জাতীয়

বিডিনিউজের খালিদীর বিরুদ্ধে স্টক মার্কেট থেকে ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ


 

বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে গ্রাহকের ৫০ কোটি টাকা আমনত হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে ঐ টাকা ফেরত চেয়ে তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি। সূত্র জানায়, অসৎ পন্থা অবলম্বন করে গ্রাহকের আমানতের ৫০ কোটি টাকা উত্তোলনের ঘটনা চাউর হওয়ার কয়েক ঘন্টা মধ্যে টাকা ফেরত চেয়ে নির্দেশ দেয় বিএসইসি। এরপর বিডিনিউজের পক্ষ থেকে বিএসইসিকে জানানো হয় সব টাকা খরচ হয়ে গেছে। টাকা উত্তোলনের কয়েক ঘন্টার মধ্যে কিভাবে পঞ্চাশ কোটি টাকা খরচ হয়েগেল তা উৎঘটনে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দা সংস্থা। এব্যাপারে বিডিনিউজ এর প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালেদীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।তবে বিভিন্ন সূত্রে জানাযায় টাকা উঠানোর পরই খালেদী ঘা ঢাকা দিয়েছেন। এদিকে বিডিনিউজ অফিসের কোন সাংবাদিকরাও এব্যাপারে কথা বলতে চান না। তৌফিক ইমরোজ খালিদীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের আভিযোগ রয়েছে। বিডিনিউজ প্রতিষ্ঠা করেন ইত্তেফাকের তৎকালীন কূটনৈতিক রিপোর্টার ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির বার বার নির্বাচিত সাবেক সভাপতি ও বাংলা নিউজের প্রতিষ্ঠাতা বর্তমান বার্তা২৪ এর প্রধান সম্পাদক আলমগীর হোসেন। তাহলে কিভাবে বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক হলেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী? এসব প্রশ্ন এখন মিডিয়া পাড়ায় আলোচনা হচ্ছে। সূত্র জানায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিডিনিউজ প্রতিষ্ঠা হওয়ার তৎকালীন বিএনপি জামায়াত সরকারের আমলে দেশে জঙ্গি উত্থান, হাওয়া ভবনের নামে লুটপাট এবং জামায়াতের নেতা যুদ্ধাপরাধী মন্ত্রীদের নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে বিডিনিউজ অবস্থান নেওয়াতে তৎকালীন বিএনপি জামায়াত সরকার বিডিনিউজকে শত্রু ভাবতে শুরু করে। একারনে বিভিন্ন অজুহাতে বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদকে তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন হয়রানি করতে থাকে। বিএনপি জামায়াত প্রতিষ্ঠানটি দখলে নিতে আলমগীর হোসেনকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর এপিএস মোসাদ্দেক আলী ফালুর ব্যবসায়ীক পার্টনার যুবকের নির্বাহী পরিচালক হোসাইন আল মাসুম বিডিনিউজে বিনিয়োগ করতে প্রস্তাব দেয়, জামায়াতি মতাদর্শের সংস্থা হওয়ায় আলমগীর হোসেন তাদের প্রস্তাবে রাজি হননি। ঐ সময় তৌফিক ইমরোজ খালেদীকে ঘন ঘন বিডিনিউজ অফিসে যাতায়াত করতে দেখা যায়। ২০০৬ সালের শেষ দিকে বিডিনিউজের সংবাদ কর্মীদের এক মাস বেতন বকেয়া হয় এই সুযোগ কাজে লাগান তৎকালীন সরকার এবং তৌফিক ইমরোজ। বিএনপি জামায়াতের আদর্শের লোক হাওয়ায় বিএনপি সমর্থন সুচতুর তৌফিক ইমরোজ খালিদী বিডিনিউজের একমাস বকেয়া বেতনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলেন সবাইকে এবং তৎকালীন সরকারের লুটপাটের টাকার থেকে বিডিনিউজের সংবাদ কর্মীদের বেতনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন খালিদী। তখনকার সরকারের প্রভাব কাজে লাগিয়ে আলমগীর হোসেন থেকে কোন প্রকার বিনিময় ছাড়া এক প্রকার বলপূর্বক বিডিনিউজ লিখে নেন এই সুযোগ সন্ধানী তৌফিক ইমরোজ খালেদী। বিডিনিউজ দখলের আগে তৎকালীন সময় বিডিনিউজের শীর্ষ লেভেলের কয়েকজন সংবাদ কর্মীকে নিয়ে খালেদী রেগুলার বারে মদের পার্টী দিতেন। বিডিনিউজ দখলের কিছুদিনের ভেতরেই বারের আড্ডার মদ পার্টির সকলকেই বিদায় দেন খালেদী। বিভিন্ন সূত্রে শোনা যায়, খালিদী বিডিনিউজ পরিচালনা করতে বিএনপির পক্ষ থেকে তখন আর্থিক সহযোগীতা করতেন তৎকালীন বিএনপি সরকারের একজন মন্ত্রীর ভাই। বিএনপি জামায়াতের আদর্শধানরকারী খালিদী আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ভালো সম্পর্ক তৈরি করেন এবং নিজেকে আওয়ামীলীগের লোক দাবি করে প্রভাব তৈরি করেছিলেন। সূত্র জানায়, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিডিনিউজ এর প্রধানসম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সাথে রফা হয় লন্ডনে পলাতক বিএনপির একজন শীর্ষ নেতার। জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রচারণায় একশত আসনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা ও ড. কামাল হোসেনের ঐক্যফ্রন্টকে বিডিনিউজের মাধ্যমে প্রচার প্রচারণায় সহযোগীতা করার, জন্য তিনি পেয়েছিলেন মোটা অংক। শোনা যায় বিডিনিউজ প্রতিষ্ঠানটি মালিকানা হস্তান্তর কথা বলে বেক্সিমকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান থেকেও ৯ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর মালিকা হস্তান্তর না করে গড়িমশি করার অভিযোগ তৌফিক ইমরোজ খালিদীর বিরুদ্ধে। সুযোগ পেলেই তিনি প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ আছে অনেক ব্যবসায়ীর অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

