বিনোদন

বিনোদন জগৎ বদলে দেয়া নেটফ্লিক্স


সি নিউজ ডেস্ক : পৃথিবীর সব কিছুরই একটা স্বাভাবিক আচার হলো বদলে যাওয়া। সেই ধারায় ক্রমে ক্রমে বদলে গেছে আমাদের বিনোদন মাধ্যম। বিংশ শতাব্দীতে সিনেমা এসে যাত্রা থিয়েটারকে সরিয়ে জায়গা করে নিয়েছিল। এরপর টেলিভিশনের আগমনে সিনেমা ঢুকে গিয়েছিল মানুষের শোবার ঘরে।

স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এক দেশের মানুষ দেখতে পেতো অন্য দেশের অনুষ্ঠান। সে সময়ে মনে হতো ক্যাবল টিভির বুঝি বিকল্প নেই।

একবিংশ শতাব্দীতে এসে সে ধারণা বদলে দিল ইন্টারনেট। বর্তমান সময়ে বিনোদন জগতের এক নতুন মাধ্যম নেটফ্লিক্স। একে ইন্টারনেট টেলিভিশনও বলা যায়। বিনোদনধর্মী এই প্রতিষ্ঠানটি প্রথম যাত্রা শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯৭ সালে এবং ২০১১ সাল থেকে কনটেন্ট প্রযোজনা শিল্পে তাদের যাত্রা শুরু হয় ‘হাউজ অব কার্ডস’ ধারাবাহিকটির অনলাইন প্রকাশের মধ্য দিয়ে।

সেই যে শুরু হলো এরপর ২০১৬ সালে তারা আনুমানিক ১২৬টি চলচিত্র ও ধারাবাহিক প্রকাশ করে যা বিশ্বজুড়ে যে কোনো গ্রাহক যে কোনো স্থান থেকে অনলাইন স্ট্রিমিং এর মাধ্যমে উপভোগ করতে পারবেন।

প্রথমে তারা সম্পূর্ণ নিজস্ব কনটেন্ট ‘নেটফ্লিক্স অরিজিনালস’-এ দর্শকদের জন্য নিয়ে আসে। বর্তমানে ১৯০টি দেশে নেটফ্লিক্স ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ব্রাজিল, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া এবং আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ আরো কুড়িটি দেশ তাদের অনুষ্ঠানসমূহ নির্মাণের সাথে জড়িত।

নেটফ্লিক্স-এ প্রচারিত জনপ্রিয় কিছু ধারাবাহিকের মধ্যে অন্যতম চিলিং এডভেঞ্চার অব সাবরিনা, গ্লো, সেক্স এডুকেশন, বিগ মাউথ, লুজারস, মারভেলের ডেয়ারডেভিল ও জেসিকা জোনস, নারকোস, সেন্স৮, গ্রেস অ্যান্ড ফ্র্যাঙ্কি, মার্কো পোলো এবং আরো বহু। ‘চিলিং এডভেঞ্চার অফ সাবরিনা’ অতিপ্রাকৃত ঘটনাবলি সম্বলিত একটি থ্রিলার ধর্মী সিরিজ।

২০১৮ সালে সর্বাধিক দর্শক জনপ্রিয়তা ও ইতিবাচক রিভিউ পায় নেটফ্লিক্স অরিজিনালস’ এর এই সিরিজটি। এছাড়াও নেটফ্লিক্সে দেখা মিলবে এনিমেটেড সব চমকপ্রদ সিরিজ এবং সিনেমার, যা বিভিন্ন বয়সী দর্শকদের আকৃষ্ট করতে বাধ্য।

নেটফ্লিক্স কেবল যুক্তরাজ্যেই আটকে নেই। ধীরে ধীরে চলে এসেছে ভারতেও। ভারতের প্রথম নিজস্ব ধারাবাহিক ‘স্যাক্রেড গেমস’ প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালে। ২০টি ভাষায় এর সাবটাইটেল করা এই সিরিজে বলিউডের সাইফ আলী খান, নেওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী ও রাধিকা আপ্তে প্রমুখ জনপ্রিয় তারকারা অভিনয় করেছেন। সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘দিল্লী ক্রাইম’ও দারুণ প্রশংসিত।

‘নেটফ্লিক্স এন্ড চিল’ নামক যেই ট্রেন্ডের উদ্ভব হয়েছে বর্তমান সময়ে তা এই যুগের যুবসমাজের মধ্যে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিনেমা হল কিংবা টেলিভিশন কেন্দ্রিকতা কমে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।

ব্রডব্যান্ড সুবিধা থাকলে সহজেই পছন্দমত এবং রুচিসম্মত অনুষ্ঠানসমূহ দেখা যাবে। শুধু গ্রাহককে মাস শেষে কিছু ডলার খরচ করতে হবে এইসকল থ্রিলার রোমান্টিক কিংবা কমেডিসহ নানান বৈচিত্র্যপূর্ণ ধারাবাহিক নাটক আর সিনেমাগুলো উপভোগ করার জন্য।

মজার বিষয় হলো, অযথা বিজ্ঞাপনের ঝামেলা না থাকায় টিভি দর্শকেরা নেটফ্লিক্সের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। ব্রিটিশ  সাময়ীকিতে জানা যায় প্রতিবছর তারা ৮২টি নতুন ফিচার ফিল্ম প্রকাশ করে যেখানে ওয়ার্নার ব্রাদার্স অথবা ডিজনির তুলনায় এই সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। স্বভাবতই গ্রাহকেরা এই সকল কারণে লুফে নিচ্ছেন নেটফ্লিক্স।

গত শতাব্দীর ভিসিআর কিংবা ভিসিডির জায়গা দখল করে নিয়েছে ইন্টারনেট ভিডিও স্ট্রিমিং সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে যেমন বদলাচ্ছে আমাদের জীবন যাত্রার মান ও ধরন তেমনি বিনোদনের মাধ্যমেও আসছে পরিবর্তন।

উন্নত বিশ্বের এসকল ইতিবাচক পরিবর্তনের মধ্যে নেটফ্লিক্সও তেমনই একটি চিত্তাকার্ষক পরিবর্তন যা বদলে দিয়েছে আমাদের বিনোদন জগৎকে।

Admin

0 Comments

Please login to start comments