আন্তর্জাতিক

রাখাইনে গণহত্যার কথা অস্বীকার করলেন সু চি


নেদারল্যান্ডের হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও এজেন্ট অং সান সু চি।

আজ বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় দ্বিতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক শুরু হয়। সেখানে সু চি নিজ দেশের পক্ষে সাফাই গান।

সু চি তার বক্তব্যের শুরুতে আন্তর্জাতিক আইন ও সনদসমূহের বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে আদালত সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, গণহত্যা সনদের বিধান রুয়ান্ডা এবং সাবেক ইয়োগোস্লাভিয়ায় প্রয়োগ করা হয়নি। গাম্বিয়া বিভ্রান্তিকর তথ্য দাবি করেছে।

সু চি বলেন, ‘রাখাইনে সেনা অভিযানে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ হয়তো উড়িয়ে দেওয়া যায় না, তবে তার পেছনে গণহত্যার উদ্দেশ্য ছিল- এমন ধরে নেওয়াটাও মিয়ানমারের জটিল বাস্তবতায় ঠিক হবে না।’

তবে রোহিঙ্গা নির্যাতনের কথা একেবারেই অস্বীকার করেননি সু চি। তিনি বলেন, ‘রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির সঙ্গে সেনাবাহিনীর লড়াইয়ে দুঃখজনকভাবে সেখানকার মুসলিম জনগোষ্ঠীর বহু মানুষকে বাংলাদেশ পালিয়ে যেতে হয়েছে।’

অভিযুক্ত সেনাদের বিরুদ্ধে বিচার চলছে জানিয়ে সু চি বলেন, ‘মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী সামরিক আদালতে অপরাধী সেনা সদস্যদের বিচার হচ্ছে।’ বেশ কয়েকটি ঘটনায় সেনা সদস্যদের সাজা পাওয়ার কথাও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতকে জানান তিনি।

তবে এর জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে নালিশ করা ঠিক হয়নি দাবি করেন মিয়ানমারের এ নেত্রী। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ হলে দোষী সেনা সদস্যদের বিচার প্রক্রিয়া থমকে যাবে। আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়ার চেয়ে যেকোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিচার প্রক্রিয়া সব সময় দ্রুত সম্পন্ন হয়।’

রাখাইনে এখন স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলেও দাবি করেন সু চি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লোকজনকে এখন ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ চলছে। সেখানে যে এখন গণহত্যা চলছে না এটাই তা প্রমাণ করে।’

গতকাল মঙ্গলবার আইসিজেতে ১৭ জন বিচারপতির উপস্থিতিতে প্রথম দিনের শুনানি হয়। এদিন আদালতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির উপস্থিতিতে অভিযোগকারী আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু মানবতাবিরোধী নৃশংসতার অভিযোগগুলোর সারাংশ তুলে ধরেন।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments