খেলাধুলা

শুভ জন্মদিন মাশরাফি


সিনিউজ: বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছে দেয়ার কারিগর মাশরাফি বিন মর্তুজার ৩৭তম জন্মদিন শনিবার (৫ অক্টোবর)। ১৯৮৩ সালের আজকের দিনেই অর্থাৎ ৫ অক্টোবর যশোরের নড়াইলে জন্ম হয় মাশরাফির।

কারো কারো কাছে ম্যাশ, কারো কাছে তিনি মাশরাফি নামে পরিচিত হলেও নড়াইলের সেই দুরন্ত কিশোরটি ছোটবেলা থেকে কৌশিক নামেই এলাকার সবার কাছে পরিচিত ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি অদ্ভুত এক ভালোবাসা কাজ করতো।

বয়স যখন ১৮ তখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পদার্পন ঘটে এই তারকার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম টেস্ট ফরম্যাটে ২০০১ সালের ৮ নভেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক ঘটে মাশরাফির। সেই থেকে শুরু হয় আন্তর্জাতিকভাবে ক্রিকেটের সাথে তার পথচলা। টেস্ট ক্রিকেটের ঠিক ক’দিন পরেই (২৩ নভেম্বর) জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই একদিনের ক্রিকেটেও অভিষেক ঘটে তার। এরপর তার সুদীর্ঘ ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে রয়েছে অনেক প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির গল্প। রয়েছে অনেক না পাওয়ার ব্যর্থতা। তবে কোটি কোটি মানুষের কাছে মহানয়ক একজনই, আর তিনি হলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

সাতবার পায়ে অপারেশানের জন্য ক্রিকেট ক্যারিয়ার থেকে অনেকগুলো বছর হারিয়ে গেছে মাশরাফির। তবে এতোকিছুর পরেও তিনি এখন পর্যন্ত ৩৬টি টেস্ট, ২১৭টি ওয়ানডে এবং ৫৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। ক্যারিয়ারে এতো উত্থান-পতনের পরেও ইনজুরি যেন বোলিংয়ে কোনো প্রভাবই ফেলতে পারেনি এই পেস অলরাউন্ডারকে। এখন পর্যন্ত ৩৬ টেস্টে মাশরাফি পেয়েছেন ৭৮টি উইকেট।

অন্যদিকে ওয়ানডেতে ২৬৬ এবং টি-টোয়েন্টিতে পেয়েছেন ৪২টি উইকেট। ওয়ানডেতে এক ম্যাচে মাত্র ২৬ রান দিয়ে পেয়েছেন ৬টি উইকেট যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার। অন্যদিকে টি-টোয়েন্টিতে পাঁচ উইকেটের দেখা না পেলেও ১৯ রান দিয়ে পেয়েছেন সর্বোচ্চ ৪ উইকেট।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সবথেকে সফলতম অধিনায়কের মুকুটটি এখন পর্যন্ত মাশরাফির মাথাতেই শোভা পাচ্ছে। টেস্টে মাত্র একটি ম্যাচে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই ম্যাচটিও জিতেছে বাংলাদেশ। তবে অধিনায়ক হিসেবে তিনি কতোটা দক্ষ তা ওয়ানডে পরিসংখ্যান না দেখলে যেন সবকিছু ঘোলাটেই থেকে যাবে। ৮৫টি ওয়ানডের ৪৭টিতেই জয় ধরা দিয়েছে টাইগার ক্যাপ্টেনের হাতে। অন্যদিকে ২৮ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৭টিতে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে তাকে।

ছেড়েছেন টি-টোয়েন্টি। ফেরার ইচ্ছে নেই টেস্ট ক্রিকেটে। ওয়ানডে খেলবেন আরও কিছুদিন। ক্রিকেট মাঠে বিচরণের পাশাপাশি মাশরাফির নামের পাশে যুক্ত হয়েছে মেম্বার অব পার্লামেন্ট পদবী। যেই ঘাস মাড়িয়ে মাশরাফি বড় হয়েছেন, যেই মাটিতে কেটেছে তার শৈশব; আজ সেই মাটিতে সোনা ফলানোর দায়িত্ব তার। নড়াইল-২ আসনের সংসাদ এখন নড়াইলের গর্ব। মাঠের ২২ গজের মতো রাজনৈতিক মঞ্চেও চলছে তার দাপট। নড়াইলে চোখ মেললেই দেখা যায় মাশরাফিকে নিয়ে গণমানুষের উল্লাস, উদ্দীপনা আর আনন্দ।

বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার পেছনের কারিগর যেন এই মাশরাফি। তাই তো পেয়েছেন কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসাও। শতবছর বেঁচে থাকুক মাশরাফি। হাজারো তরুণ ক্রিকেটারের অনুপ্রেরণা হয়ে। হাজারো ক্রিকেট ভক্তের ভালোবাসা নিয়ে।

কাকতালীয় ব্যাপার হলো, ২০১৪ সালের একইদিনে অর্থাৎ ৫ অক্টোবর তারিখেই পৃথিবীর বুকে এসেছেন মাশরাফির দ্বিতীয় সন্তান পুত্র সাহিল মর্তুজা। ফলে আজ মাশরাফিপুত্র সাহিলের ৫ম জন্মদিন। পূর্বপশ্চিমবিডি.নিউজ এর পক্ষ থেকে বাবা-পুত্রকে জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা এবং শুভকামনা।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments