বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণেই ৩৯% অগ্নিকান্ড


সি নিউজ ডেস্ক : দেশে অগ্নিকান্ডের সিংহভাগই হয় বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে। শর্ট সার্কিট, নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহার কিংবা বছরের পর বছর তদারক না করায়  বৈদ্যুতিক গোলযোগে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর দেশে মোট অগ্নিকান্ডের ৩৯ শতাংশ ছিল বৈদ্যুতিক কারণে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে  বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবহার হলেও সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিবর্তন করা হয় না। এছাড়া দৈনন্দিন প্রয়োজনে আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় ইলেকট্রনিকস পণ্যের ব্যবহারও বাড়ছে দ্রুত। ইলেকট্রনিকস পণ্যের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে অগ্নিঝুঁকিও। এছাড়া ভবন নির্মাণের সময় ব্যবহার করা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত পরিবর্তন করা হয় না। ফলে নড়বড়ে কানেকশন কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি তৈরি করছে। ফলে প্রতি বছর সংঘটিত অগ্নিকা-ের সিংহভাগই বৈদ্যুতিক কারণে হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সারা দেশে অগ্নিকান্ড ঘটে মোট ১৯ হাজার ৬৪২টি। এর মধ্যে ৭ হাজার ৮২৫টি অগ্নিকান্ডের কারণ ছিল বৈদ্যুতিক ত্রুটি। অর্থাৎ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, ব্যবহারকারীর বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকেই এসব অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়েছে। বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে সৃষ্ট এসব আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২০৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এছাড়া এসব অগ্নিকান্ডে উদ্ধার করা হয়েছে ১ হাজার ৫৪ কোটি ৪১ লাখ টাকার সমপরিমাণ সম্পদ।

ফায়ার সার্ভিসের সর্বশেষ প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৮ সালে অগ্নিকান্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কারণ চুলার আগুন। ওই বছর ৩ হাজার ৪৪৯টি বা ১৮ শতাংশ অগ্নিকান্ড ঘটেছিল চুলার আগুন থেকে। এছাড়া ৩ হাজার ১০৮টি বা ১৫ শতাংশ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয় জ্বলন্ত সিগারেটের টুকরা থেকে।

অন্যদিকে গত বছর ছোটদের আগুন নিয়ে খেলার কারণে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে ৫৮৯টি, যন্ত্রাংশের ঘর্ষণের কারণে ৩১৫টি, হামলা ও আইনভঙ্গের কারণে ২৫৭টি, মাত্রাতিরিক্ত তাপ সৃষ্টির কারণে ১৬৫টি, মিস ফায়ার ৬৫০টি, চিমনি থেকে ৪৯টি, রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ায় ৩৪টি ও বাজি পোড়ানোয় ৪২টি। যদিও অজ্ঞাত কারণে ১ হাজার ৪১১টি বা ৭ শতাংশ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব আগুনে সর্বমোট ৩৮৬ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ১ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকার মালপত্র।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী বলেন, বাসাবাড়ি কিংবা বাণিজ্যিক ভবনগুলোয় ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলো থেকে অগ্নিকান্ডের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা নেই ব্যবহারকারীর মধ্যে। ফলে অগ্নিকান্ডের কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক কারণই সবার উপরে উঠে এসেছে। এখন থেকে সতর্ক না হলে আগামীতে বৈদ্যুতিক কারণে অগ্নিকান্ডের ঘটনা আরো বাড়বে।

ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি বাসাবাড়িতে ইন্টেরিয়র পরিবর্তন কিংবা রঙ করা হয়। কিন্তু  বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের কোনো পরিবর্তন হয় না। ভবন নির্মাণের সময় যে কেবল ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি যুগের পর যুগ ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া এ দেশের বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনও নানাভাবে ত্রুটিপূর্ণ অবস্থায় সড়ক ও ভবনসংলগ্ন এলাকায় রয়েছে। ফলে বৈদ্যুতিক কারণে অগ্নিকান্ডের ঘটনাও বেড়ে যাচ্ছে। যে কোনো পণ্যের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকলেও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার অনুপযোগী না হওয়া পর্যন্ত পরিবর্তন করা হয় না। এসব কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে ভবনের অন্য ঝুঁকির সঙ্গে সমন্বয় করে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও পরিবর্তন কিংবা তদারক প্রয়োজন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক (চট্টগ্রাম) মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, অধিকাংশ ভবনে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এগুলো অগ্নিঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি ভবনের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষের বসবাস, অতিরিক্ত আসবাব ও ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবহার আগুনের ঝুঁকি দ্বিগুণ করে। অগ্নিনিরাপত্তায় অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে এসব সমস্যারও সমাধান করতে হবে।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments