রাজনীতি

"বিএনপির দেশ কাঁপানো ১০ মিথ্যা"


সি নিউজ: রাজনীতিতে মিথ্যা বলা এখন জায়েজ, সাধারণ মানুষের ধারণা রাজনীতিবিদরা হরহামেশাই মিথ্যা বলেন, এজন্য রাজনীতিবিদদের উপর জনগণের আস্থা নষ্ট হচ্ছে ক্রমশ। মিথ্যা আশ্বাস, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ-এসব রাজনীতিতে যেন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিথ্যাচারের রাজনীতিতে সবার আগে বিএনপির অবস্থান, বিভিন্ন সময়ে বিএনপির কারাবন্দী চেয়ারপারসন এবং তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা যেসব মিথ্যা বক্তব্য রেখেছেন, তা থেকে বাছাই করা ১০ সেরা মিথ্যাচার নিয়ে এই প্রতিবেদন। মিথ্যাচার ১: আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সব মসজিদ ভেঙে ফেলা হবে। যেসব থাকবে সেগুলো থেকে উলুধ্বনি দেয়া হবে। মুসলমানদের নামাজ পড়া নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। (২৮ জানুয়ারি, ১৯৯১, চট্টগ্রামের মিরেরসরাই জনসভায় বেগম খালেদা জিয়া) বাস্তবতা : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তিন মেয়াদে ক্ষমতায় কোনো মসজিদ ভাঙেনি। বরং বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় এসে মসজিদ ভেঙ্গেছে। গত প্রায় ১০ বছরে সারাদেশে সরকারের অর্থায়নে ৬৭ হাজার ২৭৩টি নতুন মসজিদ করা হয়েছে। গত মাসে প্রধানমন্ত্রী আধুনিক মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন। মুসলমানদের নামাজের সুবিধার জন্য প্রতিটি মসজিদ সরকারের অনুদানের আওতায় এসেছে। মিথ্যাচার ২: আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ফেনী পর্যন্ত এলাকা ভারতের দখলে চলে যাবে। আপনারা আর বাংলাদেশের নাগরিক থাকবেন না, ভারতের ক্রীতদাস হয়ে যাবেন। (৩০ জানুয়ারি ১৯৯১, ফেনীর জনসভায় বেগম খালেদা জিয়া) বাস্তবতা : ফেনী আওয়ামী লীগের শাসনামলে ভারতের দখলে যায়নি। বরং সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করে, ভারতের কাছে থাকা বিশাল ভূখণ্ড উদ্ধার করেছেন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। মিথ্যাচার ৩: আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশে আবার দুর্ভিক্ষ হবে। লাখ লাখ মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। মানুষ খাবারের জন্য মারামারি করবে। (২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১, ঢাকায় জনসভায় বেগম খালেদা জিয়া) বাস্তবতা: রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষুধা, দুর্ভিক্ষ এবং মঙ্গা এই তিন শব্দ উধাও হয়েছে। বরং বিএনপির আমলেই খাদ্য-ঘাটতি ছিল। সারের জন্য কৃষককে জীবন দিতে হয়েছিল। মিথ্যাচার ৪: গঙ্গার পানি চুক্তি হলেও বাংলাদেশ, এক ফোঁটা পানিও পাবে না দুই বছরের মধ্যে পদ্মা নদীতে গাড়ি চলবে। (১৪ ডিসেম্বর ১৯৯৬, গঙ্গার পানি চুক্তির পর বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার বিবৃতি) বাস্তবতা: পদ্মা এখন বহমান, খরস্রোতা। বাংলাদেশ শুষ্ক মৌসুমে ৪৪ হাজার কিউসেক পানি পাচ্ছে। উত্তরাঞ্চল খরার কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে। মিথ্যাচার ৫: ভারতের সাথে ২৫ বছরের চুক্তি আসলে গোলামীর চুক্তি। অবিলম্বে এই চুক্তি বাতিল করতে হবে। এই চুক্তি বাতিল না করলে, বিএনপি ক্ষমতায় এসে তা বাতিল করবে। (২৮ জানুয়ারি, ২০০০ সাল। জাতীয় সংসদে শীতকালীন অধিবেশনে বেগম খালেদা জিয়া, বিরোধী দলের নেতা) বাস্তবতা: ২৫ বছরের ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তি কোনো গোলামীর চুক্তি নয়। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি ঐ চুক্তি বহাল রাখে। মিথ্যাচার ৬: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ছিল আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল। আমরা অপরাধীকে চিহ্নিত করেছি। মূল আসামি জজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। (১১ জানুয়ারি ২০০৫, জাতীয় সংসদে, সংসদ নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া) গ্রেনেড হামলার জন্য আওয়ামী লীগই জড়িত। অভিযোগ আছে, বিরোধী দলের নেতা নিজেই তাঁর ভ্যানিটি ব্যাগে গ্রেনেড নিয়ে এসেছিলেন) (১১ জানুয়ারি ২০০৫, সংসদে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর) বাস্তবতা: প্রতিহিংসার রাজনীতি চরিতার্থ করতে তারেক জিয়ার নির্দেশে ও পরিকল্পনায় ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটেছিল। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চিরতরে নি:শেষ করার জন্যই এই নৃশংসতম ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। জজ মিয়া ছিল এক সাজানো নাটক। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল তারেকের জঙ্গিবাদী তৎপরতার অংশ। মিথ্যাচার ৭: আমরা সারাদেশের মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধায় আনার উদ্যোগ নিয়েছি। ২০০৬ সালের মধ্যে দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।’ (৩১ অক্টোবর ২০০২। সরকারের প্রথম বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া) বাস্তবতা: আওয়ামী লীগ শাসনামলে রেখে যাওয়া ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্টো কমতে থাকে। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামাত ক্ষমতা ছাড়ার সময় দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল মাত্র ২৭৫০ মেগাওয়াট। দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। বিদ্যুৎ খাতের ৮০ ভাগ টাকা খাম্বা কেনার পিছনে ব্যয় করে বিএনপি-জামাত জোট সরকার। আর এসব খাম্বা কেনা হয় ‘খাম্বা লিমিটেড’ থেকে। যার মালিক ছিলেন তারেকের ব্যবসায়িক পার্টনার গিয়াস উদ্দিন আল মামুন। মিথ্যাচার ৮: ‘বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের দল, স্বাধীনতার দল। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই আমাদের প্রধান আদর্শ।’ (২৬ মার্চ ২০০২, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বাস্তবতা: বিএনপি হলো স্বাধীনতা বিরোধী এবং যুদ্ধাপরাধীদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতির সুযোগ করে দিয়েছিলেন। জিয়াই প্রধান যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে দেশে এনেছিলেন। রাজাকার শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিলেন। আর তাঁর পত্মী বেগম খালেদা জিয়া খুনি, ধর্ষক দুই যুদ্ধাপরাধীকে মন্ত্রিত্ব উপহার দিয়েছিল, যাদের গাড়িতে আমাদের পবিত্র জাতীয় পতাকা শোভিত হয়েছিল। মিথ্যাচার ৯: বিএনপি হলো সৎ এবং দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতির প্রতীক। আমরা ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতিকে চিরতরে নির্মূল করবো। স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করবো।’ (২৮ অক্টোবর ২০০১, জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া বেতার ও টেলিভিশন ভাষণে বেগম খালেদা জিয়া) বাস্তবতা : বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ পরপর তিনবার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। তারেক জিয়ার নেতৃত্বে হাওয়া ভবন হয়ে উঠে দুর্নীতির প্রতীক। প্রতিটি সরকারি কেনাকাটা এবং নিয়োগে কমিশন বাণিজ্য হয়ে ওঠে একটি স্বাভাবিক ঘটনা। ৫ বছরে তারেক জিয়া সারা বিশ্বে অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই বলেছে।

Admin

0 Comments

Please login to start comments