রাজনীতি

মামলা জটিলতায় খালেদাসহ বিএনপির অধিকাংশ প্রার্থী অযোগ্য 


সি নিউজ: মামলা জটিলতায় বিএনপির অধিকাংশ প্রার্থীই অযোগ্য হয়ে পরেছে। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ দন্ড ও সাজাপ্রাপ্ত হয়ে আছে অর্ধেকেরও বেশি এতে করে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশাল প্রভাব পরবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সোমবার দুর্নীতির মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া দন্ড ও সাজা স্থগিত চেয়ে আমান উল্লাহ আমানসহ বিএনপির পাঁচ নেতার করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই আদেশের ফলে দুই বছরের বেশি সাজা বা দন্ড হলে সেই দন্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। যতক্ষণ না, আপিল বিভাগ সে দন্ড বা সাজা বাতিল বা স্থগিত না করে। এ আদেশের আলোকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ থাকছে না বলে দাবি করেছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। তিনি বলেন, দুর্নীতির মামলায় সাজা ও দন্ড পাওয়ার পর খালেদা জিয়া কেবল আপিল করেছেন। যা বাতিল বা স্থগিত হয়নি। তাই বর্তমান অবস্থায় আজকের আদেশটা উনার ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হবে। বিচারপতি মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার আমান উল্লাহ আমানসহ বিএনপির পাঁচ নেতার করা আবেদন খারিজ করে আদেশ দেন। আদেশের পর বিএনপি নেতা ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেনর আইনজীবী খায়রুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘বিচারিক আদালতে দ-প্রাপ্ত পাঁচজন হাইকোর্টে দন্ড স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল, যাতে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তবে আদালত পাঁচটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে। আর আদেশের বিষয়ে দুদকের আইনজীবী খুরশীদা আলম খান বলেছেন, আদালত তাদের পাঁচটি আবেদন খারিজ করেছেন। মূলত একটাই কারণ, সেটা হলো সংবিধানের ৬৬(২) এর (ঘ) অনুচ্ছেদ। এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উনারা নির্বাচন করার যোগ্য নন। এবং তারা সাজা বাতিল চাওয়ার কোনো এখতিয়ার রাখে না।
আইনজীবী খুরশীদা আলম খান আরো বলেন, আদালত তার পর্যবেক্ষণে দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এবং ক্ষমতায় যাওয়ার বিষয়কে নিরুৎসাহিত করেছেন। দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, আজকের এই আদেশটা সবার উপরে বাইন্ডিং। সবার উপরে এটা প্রতিফলিত হবে। তাই উনি (খালেদা জিয়া) সম্পূর্ণ খালাস পেলে অথবা আদালত তার সাজা বাতিল করলেই কেবল তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। বর্তমান অবস্থায় নয়।
আজকে হাইকোর্টে আদেশ হওয়া পাঁচজনের মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়:
১) জ্ঞাত আয় বহির্গত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে বিগত ২১ জুন ২০০৭ সনে ঢাকার ১ নম্বর বিশেষ আদালত আমান উল্লাহ আমানকে ১৩ বছরের কারাদ- ও ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করে। ২০০৭ সালের ১ অক্টোবর তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান।
২) জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালত ডাঃ এজেডএম, জাহিদ হোসেনকে ২০০৮ সালের ২৫ মে ১৩ বছরের সশ্রম কারাদ- ও ১০ লক্ষ টাকা করে। পরে ২০০৯ সালের ৩ জুন তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান।
৩) জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে যশোর বিশেষ জজ আদালত গত ২৫ অক্টোবর ২০১৭ সনে আলহাজ মোঃ মশিউর রহমানকে ১০ বৎসরের সশ্রম কারাদ- ও ৭০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করেন। তিনি ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ সনে হাইকোর্ট থেকে জামিন প্রাপ্ত হন।
৪) জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, তথ্য গোপন ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৬ কোটি ৩৬ লাখ ২৯ হাজার ৩৫৪ টাকার সম্পদ অর্জন করায় ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ আদালত মোট ২০ বছরের সশ্রম কারাদ- এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানার রায় দেয়। ২০০৯ সালের ২৮ হাইকোর্ট থেকে জামিন পান।
৫) জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৯৩ লাখ ৩৬৯ টাকার সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে মোঃ আবদুল ওহাবকে যশোরের বিশেষ জজ গত বছর ৩০ অক্টোবর ৮ বছরের সশ্রম কারাদ- এবং ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে। তিনি এ বিষয়ে আপিল করেন এবং গত বছরের ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন।
দুর্নীতির এসব মামলায় বিচারকি আদালতের দেওয়া দন্ড ও সাজা স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ওয়াদুদ ভূঁইয়া, মোঃ মশিউর রহমান ও মোঃ আব্দুল ওহাব। সেই আবেদন আজ খারিজ করে দিলেন হাইকোর্ট।

Admin

0 Comments

Please login to start comments