পারিবারিক এবং সংসার জীবন নিয়ে ও রয়েছে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মের খবর। সাম্প্রতি খালেদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে , পদ্মা ব্যাংকের এমডিকে নিউজের ভয়ভীতি দেখিয়ে দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার । পুনরায় ধমক দিয়ে আরো বড় অঙ্কের চাঁদা চাওয়া হয় পদ্মা ব্যাংকের কাছে বলে খবর বেরিয়েছে। সূত্র জানায়, বিডিনিউজ এর প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালেদীর টাকা চাওয়ার অডিও রেকর্ডসহ বেশ কিছু তথ্য প্রমাণ পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা বলে জানাগেছে। জামায়াত বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে সরকারের ইমেজ ক্ষুন্ন করতে বিডিনিউজ কাজ করছে বলে আওয়ামীলীগে নেতার দাবি। সাম্প্রতি সময় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, এমপির ইমেজ ক্ষুন্ন করার ভয়ভীতি দিয়ে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছেন তৌফিক ইমরোজ খালেদী। সুত্র আরো জানায়, তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে লেখার পরে বিডিনিউজ এখন নিশ্চুপ হওয়ার কারণ কি? আইসিটি বিভাগ থেকে সুবিধা নিয়ে আপস করেছেন আইসিটি থেকে সেটিও বের হচ্ছে বলে ও শোনা যায়। 

উল্লেখ্য চলতি বছর অক্টোবরের শুরুতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল নিউ ইয়র্কভিত্তিক একটি কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ'৷ বিনিয়োগের পরই পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের সভাপতিত্বে এক জরুরি কমিশন সভা করে এ বিনিয়োগ আটকানোর সিদ্ধান্ত হয়। এরপর এই বিনিয়োগের উৎস কী, লন্ডন থেকে ৫০ কোটি টাকা কারা, কী উদ্দেশ্যে দিল- তার অনুসন্ধানে করা হচ্ছে । অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে ওই সভা শেষে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ এ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড নামক সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানি বা উহার ব্যবস্থাপনাধীন ফান্ড থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে ৫০ কোটি বিনিয়োগ শীর্ষক সংবাদ কমিশনের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। ‘এ সংক্রান্ত সমুদয় তথ্যাদি একদিনের মধ্যে কমিশনে দাখিল করার জন্য উক্ত সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানিকে নির্দেশ প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় । কমিশন কর্তৃক এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রাপ্তি ও বিশ্লেষণের পূর্বে উল্লেখিত বিনিয়োগ ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম হতে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নির্দেশ প্রদানের সিদ্ধান্ত সভায় নেয়া হয়েছে বলে জানাযায়। সূত্র বলছে, ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিলেও এখন পর্যন্ত এর বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো বিএসইসিকে এখনো জমা দেয়নি। এ ঘটনায় পর থেকে তৌফিক ইমরোজ খালেদীর আসল চেহারা বের হতে শুরু করেছে।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments