ভুয়া জন্মদিন পালন, খালেদাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ

ভুয়া জন্মদিন পালন, খালেদাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ

সিনিউজ : ভুয়া জন্মদিন পালন মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত বৃহস্পতিবার বকশিবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে ভুয়া জন্মদিন পালন মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশীদ আলম মুক্তিযুদ্ধকেকলঙ্কিতকরার মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীব আদেশ দেন। 

আদালত আগামী জুলাই পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, চার মাস ধরে খালেদা জিয়া কারাগারে আটক রয়েছেন। পুলিশ চার মাসেও তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করতে পারেনি, এটা তাদের ব্যর্থতা। সব বিবেচনায় মাথায় রেখে খালেদা জিয়ার জামিন চাই

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বলেন, পতাকা অবমাননা ভুয়া জন্মদিন পালন মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। পরোয়ানাটি আগে কার্যকর তার পর জামিন শুনানি হবে

এর আগে ২৫ এপ্রিল খালেদার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া জিয়া উদ্দিন জিয়া তার জামিনের আবেদন করেন। আদালত শুনানির জন্য ১৭ মে দিন ধার্য করেন। অন্যদিকে খালেদাকে হাজির করানোর জন্য আবেদন করেন আইনজীবীরা। আদালত বিষয়ে আদেশের জন্য একই দিন ধার্য করেন আদালত সূত্র জানায়, বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী। 

অন্যদিকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অপর মামলাটি করেন।আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে খালেদাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম মাজহারুল ইসলাম বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেনঅভিযোগ, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতা হারিয়ে খালেদা জিয়া মিথ্যা কাগজপত্র তৈরি করে ১৫ অগস্ট জাতীয় শোক দিবসে জন্মদিন পালন শুরু করেন কেবল জাতির পিতাকে অসম্মান করে স্বাধীনতাবিরোধী-সহ দেশবিরোধীদের হাস্যরসের খোরাক যোগাতে জন্মদিন পালন শুরু করেন তিনি যা জাতির সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা

বিভিন্ন মাধ্যমে খালেদা জিয়ার পাঁচটি জন্মদিন পাওয়া গেলেও কোথাও ১৫ অগস্ট পাওয়া যায়নি। অবস্থায় তিনি পাঁচটি জন্মদিনের একটিও পালন না করে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ অগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীর জাতীয় শোক দিবসে আনন্দ উৎসব করে জন্মদিন পালন করে আসছেন। শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু তাঁর পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার জন্য তিনি শোকের ওই দিনে জন্মদিন পালন করেন

মামলায় আরও বলা হয়, কেবল ভুয়া জন্মদিনের ঘোষণা করেই ক্ষান্ত হননি খালেদা জিয়া। বরং ব্যাপক প্রচার করেতা পালন করছেন। তাঁর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগস্ট নির্মম ভাবে নিহত বঙ্গবন্ধু তাঁর পরিবার সদস্যদের নামে নানা রকম কুৎসা, বানানো গল্প প্রচার গুজবের মাধ্যমে তাদের সম্মানহানী ঘটানো হয়। ভাবে কুরুচিকর বক্তব্যের মাধ্যমে জাতিকে বিভ্রান্ত করা-সহ স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধপরাধীদের নিয়ে আনন্দ উল্লাস করে দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাওয়া হয়যা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের আইন, রাষ্ট্র এবং সংবিধানবিরোধী কর্মকাণ্ডখালেদা জিয়ার একাধিক জন্মদিন নিয়ে ১৯৯৭ সালের ২২ অগস্ট এবং ১৯৯৭ সালের ২৭ অগস্ট বেশ কিছু সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রচারিত হয় সেখানে লেখা হয়, এসএসসি পরীক্ষার মার্কশিট অনুযায়ী খালেদা জিয়ার জন্মদিন ১৯৪৬ সালের সেপ্টেম্বর ১৯৯১ সালের ২০শে মার্চ তারিখে দৈনিক বাংলা পত্রিকায় সরকারী সংবাদ সংস্থা থেকে পাঠানো তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবনী ছাপা হয় এতে উল্লেখ করা হয়, তাঁর জন্মদিন ১৯৪৫ সালের ১৯শে অগষ্ট

ছাড়া খালেদা জিয়ার কাবিন নামায় জন্মদিন উল্লেখ করা আছে, ১৯৪৪ সালের অগস্ট এবং সর্বশেষ ২০১১ সালের তার মেশিন রিডেবল পাসপোর্টে তার জন্মদিন উল্লেখ করা হয়েছে আগস্ট ১৯৪৬

১৯৯৭ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়া ভাবে ভূয়া জন্মদিন পালন করে জাতিকে বিভ্রান্ত করেছেন। সর্বশেষ চলতি বছর খালেদা জিয়া কেক না কাটলেও তাঁর জন্মদিন পালন করতে মিলাদের আয়োজন করে বিএনপি