লাইফস্টাইল

রোজার উপকারিতা ও স্বাস্থ্যকর খাবার


সিনিউজরমজান মাসে খাদ্যাভ্যাস বদলে যায়, এক মাস শরীরকে মানিয়ে চলতে হয় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার সঙ্গে। সুস্থ থেকে পুরো মাস রোজা পালন করতে তাই জানা দরকার কিছু বিষয়। প্রবাদ আছে, অসুস্থ মানুষ কোনো সুখ উপভোগ করতে পারে না। কিন্তু সুস্থ থাকা কি সহজ কাজ? কারণ বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য গ্রহণ করতে হয়, আর সব খাবারই শরীরের ওপর কোনো না কোনো প্রভাব ফেলে। আবার রমজানে খাদ্যাভ্যাসই বদলে যায়। তাই সুস্থ থেকে পুরো রমজান রোজা রাখার জন্য কিছু উপায় জানা দরকার। পুষ্টিকর খাবার ও জীবনযাত্রার মান বাড়াতে রমজান মাসের রোজা কাজে লাগতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটাই সত্য। রোজা রাখার মাধ্যমে খাদ্য গ্রহণ করার ইচ্ছা সংবরণ করা যায়। ফলে সেটি একটি ভালো অভ্যাসে পরিণত হয় এবং অপ্রয়োজনে বেশি করে খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। রোজায় শরীরে কী কী পরিবর্তন ঘটে রোজার সময় না খেয়ে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, না ক্ষতিকর? তার আগে জানা দরকার রোজা বা না খেয়ে থাকার সময়টায় শরীরে কী কী পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তন নির্ভর করে কতটা সময় না খেয়ে থাকা হলো তার ওপর। খাদ্য গ্রহণ বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই কিন্তু শরীর অনশন (ফাস্টিং স্টেট) অবস্থায় যায় না। সর্বশেষ খাবার গ্রহণের মোটামুটি আট ঘণ্টা পর ফাস্টিং স্টেট শুরু হয়। অর্থাৎ খাবার গ্রহণের আট ঘণ্টা পর্যন্ত ওই খাবার শরীরে হজম হয়, তা থেকে শক্তি সরবরাহ হতে থাকে। আট ঘণ্টা পর ওই খাবারের সরাসরি প্রভাব শরীরে থাকে না। স্বাভাবিক সময়ে লিভার ও মাংসপেশিতে জমে থাকা গ্লুকোজ ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হয়। এটাই শরীরের শক্তির প্রধান উৎস। রোজার সময় প্রথমে জমে থাকা গ্লুকোজ শক্তি উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়। গ্লুকোজ শেষ হয়ে গেলে শরীরে জমে থাকা চর্বি ভেঙে শক্তি তৈরি হয়। আরো কিছু শারীরিক প্রক্রিয়ায় লিভারে সামান্য কিছু গ্লুকোজও এ সময় তৈরি হয় এবং তা থেকে শক্তি উৎপন্ন হয়। যদি দীর্ঘ সময় (২৪ ঘণ্টার বেশি থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত_সাধারণত আমরণ অনশনকারীরা যেটা করেন) না খেয়ে থাকা হয়, তাহলে ধীরে ধীরে শরীরের প্রোটিন ভাঙতে শুরু করে। এভাবে না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে মাংসপেশি শুকিয়ে যেতে থাকে, শরীরে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কোনোমতেই এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অনশন স্বাস্থ্যকর নয়_স্বাস্থ্যহানিকর ও কখনো কখনো প্রাণঘাতী। রোজায় যেহেতু সূর্যোদয় (সুবেহ সাদিক) থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয়, তাতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা ফাস্টিং বা অনশন অবস্থায় থাকতে হয়, তাই সুবেহ সাদিক ও ইফতারে যে খাবার গ্রহণ করা হয়, তা থেকেই শরীর প্রয়োজনীয় গ্লুকোজ জোগাড় করতে পারে। সেহরিতে খাওয়া খাদ্যের গ্লুকোজ যখন আট ঘণ্টা পর শেষ হয়, তখন শরীরে সঞ্চিত চর্বি ভেঙে শক্তি তৈরি হয়। এ কারণেই রোজায় শরীরের ওজন খানিকটা কমে। তাই মাংসপেশির প্রোটিন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। শরীরের বাড়তি এই চর্বি কমে যাওয়ার ফলে কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস পায়, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। একই সঙ্গে শরীরে ডিটঙ্িিফকেশন ঘটে। ডিটঙ্িিফকেশন অর্থ শরীরে জমে থাকা কিছু ক্ষতিকর পদার্থ প্রস্রাব, পায়খানা, ঘাম ইত্যাদি বডি ফ্লুইডের সঙ্গে দ্রবীভূত হয়ে শরীর থেকে বের হয়ে যাওয়া। কয়েক দিন রোজা পালনের পর রক্তে এনডোরফিনসের মতো কয়েকটি হরমোনের মাত্রা বাড়ে। এই হরমোনটি মানুষকে বেশি সচেতন করে, শরীর ও মনকে প্রফুল্ল রাখে। রোজায় সেহরি ও ইফতারে পুষ্টিকর খাবার ও পানির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। শরীরের পানি ও খনিজ লবণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিডনি কাজ করে, বিশেষ করে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে। ঘামের মাধ্যমে যে লবণ বের হয়, তার বেশির ভাগই সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের যৌগ। তাই রোজার সময় যাতে অতিরিক্ত ঘাম হয়ে শরীরে লবণ ও পানির ঘাটতি না হয়, সে জন্য খাদ্যতালিকায় কিছু কার্বোহাইড্রেট, চর্বি, লবণ ও পর্যাপ্ত তরল থাকতে হবে। যে খাবারে উপকার, যে খাবারে ক্ষতি রোজা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে, যদি সঠিক খাদ্যতালিকা মেনে চলা যায়। খাদ্যতালিকা সঠিক না হলে বরং ক্ষতি হতে পারে। মনে রাখতে হবে, রোজা রাখা মানে কিন্তু শুধু না খেয়ে থাকা নয়; বরং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা রোজায় অর্জনের জন্য বিশেষভাবে বলা আছে। রোজার সুফল পেতে হলে সঠিক খাবার পরিমিতভাবে খেতে হবে। কারণ অস্বাস্থ্যকর খাবার শরীর খারাপ করে, মনকে অস্থির রাখে; যা রোজার ধর্মীয় উদ্দেশ্যের একেবারে বিপরীত। পরিমাণে কম হলেও ব্যালান্সড ডায়েট বা পুষ্টিকর খাবার শরীর ঠিক রাখে। স্বাভাবিক সময়ও প্রত্যেকেরই বিজ্ঞানসম্মত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া দরকার। তেমনিভাবে রোজায় খাবার অন্য সময়ের চেয়ে খুব বেশি আলাদা হওয়ার দরকার নেই। খাবারের ধরনের অভ্যাস পরিবর্তন হলে বরং তা স্বাস্থ্যে কিছু ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। রমজানের খাদ্যতালিকায় থাকবে মোট খাবারের তিন ভাগের এক ভাগ ফলমূল ও শাকসবজি। বাকি তিন ভাগের এক ভাগে রাখুন ভাত, রুটি, পাউরুটি, আলুর মতো কার্বোহাইড্রেটজাতীয় খাবার। এর সঙ্গে প্রোটিন হিসেবে রাখুন মাছ, মাংস, অল্প চর্বিযুক্ত খাবার, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার। কার

Admin

0 Comments

Please login to start comments