দেশজুড়ে

বাংলাদেশ থেকে পুরোপুরি বিলুপ্ত ৩১ প্রজাতির প্রাণী


সি নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশ থেকে এরই মধ্যে পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে ৩১ প্রজাতির প্রাণী। জনসংখ্যা বৃদ্ধি আর অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে দীর্ঘ হচ্ছে বিপন্ন বণ্যপ্রাণির তালিকা, হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্য।

পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি সঠিকভাবে মোকাবিলা করা না গেলে টিকে থাকা প্রাণীগুলোর অস্তিত্ব ঝুঁকির মুখে পড়বে। দিনে দিনে বাড়ছে মানুষ, কমে আসছে প্রকৃতির পরিধি। ছড়িয়ে পড়ছে দূষণের বিষ। আবাস হারাচ্ছে প্রাণীকুল। অপরিকল্পিত নগরায়নে হুমকিতে জীববৈচিত্র্য।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ অধ্যাপক ড.এ এফ এম জামাল উদ্দিন বলেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য সরকার একটি উদ্যোগ নেবে, আর সামাজিক একটি আন্দোলন তৈরি করতে হবে। সবাই মিলে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার চেষ্টা করি তাহলে যেগুলো হারাতে বসেছিলাম তা আবার ফিরে আসবে।

বাড়ির পাশে এখন আর শোনা যায়না শেয়াল, ব্যাঙ আর ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক, দেখা মেলেনা রঙিন প্রজাপতির। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব ও ব্যক্তিগত অসচেতনতাকে দুষছেন পরিবেশবিদরা।

কীটতত্ত্ববিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশে যে প্রচলিত আইন আছে, আইনগুলোর সঠিক প্রয়োগ এবং যে সংস্থা রয়েছে সেসবে সবার আরেকটু তৎপর হওয়া প্রয়োজন। সবশেষ আইইউসিএনের বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় বাংলাদেশের ৭ পর্বের ১৬১৯টি প্রজাতির কথা উঠে এসেছে।

এর মধ্যে অতিবিপন্ন ৫৬ বিপন্ন ১৮১ এবং সংকটাপন্ন হিসেবে ১৫৩ টি প্রজাতিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়াও তালিকায় ৩১ টি প্রজাতিকে পুরোপুরি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে স্তন্যপায়ী ১১টি, পাখি ১৯টি এবং সরীসৃপ ১ টি।

বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে তৎপরতা আরো বাড়ানোর পরামর্শ পরিবেশ সংস্থাগুলোর। আইইউসিএন কান্ট্রি ডিরেক্টর রাকিবুল আমিন বলেন, আমাদের আরো কাজ করতে হবে।

আইইউসিএনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে গত ১৫ বছরে সবচেয়ে বেশি বিলুপ্ত হয়েছে পাখি।

 

Admin

0 Comments

Please login to start comments