জাতীয়

রায়ের কপি পেতে ভোগান্তি, ইসিতে বিক্ষোভ


সি নিউজ ডেস্ক: রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করে রায়ের সার্টিফায়েড কপি না পাওয়ায় বিক্ষোভ করেছেন প্রার্থীরা। উচ্চ আদালতে যথা সময়ে আপিল করতে না পারায় শঙ্কা নিয়ে রোববার তারা ইসিতে অবস্থান নেন তারা। পরে কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এরপর দুপুর একটায় ফের তাদের সার্টিফায়েড কপি দেয়া শুরু হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চল্লিশ জন প্রার্থীকে কপি দেয়া হয়েছে। ইসির আইন শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম ও দ্বিতীয় দিনের শুনানির ১৯ জনের না-মঞ্জুর হওয়া রায়ের কপি ইসিতে রয়ে গেছে। চারজনের রায়ের কপি খুঁজে পাচ্ছেন না তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, রোববার সকাল থেকে আপিল না মঞ্জুরের সার্টিফায়েড কপি পেতে ইসিতে ভিড় জমায় অসংখ্য প্রার্থী। তবে দুপুর পর্যন্ত রায়ের কপি না পেয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন তারা। এ সময় অনেকেই কপি না পেয়ে ইসির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন। দুপুর ২টা পর্যন্ত রায়ের সার্টিফায়েড কপি না পাওয়ায় তারা বিক্ষোভ করেন।

ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৯ ডিসেম্বর দুপুর পর্যন্ত মাত্র এক প্রার্থীকে রায়ের কপি দিতে পেরেছেন। আর আপিল মঞ্জুর হওয়া ও না হওয়া প্রার্থীদের তালিকা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। আদালতে রায়ের কপি লাগায় নামঞ্জুর হওয়া প্রার্থীরাই পড়েছেন বিপাকে। নামঞ্জুরের রায়ের কপি নিতে আসা ব্যক্তিরা বলছেন, ৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন। ১০ ডিসেম্বর থেকে প্রার্থীরা প্রচার শুরু করবেন। এখন দুপুর ১টা বাজে। তারা রায়ের কপি দিচ্ছে না।

‘কপি বা কখন, আর আপিলই বা করব কখন! আদালতে আপিল করতে গেলে তো ইসির রায়ের কপি লাগবে। অন্যথায় নির্বাচন থেকে প্রার্থীকে ছিটকে পড়তে হবে’- অভিযোগ করেন তারা।সার্টিফাইড কপি না পেয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমার আপিল আবেদন নামঞ্জুর হয় শুনানির দ্বিতীয় দিন (৭ ডিসেম্বর)। এরপর ৮ ডিসেম্বর, শনিবার সকাল থেকে রাত ২টা পর্যন্ত নির্বাচন ভবনে রায়ের কপি নেয়ার জন্য অপেক্ষা করি। আমার চাচাতো ভাই রফিকুল হায়দার। তারপরও কপি না পেয়ে ফিরে যেতে হয়। আজ সকালে আবার আসি। কিন্তু দুপুর ১টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন রায়ের কপি দেয়নি।’

মোশারফ হোসেনের মতো মনোনয়নপত্র আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনে নামঞ্জুর হওয়া কারও রায়ের কপিই এখন পর্যন্ত দিতে পারেনি ইসি। রায়ের কপি না পেলে আদালতে রিট করার সুযোগ পাবেন না নামঞ্জুর হওয়া প্রার্থীরা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ। বিকেল ৫টার মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থীকে নিজে অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হবে। আর প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে সেমবার। প্রতীক পেয়েই প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন।

নির্বাচনের তফসিল ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, দল ও জোটগুলোকেও চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে। যার অনুলিপি নির্বাচন কমিশনেও (ইসি) পাঠাতে হবে। এরই মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। এবার নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলই নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে।

গত ২৮ নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়। গত ২ ডিসেম্বর রিটার্নিং অফিসাররা যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ-অবৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশের পরদিন ৩ ডিসেম্বর থেকে নির্বাচন কমিশন আপিল গ্রহণ শুরু করে। বুধবার আপিল গ্রহণের শেষ দিন ছিল। এ সময় ৩ হাজার ৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এগুলো যাচাইয়ের পরে ৭৮৬ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ফলে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২ হাজার ২৭৯ জনে। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩০ ডিসেম্বর।

 

Admin

0 Comments

Please login to start comments