আন্তর্জাতিক

মহাকাশে স্যাটেলাইট ধ্বংস করে ভয়ানক কান্ড করেছে ভারত


সি নিউজ ডেস্ক : ভারতের ধ্বংস হওয়া স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহের ৪০০টি খন্ড মহাকাশে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে নাসা। একে ভয়ানক ব্যাপার হিসেবে অভিহিত করেছে তারা।

গত সোমবার ভূ-পৃষ্ঠ থেকে মিসাইল ছুড়ে নিজেদের পুরনো একটি স্যাটেলাইট ধ্বংস করেছে ভারত। যার মধ্যমে দেশটি বিশ্বের মহাকাশ পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে বলে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এটিকে ভয়ানক ব্যাপার হিসেবে অভিহিত করেছে। ঘটনার ৫ দিন পর নাসা প্রধান জিম ব্রাডেনস্টাইন এই মন্তব্য করেছেন।

ভারতের কর্মকান্ডের ফলে যে ধ্বংসাবশেষ তৈরি হয়েছে তার কিছু অংশ এমনকি আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে আঘাত হানতে পারে বলেও শংকা প্রকাশ করেন তিনি। সোমবার তিনি নাসার কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দিচ্ছেলেন।

ভারতের পদক্ষেপের সমালোচনা করে ব্রাইডেনস্টাইন বলেন, ‘এটা অগ্রহণযোগ্য। আমাদের উপর এর কী প্রভাব পড়বে সে বিষয়ে নাসার পরিষ্কার হতে হবে।’ যদিও স্যাটেলাইট ধ্বংসের কারণে কোনো ক্ষতি হতে পারে এমন শঙ্কা শুরু থেকেই উড়িয়ে দিয়ে আসছে ভারত।

ভারতের এই পরীক্ষার কারণে স্যাটেলাইটটির ৪০০ ধ্বংসাবশেষ মহাকাশে ছড়িয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করেছেন নাসা প্রধান।

জানান, ১০ সেন্টিমিটার বা তার চেয়ে বড় আকারের খন্ডগুলো তারা এখন অনুসন্ধান করছেন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬০টিকে অনুসরণ করা সম্ভব হয়েছে।

ভারতের ঘোষণা অনুযায়ী, ১৮০ মাইল বা ৩০০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থিত নিজেদের একটি পুরাতন স্যাটেলাইট তারা ধ্বংস করেছে । এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র বা আইএসএস থেকে যথেষ্ট নীচে।

কিন্তু ২৪টি ধ্বংসবস্তু সেই উচ্চতাকে ছাপিয়ে গেছে বলে তথ্য দিয়েছেন ব্রাইডেনস্টাইন। ‘আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের উপরে ধ্বংসাবশেষ পৌঁছাতে পারে এমন একটা ঘটনা ঘটানো ভয়ানক, ভয়ানক একটি ব্যাপার।

এই ধরনের কর্মকান্ড ভবিষ্যৎ মহাকাশ যাত্রার সাথে কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ নয়।’

আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে স্যাটেলাইটে আঘাত হানতে পারে মহাকাশের এমন বস্তু পর্যবেক্ষণে রাখে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংস্থা। তাদের নজরদারিতে এখন ২৩ হাজার বস্তু রয়েছে যার আকার ১০ সেন্টিমিটারের বেশি ।

এর মধ্যে ১০ হাজার খন্ডই কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তৈরি বর্জ্য। এর বেশিরভাগই তৈরি হয়েছে একটি মাত্র ঘটনায়। ২০০৭ সালে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫০৭ মাইল উচ্চতায় স্যাটেলাইট বিধ্বংসী অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল চীন, তাতে এমন তিন হাজার ধ্বংসাবশেষ তৈরি হয়।

ব্রাইডেনস্টাইন জানিয়েছেন, নতুন করে ভারতের পরীক্ষার পর এসব আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের সাথে এসব বস্তুকণার আঘাত হানার সম্ভাবনা গত দশদিনে ৪৪ ভাগ বেড়ে গেছে।

তবে সামনের দিনগুলোতে এই হার কমতে থাকবে। কেননা এসব ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশের সময় পুড়ে যাবে। 

ভারতের স্যাটেলাইট বিধ্বংসী অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর ২ দিন পরই যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেন।

আর কেউ যাতে ভারতের পথ অনুসরণ না করে সে বিষয়েও সতর্ক করে দেন তিনি। এর ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের কারণে মহাকাশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্যাট্রিক।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই শংকা তখন উড়িয়ে দিয়েছিল। তাদের দাবি, স্যাটেলাইটটির অবস্থান পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথেই ছিল। যার কারণে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ধ্বংসাবশেষগুলো ক্ষয় হয়ে যাবে, নয়ত পৃথিবীর উপর পড়বে।

Admin

0 Comments

Please login to start comments