মাদক আনে রোহিঙ্গাদের একাংশ : বেনজীর আহমেদ


এক শ্রেণির রোহিঙ্গা মাইন উপেক্ষা করে দেশের অভ্যন্তরে মাদক নিয়ে আসে বলে জানিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, এক শ্রেণির রোহিঙ্গা এত ডেস্পারেট (দুধর্ষ), তারা জিরো লাইন অতিক্রম করে, মাইন উপেক্ষা করে মাদক নিয়ে আসে।'

আজ মঙ্গলবার দুপুরে মাদকবিরোধী সচেতনতার লক্ষ্যে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আয়োজিত বিচ ম্যারাথন ‘চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে, দৌড়াও বাংলাদেশ’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বেনজীর।

র‌্যাব মহাপরচিালক বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বহুমুখী নিরাপত্তা সমস্যা তৈরী করছে। কক্সবাজারে র‌্যাব-১৫ প্রতিষ্ঠার পর গত এক বছরে ৪০ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে ৫-৬ জন।

বেনজীর আহমেদ আরও বলেন, ‘বছরে এক লাখ কোটি টাকার মাদক লেনদেন হয়। এ বিপুল অঙ্কের অর্থ যদি দেশের উন্নয়নে ব্যয় করতে পারি, তাহলে দেশটা আরও এগিয়ে যাবে।’

মাদক, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিকে ‘অভিশাপ’ মন্তব্য করে র‌্যাব ডিজি আরও বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হলে এ তিন অভিশাপ রুখে দিতে হবে। শুধু মাদক ব্যবসায়ীই নয় যারা এর পেছনে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থায়ন করছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মাদকের বিরুদ্ধে সবার জোরদার ভূমিকা প্রত্যাশা করে বেনজীর বলেন, ‘সমাজকে মাদকমুক্ত করার দায়িত্ব শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার নয়। মাদকের বিরুদ্ধে সবারই সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে। সরবরাহ এবং চাহিদা বন্ধ করতে হবে। সবাই একসঙ্গে এগিয়ে এলে আমরা দ্রুতই মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করতে পারবো।’

‘চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে, দৌড়াও বাংলাদেশ’ শিরোনামে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ১০ কিলোমিটার এ ম্যারাথনের আয়োজন করে র‌্যাব ফোর্সেস। এতে অংশ নেয় পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীসহ ১২০০ জন।

অভিভাবকদের উদ্দেশে র‌্যাব ডিজি বলেন, ‘পরিবারকে নজর রাখতে হবে যেন সন্তানরা মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে না যায়। মাদকে জড়ালে তাকে ফিরিয়ে আনার উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। সমাজ-রাষ্ট্রের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে এগিয়ে আসতে হবে।’

এর আগে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বিচ ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন বেনজীর। এরপর তিনি নিজেও বিচ ম্যারাথনে অংশ নেন।

এদিন উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব-৮ বরিশালের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকা ইসলাম, পিপিএম, বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি মিসেস জীসান মীর্জা, বরিশাল বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম- বিপিএম, পিপিএম, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মো. মইনুল হোসেন, পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র মো. মহিউদ্দিন আহম্মেদ, কুয়াকাটা পৌর মেয়র আ. বারেক মোল্লা, কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান প্রমুখ

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments