আন্তর্জাতিক

ভারতের গুরুগাঁওয়ে প্রকাশ্যে জুমার নামাজে বাধা


সিনিউজ: ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগাঁওয়ে একটি খালি জায়গায় প্রকাশ্যে জুমার নামাজ আদায়ে বাধা দেয়ায় এটি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে। মুসলিম কমিউনিটির প্রতিনিধিরা জানিয়েছে, নির্ধারিত স্থানে নামাজে বাধা দেয়ার পর তারা একটি জায়গা ভাড়া করেছিলেন কিন্তু সেখানেও তাদের নামাজ পড়তে দেয়া হয়নি। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের। নেহরু যুব সংস্থা কল্যাণ সোসাইটি চ্যারিট্যাবল ট্রাস্টের প্রধান ওয়াজিদ খান বলেছেন, মৌসসারি মেট্রো স্টেশনের কাছে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য আমাদের জায়গা দেয়া হয়। কিন্তু সেখানে আমাদের নামাজে বাধা দেয়া হয়। তখন আমরা হরিয়ানা নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন আরেকটি পার্কে নামাজ পড়তে যাই, কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা আপত্তি জানায়। তিনি বলেন, শেষপর্যন্ত আমরা নাথুপুর গ্রামে একটি জায়গা ভাড়া নিতে সক্ষম হই। কিন্তু এ সপ্তাহে তারা জানিয়েছে যে, আমরা এখানে আর নামাজ পড়তে পারবো না। ওয়াজিদ খান বলেন, যে ব্যক্তি আমাদের জায়গা ভাড়া দিয়েছেন তিনি বলেছেন গ্রামের মানুষজন তাকে সতর্ক করে দিয়েছে। তারা ওই ব্যক্তিকে বলেছে, সে যেন আমাদের নামাজের জায়গা দেয়া বন্ধ না হলে তাকে গ্রাম ছাড়তে হবে। তাই তিনি আমাদের এখন অন্যত্র নামাজ আদায় করতে বলছেন। ডিএলএফ ফেজ থ্রি’র একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন যে, তারা একটি অভিযোগ পেয়েছেন। এএসআই নরেশ কুমার বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি যে নির্ধারিত স্থানের বাইরে নামাজ আদায় হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এদিকে মুসলিম কমিউনিটির কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেছেন, শুক্রবার সেক্টর ৩৪-এ এক দল মুসল্লি নামাজ পড়তে গেলে তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলে পুলিশ। তবে সদর পুলিশ স্টেশনের এসএইচও এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তিনি বলেছেন, লিখিত বা মৌখিকভাবে এ ধরনের কোনও নির্দেশই দেয়া হয়নি। এর আগে গেলো ২০ এপ্রিল ছয়জন ব্যক্তি ‘ছয় শ্রী রাম’ ও ‘রাধে রাধে’ স্লোগান দিয়ে সেক্টর ৫৩-এ প্রকাশ্যে নামাজ আদায়ে বাধা দেয়। তখন ওই ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হলেও তারা জামিনে ছাড়া পান।কয়েকটি ঘটনার প্রেক্ষিতে বেশ কিছু সংগঠন মিলে সংযুক্ত হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি গঠন করে। এই সংগঠনটি প্রকাশ্যে নামাজ নিষিদ্ধের দাবি করছে। পরে তারা জানায়, জুমার নামাজ কেবল পাঁচটি উন্মুক্ত স্থানেই পড়তে হবে।

Admin

0 Comments

Please login to start comments