আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের গোপন ই-মেইল ফাঁস 


সি নিউজ ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে 'অক্ষম' ও 'নিষ্ক্রিয়' উল্লেখ করা ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের গোপনীয় ই-মেইল ফাঁস হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার কিম দাররোশ ই-মেইলে হোয়াইট হাউজকে 'বিভক্ত' ও 'অনন্য নিষ্ক্রিয়' বলে উল্লেখ করেছেন। এই তথ্য ফাঁস হয়ে গেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প সমালোচনা করে বলেন, 'আমি আপনাদের বলতে পারি যে, ওই রাষ্ট্রদূত যুক্তরাজ্যের ভালো সেবা করেনি।'

ওয়াশিংটনে সফররত ব্রিটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী লিয়াম ফক্স তথ্য ফাঁসের এই ঘটনাকে অপেশাদারি, বেআইনি এবং অনৈতিক আচরণ বলে জানান।

তিনি বলেন, যে-ই ই-মেইল ফাঁস করেছে 'ক্ষতিকরভাবে' মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্ক ধংসের চেষ্টা করেছে। 'আমাদের এই সম্পর্ক সবচেয়ে বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।'

তিনি বলেন, 'আমি আশা করি যদি আমরা অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা প্রয়োজন হলে আইনের সাহায্যে ব্যক্তিটিকে সনাক্ত করতে পারি, তাহলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারব। জনজীবনে এই ধরনের আচরণের কোনো স্থান নেই।'

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রবিবার ই-মেইল ফাঁসের উৎসের সন্ধানে একটি তদন্ত শুরু করে। নিউ জার্সিতে মিস্টার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা সেই লোকটির (স্যার কিম) বড় ভক্ত নই এবং তিনি যুক্তরাজ্যকে ভালোভাবে সেবা করেনি। 'তাই আমি এটা বুঝতে পারি এবং আমি তার সম্পর্কে কিছু বলতে পারি কিন্তু এতে আমি বিরক্ত নই।' 

কে এই স্যার কিম দাররোশ?
স্যার কিম যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত, যার মানে হচ্ছে তিনি আমেরিকায় ব্রিটিশ রানি এবং যুক্তরাজ্যের আগ্রহের প্রতিনিধি। তার জন্ম ১৯৫৪ সালের ডারহাস্ম শহরের সাউথ স্ট্যানলিতে। তিনি ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিবিদ্যায় পড়াশোনা করেছেন। তার ৪২ বছরের কূটনৈতিক কর্মজীবনে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু ও ইইউ পলিসি বিশেষজ্ঞ।

২০০৭ সালে, স্যার কিম ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে ব্রাসেলসে চাকরি করেন। তিনি ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন যখন ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট গ্রুপের উত্থান, ক্রিমিয়ার রাশিয়ান সংযোজন, ইরানের পারমাণবিক হুমকি এবং লিবিয়ায় সরকার পতনের মতো বিষয় দেখাশোনা করেছেন।

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগদানের পর তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগদান করেছিলেন। ই-মেইলে ওয়াশিংটনকে উদ্দেশ্য করে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন : 'এই প্রশাসন (ট্রাম্প) বেশ স্বাভাবিক হয়ে উঠবে, আরও কার্যকরি, নিশ্চিত, অবিভক্ত, কূটনৈতিকভাবে যৌক্তিক এবং যোগ্য হয়ে উঠবে বলে আমরা সত্যিই বিশ্বাস করতে পারছি না।' এই হোয়াইট হাউস 'কখনো সক্ষম হবে কী' স্যার কিম এই প্রশ্ন ই-মেইলে করেছেন। তবে, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এমন কিছু লেখা উচিত হবে না বলেও সতর্ক করে দিয়েছিলেন।

ফ্রাঙ্কের মতামত : ২০১৭ থেকে বর্তমান পর্যন্ত হোয়াইট হাউজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট 'অন্তর্ঘাত এবং বিশৃঙ্খল' গুজবগুলোর বেশিরভাগ সত্যই ছিল বলে ই-মেইল থেকে জানা যায়। হোয়াইট হাউসে ইরানের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোর নীতিও 'অসঙ্গত, বিশৃঙ্খল' ছিল বলে জানানো হয়। যদিও তদন্তের পরে ট্রাম্পের প্রচারাভিযানে রাশিয়ান ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। স্যার কিম এর ই-মেইলগুলো বলছে, 'সবচেয়ে খারাপকে বাতিল করা যাবে না'।

এ দিকে, ব্রিটিশ কনজারভেটিভ দলের পরবর্তী নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর জন্য লড়াই করা পররাষ্ট্র সচিব জেরেমি হান্ট একে রাষ্ট্রদূতের কাজ বলে দাবি করে।

তিনি বলেন, 'স্পষ্ট মতামত দেয়া তার কাজ তবে সেই মতামত সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন নয়। ফাঁসকৃত ই-মেইল 'ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির' প্রতিফলন, এর সঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।'  তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন 'শুধু খুব কার্যকরই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্রিটেনের সেরা বন্ধুও।'

প্রাক্তন প্রতিরক্ষা সচিব স্যার মাইকেল ফেলন বিবিসি রেডিও ৪ এর আজকের প্রোগ্রামে বলেছেন যে, 'যদি এই ধরনের সামগ্রী প্রকাশিত হয় তবে এটি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত' করে, তবে যেভাবেই হোক স্যার কিমের মেয়াদ 'শেষ হয়ে গেছে'।

একই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখা ব্রেক্সিট পার্টির নেতা নাইজেল ফারেজ বলেন, যদি বরিস জনসন প্রধানমন্ত্রী হন এবং যুক্তরাজ্য যদি ৩১ই অক্টোবরে ইইউ ছেড়ে যায় তবে, আশেপাশে 'স্যার কিমের' মতো মানুষ দেখা যাবে না।

নাইজেল ফারেজ কূটনৈতিক ভূমিকা নিতে পারে এমন গুঞ্জন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, আমার মনে হয় না যে আমি এই কাজের জন্য সঠিক মানুষ। আমি কোনো কূটনৈতিক নই। তবে, মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক মোকাবিলা করার সময় তিনি 'খুব দরকারি হতে পারেন।'  সূত্র: বিবিসি নিউজ

Admin

0 Comments

Please login to start comments