মাওয়া প্রান্তে এখনই দৃশ্যমান হচ্ছে না পদ্মা সেতু


সি নিউজ ডেস্ক : নকশা জটিলতা কাটলেও এখনই স্প্যান বসানো যাচ্ছে না পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে। ফলে মাওয়া প্রান্তে এখনই দৃশ্যমান হচ্ছে না পদ্মা সেতু। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পিলার ও নদীর তলদেশ জটিলতায় মাওয়া প্রান্তের ৬ ও ৭ সম্বর পিলারের কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। এ কাজ শেষ করতে আরও কিছু সময় লাগবে।

জানা গেছে, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে একটি এবং শেষ দিকে আরেকটি স্প্যান বসানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে যদি ৬ ও ৭ নম্বর পিলারের জটিলতা কেটে যায় তাহলে সিদ্ধান্ত বদলাবে।

পদ্মা সেতু প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, মাওয়া প্রান্তে নদীর তলদেশে মাটি ও নদী শাসনগত জটিলতায় ৬ ও ৭ নম্বর পিলার নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। তাই নকশা পরিবর্তন করে ৬ ও ৭ নম্বর পিলার দাঁড় করানো হবে ৭টি পাইলের ওপর। ফলে মাওয়া প্রান্তে সেতু দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলেও সেই সম্ভাবনা বর্তমানে অনেকটাই স্তিমিত। যদিও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বলেনি।  

এরই মধ্যে জাজিরা প্রান্তে ৭টি স্প্যান বসানো হয়েছে এবং মাওয়া প্রান্তে একটি স্প্যান অস্থায়ীভাবে রাখা আছে। পদ্মা সেতুর মোট ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যান বসবে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২০টি স্প্যান বাংলাদেশে এসেছে। মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডে স্প্যানের টুকরো অংশগুলো জোড়া লাগিয়ে রঙ করা হয়। পরে সেখান থেকে ‘তিয়ান-ই’ ক্রেনে বহন করে পিলারের ওপর বসানো হয়।

জানা গেছে, কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডে আরও ৭টি স্প্যান জোড়া দেওয়া হয়েছে এবং দু’টি স্প্যানের রঙ করা শেষ। আর বাকি স্প্যানগুলো জোড়া দেওয়ার কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে।

শুরুতে মাওয়া প্রান্তকে ঘিরে সাজানো হয়েছিল সব পরিকল্পনা। সেই লক্ষ্যে ৬ নম্বর পিলারের কাজও ধরা হয়েছিল। তবে মাওয়া প্রান্তের ২২টি পিলারের নিচের মাটির গঠনগত জটিলতায় পাল্টে যায় সব পরিকল্পনা। নকশা জটিলতার সমাধানও মিলেছিল। এই সমাধানে প্রকল্পের মাওয়ার ২, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর পিলারের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এই পিলারগুলোর ওপরে পাইল ক্যাপও বসানো হয়েছে। এখন যে কোনও দিন এই চারটি পিলারের ওপর স্প্যান বসানো সম্ভব।

সূত্র আরও জানায়, কারিগরি জটিলতায় পরের স্প্যানগুলো বসাতে সময় বেশি লাগবে। কারণ সেতুর ৪২টি পিলারের প্রতি ছয়টি পিলারকে একটি মডিউল হিসেবে ধরে পুরো সেতুকে ৭টি ভাগে ভাগ করে চলছে সেতুর কাজ। সে হিসেবে ৭ নম্বর মডিউলের ৫টি স্প্যানের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন বিচ্ছিন্নভাবে স্প্যান না বসিয়ে একটি করে মডিউলের কাজ ধরা হবে বলে জানিয়েছেন পদ্মাসেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম।

তিনি জানিয়েছেন, এখন থেকে পুরো সেতুর ৭টি মডিউলের কাজ শেষ করেই স্প্যান বসিয়ে দেওয়া হবে। এখন আর বিচ্ছিন্নভাবে স্প্যান বসানোর কাজ হবে না। মাওয়া প্রান্তে এখন পুরোদমে কাজ চলছে।

সূত্র জানিয়েছে, পরিবর্তিত ডিজাইন অনুযায়ী ৬ ও ৭ নম্বর পিলারের আরও ৪টি করে পাইল স্থাপন এবং গভীরতায় খানিকটা কম বেশি করা হচ্ছে। ২, ৩, ৪,  ৫ ও ১৩ নম্বর পিলারের কাজ সম্পন্ন। ১৪ নম্বর পিলারের কাজও একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে।
১৬টি পাইলের মধ্যে ১২টি পাইল সম্পন্ন। তবে এই পাইল বসানোর পরও পিলার উঠতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে। তাই এক প্রান্ত থেকে স্প্যান বসানো বিলম্ব হচ্ছে।

এদিকে চীন থেকে আসা স্প্যানের স্তূপ হয়ে আছে মাওয়ার কুমারভোগের বিশেষায়িত ওয়ার্কসপে। স্প্যান রাখার আর জায়গা নেই। কুমারভোগের এই ওয়ার্কসপে এখনও ১৩টি স্প্যান রয়েছে। এ পর্যন্ত ১৮টি স্প্যান চীন থেকে আনা হয়। বাকি ৫টি স্প্যান সেতুতে ফিটিং করা হয়েছে। তাই ১ প্রান্তের পরিবর্তে আপাতত মাঝের খুঁটি থেকেই স্প্যান বসানো শুরু হচ্ছে। শিগগরিই ১ নম্বর মডিউলের ৬টি স্প্যানের মধ্যে ৩টি বসিয়ে দেয়া হবে। এমনভাবে বসানো হবে যাতে পরে আবার নাড়াচড়া করা যায়। কারণ ৬ ও ৭ নম্বর পিলার এবং ১ নম্বর পিলার উঠে গেলে পাকাপোক্তভাবে স্থাপন করা হবে স্প্যন। এতে ওয়াকর্সপের জায়গা খালি হবে।

এ প্রসঙ্গে অসুস্থ হওয়ার আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘কন্ডিশন অনুযায়ী চীন থেকে স্প্যানগুলো আগে আসবে। নদীর কন্ডিশন, আবহাওয়া সব কিছু মিলিয়ে কাজ করতে হবে। এখানে তো আর গায়ের জোরে কিছু করা যাবে না।’

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বসানো হয় প্রথম স্প্যান। এখন পর্যন্ত ৭টি স্প্যান বসানো হয়েছে। এর মাধ্যমে জাজিরা প্রান্তে দৃশ্যমান হয় সেতুর ১০৫০ মিটার। তবে মাওয়া প্রান্তের দিক থেকে প্রায় মাঝ নদীতে ১২ ও ১৩ নম্বর পিলার দু’টিও প্রস্তুত করা হয়েছে।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments