ভুয়া ঠিকানা দিয়ে রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলোয় নিবন্ধন করেন চালকরা


সি নিউজ ডেস্ক : অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলোতে চালকরা ভুয়া ঠিকানা দিয়ে নিবন্ধন করছেন বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। এ বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখতে রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। তা না হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (২৮ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

২৫ এপ্রিল সকালে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহমিদা হক লাবণ্য (২১) নিহত হওয়ার পর তাকে বহনকারী উবার বাইকার সুমনকে ২৬ এপ্রিল মোহাম্মদপুর থেকে এবং ২৭ এপ্রিল কাভার্ডভ্যানসহ চালক আব্দুর রহমানকে আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার করে শেরে বাংলা নগর থানা পুলিশ।

চালকদের গ্রেফতার পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কলেজ গেটে অবস্থানকালে তার থেকে পাঁচ মিনিটের দূরত্বে অবস্থানকারী একজন উবার কলারের (ফাহমিদা হক লাবণ্য) কল পেয়ে সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে সুমন তাকে ফোন দেন। লাবণ্য খিলগাঁও ছায়াবীথি মসজিদের সামনে যেতে চান জানিয়ে সুমনকে শ্যামলী ৩ নং রোডের ৩১ নং বাসার সামনে আসতে বলেন। সেখান থেকে লাবণ্যকে নিয়ে কলেজ গেট দিয়ে গন্তব্যে রওনা হন চালক।’

তিনি বলেন, লাবণ্যকে বাইকে উঠিয়ে চালক বেপরোয়া গতিতে বাইক চালাচ্ছিলেন। বাইকটি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কাছাকাছি আসলে পেছন থেকে একটি কাভার্ডভ্যান বাইকটিকে ধাক্কা দেয়। এসময় বাইক থেকে পড়ে যান লাবণ্য। কাভার্ডভ্যানটি তার ওপর দিয়ে চালিয়ে পালিয়ে যায়। পথচারী ও বাইকার লাবণ্যকে নিয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ‘হাসপাতালে উবারের বাইকচালক সুমন যে ঠিকানা দিয়েছিলেন সেই ঠিকানা ভুয়া। এমনকি তার নম্বরটি দিয়ে যে বিকাশ এ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে সেটাও ভুয়া। এসব ঠিকানায় তাকে পাওয়া যায়নি। উবারে রেজিস্ট্রেশনের জন্য সুমন যে ঠিকানা দিয়েছেন তাও ভুয়া। তাই তাকে কোথাও পাওয়া যায়নি।

উবারে ভুয়া ঠিকানা দিয়ে রাইডার নিবন্ধন করে সড়কে বাইক চালানোর অনুমতি পায়। এটা দেখার কেউ নেই। রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলো কোনও যাচাই বাছাই ছাড়াই চালকদের অনুমতি দিচ্ছে। এসব চালক দক্ষ না, মাদকসেবী কেউ কেউ। নারীদের বাইকে তুলে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হঠাৎ হঠাৎ বাইকে ব্রেক ধরে। এগুলো মনিটরিং করে না রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলো। তাদের আরোহীদের জন্য নিম্নমানের হেলমেট দেওয়া হয়। এসব দ্রুত ঠিক করতে হবে।’

সুমন ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করায় তাকে খুঁজে পেতে পুলিশের সময় লেগেছে। উবার কর্তৃপক্ষও প্রথমে সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। সুমনকে ২৬ এপ্রিল রাতে মোহাম্মদপুরের নবীনগর এলাকার একটি বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

ঘটনার পর কাভার্ডভ্যানসহ চালক আব্দুর রহমান পালিয়ে যান। বিপ্লব কুমার বলেন, ‘সড়কের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গেলেও সেগুলো স্পষ্ট ছিল না। তাই কাভার্ডভ্যানটি শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। পরবর্তী সময়ে একটি সিসি ক্যামেরায় কাভার্ডভ্যানের গায়ে লেখা কোম্পানির নাম দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়। এরপর আশুলিয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।’

রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলোর অনিয়মের বিষয়ে উবারের সিনিয়র ম্যানেজার আরমানুল রহমান বলেন, ‘রাইড শেয়ারিংয়ের একটা নীতিমালা হচ্ছে। আমরা পুলিশ, সরকার, বিআরটিএ’র সঙ্গে কাজ করছি। সেবাটি কীভাবে আরও ভালোভাবে দেওয়া যায় সেই চেষ্টা করছি।’

নিম্নমানের হেলমেট ও ভুয়া ঠিকানায় চালকদের নিবন্ধনের বিষয় জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ‘দুর্ঘটনায় রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলোর কোনও গাফিলতি তদন্তে পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments