জাতীয়

শোকের মাস অাগস্টের দ্বিতীয় দিন আজ: নীতি-আদর্শে অমর বঙ্গবন্ধু


ড. আসাদুজ্জামান খান :  শোকের মাস আগস্টের আজ দ্বিতীয় দিন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ মাসের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে বিপদগামী কিছু সেনা সদস্যদের হাতে পরিবার পরিজনসহ নির্মমভাবে নিহত হন। বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন নেসা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল (যার বয়স ছিল তখন মাত্র দশ বছর), দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও পারভীন জামাল, ছোট ভাই শেখ আবু নাসের সবাইকে ঘাতকরা বুলেটের আঘাতে হত্যা করে সেই কালরাতে। আরো হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবত, সেরনিয়াবতের পুত্র আরিফ, কন্যা বেবী, নাতি চার বছরের সুকান্ত আব্দুল্লাহ, ভাতিজা শহীদ, বঙ্গবন্ধুর ভাগিনা শেখ ফজলুল হক মণি, তার স্ত্রী বেগম আরজু মণি, কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদকে। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা (যিনি বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী) ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকার কারণে প্রাণে বেঁচে যান।
যে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু জন্মেছিলেন, তার শৈশব কাটিয়েছেন সেখানে তাকে কবর দিল ঘাতকেরা। হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া তার কবরের পাশে তখন আর কেউ ছিল না। কি নির্মম পরিস্থিতিতে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতাকে তার স্বপ্নের সোনার বাংলা থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল শুধু তার আশপাশে থাকা বেঈমান মোনাফেক কিছু ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য। ব্যক্তি শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছিল ১৫ আগস্ট কিন্তু বাঙালির মুক্তিদাতা রাজনীতির  রাখাল রাজাকে তারা শেষ করতে পারেনি। ইতিহাসের পাতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রয়ে গেছেন অজেয় অমর হয়ে। তার নীতি, আদর্শ এবং সংগ্রামী চেতনা প্রতিষ্ঠার যে লড়াই তিনি শুরু করেছিলেন, যে জাতীয়তাবাদ তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তার রেশ রয়ে গেছে আজো। যুগের পর যুগ চলে গেছে কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শ শেষ হয়নি। তা রয়ে গেছে এবং যতদিন বাংলাদেশ বেঁচে থাকবে ততদিন তার কীর্তিও বেঁচে থাকবে।
বঙ্গবন্ধুর নীতি আদর্শ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির বিস্তৃত ও বিশাল পটভূমি থেকেই উদ্ভুত হয়েছিল মুজিববাদ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একান্ত সারসংকলনই মুজিববাদ। মুজিববাদ মূলত চারটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। যেমন বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র। এ চারটি স্তম্ভকে একবাক্যে প্রকাশ করলে হয় অসম্প্রদায়িক বাঙালির গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র। অসম্প্রদায়িক মানে ধর্মনিরপেক্ষতা।
বাঙালি জাতীয়তাবাদ হলো- বাঙালি থেকে বাংলাদেশ অর্থাৎ আগে বাঙালি পরে বাংলাদেশ। বাঙালিরা দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছেন। তারপর সেই যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। বাঙালির এ যুদ্ধ দীর্ঘ দিনের শোষণ বঞ্চনার ঘনিভূত রূপ। বাঙালি জাতীয়তাবাদ হলো, বাঙালি জাতির প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বছরের ইতিহাসের বিকশিত গতিধারার রূপায়ন। এর পরিধি অসীম।
সেই ব্যাপক অসীমকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন আমাদের জাতির জনক। তাইতো ঘাতকরা তাকে শেষ করতে পারেনি। তার নশ্বর দেহটা শুধু নেই, তিনি বেঁচে আছেন বাংলার আকাশে বাতাশে কোটি মানুষের হৃদয়ে। অন্নদা শংকরের ভাষায়-
যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান
ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।
 

Admin

0 Comments

Please login to start comments