রিয় সিনেমা বা টিভি সিরিজটা রিলিজের দিনই দেখে ফেলতে – ইত্যাদি। কিন্তু তাঁরা এইসব ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখেন, কারণ তাঁরা জানেন, কাজ ফেলে রাখলে বা ঢিলেমি করলে ভবিষ্যতে কি হবে।

এখন প্রশ্ন করতে পারেন, তাঁরা কি জাদু জানেন, অথবা টাইম ট্রাভেল করতে পারেন, নাকি ভবিষ্যৎ দেখতে পারেন?

এর কোনওটাই নয়। তাঁরা এমন একটি ক্ষমতা কাজে লাগান, যা প্রতিটি মানুষেরই আছে। তা হল, যুক্তি দিয়ে বিচার করতে পারা, এবং কল্পনা করতে পারা।

যখনই তাঁদের ঢিলেমি করার ইচ্ছা হয়, তাঁরা কল্পনা করেন যে, ঢিলেমি করে কাজ ফেলে রাখলে ভবিষ্যতে তাঁদের কি কি ক্ষতি হতে পারে। হয়তো সময়মত কাজ শেষ না করতে পারলে অনেক দিনের কাজ করা প্রজেক্ট হয়তো সময়মত জমা দিতে পারবেন না। হয়তো ক্লায়েন্টের সাথে সম্পর্ক খারাপ হয়ে যেতে পারে, অথবা সময়মত প্রোডাক্ট ডেলিভারি দিতে না পারায় বিরাট লস হতে পারে – ইত্যাদি।

একটু যুক্তি দিয়ে চিন্তা করলেই, কাজ ফেলে রাখার কুফল গুলো ভাবতে পারা যায়। আর এগুলো কল্পনা করলে এমনিতেই আপনার এড্রিনলিন হরমোন কাজ করা শুরু করবে। যার ফলে নিজের প্রাকৃতিক বেঁচে থাকার প্রবণতা বা “সারভাইভাল ইন্সটিংকস” থেকেই আপনি আবার কাজ করা শুরু করবেন। – এড্রিনলিন হরমোন সাধারণত বিপদের মুখে, বা চ্যালেঞ্জের মুখে মানুষকে এ্যাকটিভ করে।

আমাদের ব্রেন যেহেতু কল্পনা ও বাস্তবে একই রিএ্যাকশন দেখায়, সেহেতু কাজ না করার বিপদ কল্পনা করলে, এমনিতেই ভেতরে কাজ করার তাগিদ তৈরী হবে। সফল মানুষরা সচেতন ভাবে বা অবচেতন ভাবে এটাকে নিয়মিত কাজে লাগান। আপনিও চেষ্টা করুন।

০৫. ব্যবসার বাইরেও একটা জীবন রাখুন

একজন উদ্যোক্তা হিসেবে অবশ্যই ব্যবসা আপনার অন্যতম প্রধান কাজ। কেভিন ক্রুজ এ প্রসঙ্গে ইন্টেল কর্পোরেশনের প্রয়াত সিইও ও চেয়ারম্যান এ্যান্ড্রু গ্লোভ (১৯৩৬-২০১৬) এর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেরা সাফল্য পাওয়া উদ্যোক্তারা খুব ভালো করে জানেন যে, জীবনে কোন কোন জিনিস তাঁদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

হ্যাঁ, তাঁরা তাঁদের কাজকে ভয়ানক মূল্য দেন। কিন্তু এর বাইরেও জীবনে মূল্যবান কিছু আছে। লিজেন্ডারি সফল উদ্যোক্তারা ব্যবসার পাশাপাশি নিজের পরিবারকেও মূল্য দেন। একজন মানুষের জীবনের শেষে তাঁর অবদানের পাশাপাশি তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে কি, এবং পরিবারের কাছে কি – এগুলো আরও বেশি মূল্যবান হয়ে দাঁড়ায়। এইজন্যেই ওয়ারেন বাফেট, বিল গেটস, জেফ বেজোস, অথবা জ্যাক মা এর মত বড় বড় বিলিওনেয়ার তাঁদের বেশিরভাগ অর্থ মানব কল্যানে দান করে দেন, সেইসাথে নিজেদের সন্তান ও পরিবারকে যথেষ্ঠ সময় দেন। ইলন মাস্ক সময় পেলেই তাঁর ছেলেদের নিয়ে ট্যুরে যান, এবং শত ব্যস্ততার মাঝেও নিয়মিত নিজের ছেলেদের সময় দেন।

আমাজন ফাউন্ডার জেফ বেজোস দেশে থাকলে পরিবারের সাথে সকালের নাস্তা করা কখনওই মিস করেন না।

পারিবারিক বন্ধন ও ভালোবাসা না থাকলে দিন শেষে মানুষের জীবন অর্থহীন। অসাধারণ সফল মানুষরা এটা খুব ভালো করেই জানেন। বেশিরভাগ হলিউড সেলিব্রেটিদের মত ছন্নছাড়া জীবন তাঁদের নয়। প্রায়ই খবর আসে অমুক সেলিব্রেটি জুয়া খেলে, নেশা করে বা অন্য ভাবে সব টাকা হারিয়ে নি:স্ব হয়ে গেছেন। উদ্যোক্তাদের বেলায় কিন্তু তেমনটা ঘটে না। কারণ টাকা ও গ্লামারের বাইরেও তাঁদের একটা অর্থপূর্ণ জীবন থাকে।

০৬.  পড়া ও লেখার অভ্যাস

সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য পড়ার ও লেখার অভ্যাস থাকাটা একটি অন্যতম মূল মন্ত্র। এই অভ্যাস ছাড়াও হয়তো আপনি একটা পর্যায়ের সফল উদ্যোক্তা হতে পারবেন – তবে সেটা কখনওই স্টিভ জবস, অথবা জ্যাক মা লেভেলে যাবে না।

ওয়ারেন বাফেট এখনও দিনে ৫০০ পৃষ্ঠা পড়েন, ইলন মাস্ক সময় পেলেই বইয়ের মাঝে ডুবে থাকেন, বিল গেটস বছরে ৫০টি বই পড়েন, মার্ক জুকারবার্গ তাঁর ব্যবসা প্রসারণের জন্য নিয়মিত বিভিন্ন দেশের কালচার ও মানুষ নিয়ে পড়াশুনা করেন।

আর লেখার প্রসঙ্গে বলতে গেলে বলতে হয়, এখানে কিন্তু গল্প, কবিতা বা প্রবন্ধ লেখার কথা বলা হচ্ছে না। নিজের লক্ষ্য, পরিকল্পনা, আইডিয়া ইত্যাদি নিয়ে নিজের মত লেখার কথা বলছি। ভার্জিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা বিলিওনেয়ার রিচার্ড ব্র্যানসন একাধিক বার বলেছেন যে, তিনি ভার্জিন গ্রুপকে সফল করতে পারতেন না – যদি না তিনি একটি ছোট্ট খাতা নিয়ে সব সময়ে না ঘুরতেন। গ্রীক শিপিং ম্যাগনেট এ্যারিস্টটল ওনাসিস (দার্শনিক এ্যারিস্টটল নন, আধুনিক যুগের ব্যবসায়ী এ্যারিস্টটল) বলেছেন, “সব সময়ে একটি খাতা সঙ্গে রাখবে। মাথায় যা আসবে, লিখে ফেলবে। এটা একটা মিলিয়ন ডলার লিসন – যেটা কোনও বিজনেস ইন্সটিটিউট তোমাকে শেখাবে না”

কেভিন ক্রুজ লিখেছেন, “আলট্রা সাকসেসফুল মানুষরা সবকিছু লিখে রাখার মাধ্যমে তাঁদের মাথাকে পরিস্কার রাখেন। জরুরী বিষয় লিখে ফেললে সেগুলো আপাতত মাথায় খোঁচাখুঁচি করবে না। কিন্তু সেগুলো নিয়ে পরে চিন্তা করা যাবে। সর্বকালের সেরা জিনিয়াস লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি এটা খুব কঠোর ভাবে ফলো করতেন।  পৃথিবীর প্রায় সব সেলফ ডেভেলপমেন্ট কোচই নিজের লক্ষ্য আর আইডিয়া লিখে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। – সফল হওয়ার মূলমন্ত্র হিসেবে আপনিও একে কাজে লাগাতে পারেন।

০৭. ইমেইল ও নোটিফিকেশন কম চেক করুন

সেরা সফল উদ্যোক্তারা সারাদিন ইমেইল ও সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশন চেক করেন না। বা টুং করে মেইল বা নোটিফিকেশন আসার শব্দ হলেই সেদিকে মনোযোগ দেন না। এর বদলে অন্য সব কিছুর মত এটার জন্যও তাঁদের নির্দিষ্ট সময় থাকে। হয়তো দিনে লাঞ্চের পর আধা ঘন্টা মেইল ও নোটিফিকেশন চেক করেন। সেখানে খুব কম সময়েই জরুরী কিছু থাকে। বেশিরভাগই দিনে মাত্র একবার এসব চেক করেন। অনেকে একবারও করেন না। নিজের পিএস এর কাছে এসব দায়িত্ব দেন। তেমন জরুরী কিছু হলেই কেবলমাত্র তাঁদের জানানোর অনুমতি থাকে।

০৮. মিটিং এর পেছনে বেশি সময় নষ্ট করবেন না

কেভিন ক্রুজ আমেরিকান বিলিওনেয়ার মার্ক কিউবান এর সাক্ষাৎকার নেয়ার সময়ে তাঁর সেরা প্রোডাক্টিভিটি টেকনিক জানতে চাইলে কিউবান বলেছিলেন যে, ফলপ্রসূ হবে না মনে হলে মিটিং এর পেছনে বেশি সময় নষ্ট করবেন না।

মিটিং সময় নষ্ট করার একটি অন্যতম মাধ্যম। অনেক উদ্যোক্তা মিটিং এর পেছনে অতিরিক্ত সময় দিতে গিয়ে কাজের সময় নষ্ট করে ফেলেন। যে কোনও বিজনেস মিটিং এ অবান্তর কথা এড়িয়ে চলুন। দ্রুত কাজের কথা শুরু ও শেষ করা সফল বিজনেস মিটিং এর অন্যতম মূলমন্ত্র। মূল বিষয় ছেড়ে কথা অন্যদিকে মোড় নিলে কথাকে আবার পয়েন্টে নিয়ে আসুন। এবং যত তাড়াতাড়ি পারা যায় সিদ্ধান্তে আসার চেষ্টা করুন। এতে সময় নষ্ট হবে না। একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রতিটি মিনিটকে সত্যিকার কাজে লাগানো অপরিহার্য।

০৯. ’না’ বলতে শিখুন

সর্বকালের সেরা একজন উদ্যোক্তা ওয়ারেন বাফেট এর একটি বিখ্যাত উক্তি ছিল, “সাধারণ সফল আর অসাধারণ সফলদের মধ্যে পার্থক্য হল, অসাধারণ সফলরা প্রায় সবকিছুকেই ‘না’ বলে”।

”প্যারেটো প্রিন্সিপাল” বা ৮০/২০ প্রিন্সিপাল অনুযায়ী, ২০% কাজের ওপর মানুষের ৮০% সাফল্য নির্ভর করে। অসাধারণ সফল উদ্যোক্তারা কোনও সুযোগ সামনে আসলেই তা লুফে নেন না। তাঁরা জানেন, বেশিরভাগ কাজে হাত দিতে গেলে তাঁদের মূল কাজটাই করা হবে না। তাঁরা শুধু সেই কাজগুলোই করেন, যেগুলো তাঁদের মূল লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। বাকি সব কিছুকেই তাঁরা না বলেন। সঠিক ভাবে বিবেচনা করে ’না’ বলতে শেখা সফল উদ্যোক্তা হওয়ার মূলমন্ত্র হিসেবে খুবই জরুরী।

১০. সবকিছু একা করতে যাবেন না

সবকিছু একা করতে গেলে শেষে কিছুই ভালোমত করা যায় না। এইজন্যেই সফল ব্যবসার জন্য টিম ওয়ার্ক এতটা গুরুত্বপূর্ণ।

কেভিন লিখেছেন, অসাধারণ সফল উদ্যোক্তারা সব ব্যাপারে “আমি কিভাবে কাজটি করতে পারি?” জিজ্ঞাসা করার বদলে জিজ্ঞাসা করেন “কিভাবে কাজটি সবচেয়ে ভালোভাবে হতে পারে?”

আল্ট্রা প্রোডাক্টিভ মানুষেরা সবকিছু একা নিয়ন্ত্রণ করতে চান না। একটি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বাজারে ছাড়ার সময়ে মার্কেটিং, বাজেটিং, প্রোডাকশন, ইঞ্জিনিয়ারিং – সব দায়িত্ব একজনের কাঁধে না নিয়ে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী সেরা কাজটি বেছে নিয়ে, অন্যদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ ভাগ করে দেন। এতে কাজ দ্রুত ও মান সম্পন্ন হয়। একজন উদ্যোক্তা সবকিছুর খোঁজখবর রাখবেন ঠিকই, কিন্তু সবকিছু একাই নিয়ন্ত্রণ করতে যাবেন না।

১১. একবারের জিনিস দুইবারে করবেন না

একজন সেরা সফল উদ্যোক্তা একটি কাজ ধরে সেটা শেষ করে আরেকটি কাজ ধরেন। একটি কাজ একটু করে আবার সেটা রেখে দিয়ে অন্য কাজ ধরেন না। সাইকোলজিতে ”রেসিডিউ অব থট” বলে একটা কথা আছে: আগের কোনও কাজ অসম্পূর্ণ রেখে আরেকটি কাজ ধরলে, আগের কাজের ফেলে আসা চিন্তা মাথায় ঘুরতে থাকে। ফলে পরের কাজটিও ভালোমত হয় না।

পারফেক্ট ভাবে কাজ করতে হলে একটি কাজ ধরে শেষ করে তবেই আরেকটি কাজে হাত দিতে হবে। কেভিন লিখেছেন, এতে করে মানসিক চাপ কমবে, এবং আপনি সব কাজই অনেক হাল্কা মেজাজে সুন্দর ভাবে করতে পারবেন।

১২. ভালো একটি সকালের রুটিন ফলো করুন

কেভিন ২০০ সফল মানুষের সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি কমন যে জিনিসটি পেয়েছেন, তা হল প্রায় সব সফল মানুষের নির্দিষ্ট প্রোডাক্টিভ সকালের রুটিন আছে। সফল মানুষের রুটিন গুলোর মধ্যে সবচেয়ে কমন ছিল, খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠা, তারপর মেডিটেশন বা প্রার্থণা করা, এক্সারসাইজ করা, অনুপ্রেরণামূলক বই পড়া বা লেকচার শোনা, নিজের উদ্দেশ্যে ভালো কিছু লেখা, পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর নাস্তা করা এবং পরিচ্ছন্ন হওয়া।

সকালের রুটিন নিয়ে লেখা সেরা একটি সেলফ ডেভেলপমেন্ট বই, মিরাকেল মর্নিং এও মোটামুটি এই ধরনের সকালের রুটিন এর কথাই বলা হয়েছে।

সকালটা যদি সুন্দর ও প্রোডাক্টিভ ভাবে শুরু করা যায়, তবে দিনটি সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। তাই, যে কোনও ক্ষেত্রেই সফল হওয়ার একটি মূলমন্ত্র হতে পারে একটি সঠিক মর্নিং রুটিন।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments