আন্তর্জাতিক

বিশ্বে ৭ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত


সি নিউজ ডেস্ক : গত  বছর সাত কোটিরও বেশি মানুষ যুদ্ধ, নিপীড়ন ও সংঘাত থেকে বাঁচতে নিজেদের দেশ তথা অঞ্চল থেকে পালিয়েছে। গত ৭০ বছরে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার হিসেবে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা।

সংস্থাটির ‘গ্লোবাল ট্রেন্ডস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর সাত কোটি আট লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুতে বাধ্য করা হয়েছে। এর আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ২৩ লাখ বেশি। বিগত ২০ বছরের মধ্যেও এই সংখ্যা দ্বিগুণ বেশি। সংখ্যাগত এই হিসেবে প্রতিদিন গড়ে ৩৭ হাজার মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার হাই কমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বলেছেন, ‘এই সংখ্যাগুলিতে আমরা যা দেখছি তা হচ্ছে যুদ্ধ, সংঘাত ও নিপীড়ন থেকে মানুষের নিরাপত্তার জন্য আরো দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘যদিও শরণার্থী ও অভিবাসীদের ভাষা প্রায় বিভেদমূলক, তারপরেও আমরা উদারতা ও সংহতির প্রকাশ দেখছি, বিশেষ করে যারা বিপুল সংখ্যাক শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছেন তাদের মাঝে।

প্রতিবেদনে তিনটি প্রধান শ্রেণিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের প্রথমটি হচ্ছে, শরণার্থী অথবা যুদ্ধ, সংঘাত ও নিপীড়নের কারণে যাদের দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। ২০১৮ সালে বৈশ্বিক শরণার্থীর সংখ্যা ছিল দুই কোটি ৫৯ লাখ। এদের মধ্যে ৫৫ লাখই হচ্ছে ফিলিস্তিনের শরণার্থী।

দ্বিতীয় শ্রেণিতে রয়েছে ৩৫ লাখ অভিবাসন প্রত্যাশী। এদের জন্ম নিজেদের মাতৃভূমির বাইরে। এরা আন্তর্জাতিক সুরক্ষার মধ্যে রয়েছে। তবে এরা এখনো শরণার্থীর মর্যাদা পায়নি।

তৃতীয় শ্রেণিতে রয়েছে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী। সহিংসতার কারণে দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীর সংখ্যা চার কোটি ১৩ লাখ।

বিশ্বের শরণার্থীদের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশই সিরিয়া, আফগানিস্তান, দক্ষিণ সুদান, মিয়ানমার ও সোমালিয়া থেকে আসা। অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় সিরিয়ার শরণার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি-৬৭ লাখ। তালিকায় এর পরের অবস্থানে থাকা আফগানিস্তানের শরণার্থীর সংখ্যা ২৭ লাখ।
 

Admin

0 Comments

Please login to start comments