রাজনীতি

বঙ্গকন্যার সততা মুগ্ধ করেছে বিএনপি নেতাদের


সিনিউজ: দুর্নীতি বিরোধী শক্ত অবস্থানের জন্য বঙ্গকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় মনোবলের প্রশংসা করছেন বিএনপি নেতারাও। একাধিক বিএনপি নেতার সাথে কথা বলে জানা যায় শেখ হাসিনার সততাই মুগ্ধ তারা।

সূত্র বলছে এক বিএনপি নেতা বলেছেন, ‘আমরা যা পারিনি শেখ হাসিনা তা করে দেখাচ্ছেন। আমরা সবসময় যেসব কথাবার্তা বলি যে, গায়ের জোরে টানা ক্ষমতায় রয়েছেন, ‍কিন্তু তার কৌশল এবং দূরদর্শীতার কাছে আমরা পরাজিত হচ্ছি। এটা যদি আমরা না বুঝতে পারি তাহলে আমাদের কিছুই হবে না।’

এই বক্তব্যটি কোনো আওয়ামী লীগের নেতার নয়। বরং বক্তব্যটি বিএনপির জাঁদরেল নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এর। তিনি আজ তার নিজস্ব কার্যালয়ে এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এরকম মন্তব্য করেন। এই আলাপচারিতায় উপস্থিত বিএনপির একজন কর্মী জানিয়েছেন যে, রাতে ছাত্রলীগের শীর্ষপদের দুজনকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রেক্ষিতে এই মন্তব্য করেছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

শুধু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় একাই নয়, শেখ হাসিনার সাহস, দূরদৃষ্টিতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিচক্ষণতায় মুগ্ধ বিএনপি। এই দলটি প্রকাশ্যে যা-ই বলুক না কেন, ভেতরে ভেতরে তারা স্বীকার করেন যে শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিতা এবং প্রত্যুৎপন্ন সিদ্ধান্তের কারণেই বার বার পরাজিত হচ্ছে বিএনপি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির অন্যতম নেতা মির্জা আব্বাসও শেখ হাসিনার এই কর্মকাণ্ডে মুগ্ধ হয়েছেন। তিনি তার দলের কর্মীদের বলেছেন, ‘আমরা যখন ১৯৯১ এবং ২০০১ সালে ক্ষমতায় ছিলাম তখন ছাত্রদলের তাণ্ডবে অতিষ্ট হয়ে গিয়েছিলাম। ছাত্রদলের মারামারি, ছাত্রদলের চাদাবাজী ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। কিন্তু ম্যাডাম এসব প্রতিরোধে কিছুই করতে পারেননি।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে, বিশেষ করে মির্জা আব্বাস এটাও বলেছেন যে, ২০০১ এ ছাত্রদলের নিয়ন্ত্রণ ছিল পুরোপুরি তারেক জিয়ার হাতে। অথচ তারেক জিয়া ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণ করতে কোনোকিছুই করতে পারেনি। তিনি আরও বলেছেন, এখন তো আমরা ক্ষমতায় নেই। তারপরেও ছাত্রদল কথায় কথায় দলীয় কার্যালয় ঘেরাও করে, দলের নেতাকর্মীদের হেনস্তা করে। অথচ আমরা কোনো ব্যবস্থাই আজ পর্যন্ত নিতে পারিনি। শেখ হাসিনা ব্যবস্থা নিতে পারেন বলেই টানা ক্ষমতায় রয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতির এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন খোদ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। তিনি বলেছেন, দল চালাতে গেলে যে মাঝেমাঝে কঠোর হতে হয়, সেই শিক্ষাটা শেখ হাসিনার কাছ থেকে নেওয়া দরকার। তিনি দলের স্বার্থে যে কাউকেই প্রশ্রয় দেন না সেটা প্রমাণ করলেন। এর মাধ্যমে কিছুই হবে না। ছাত্রলীগের অনিয়ম, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি কিছুই বন্ধ হবে না। শুধু সাধারণ মানুষের কাছে একটা বার্তা যাবে যে শেখ হাসিনা কঠোর হয়ে দেখিয়েছেন। এটা একটা রাজনৈতিক কৌশল এবং এই কৌশলের কাছেই আমরা বার বার পরাজিত হচ্ছি।

বিএনপির নেতারা নতুন করে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে আন্দোলন শুরু করতে যাচ্ছেন। এ নিয়ে তারা কর্মসূচিও দিয়ে ফেলেছেন। সেসময় ছাত্রলীগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নাটকীয় অবস্থান তাদের আন্দোলনকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবেন বলে বিএনপির অনেক শীর্ষনেতা মনে করেন। কারণ এর ফলে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইমেজ সাধারণ মানুষের কাছে অনেক বেড়ে যাবে।

অন্যদিকে ছাত্রলীগের সম্মেলন স্থগিত হওয়ার প্রেক্ষিতে ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড না থাকায় ছাত্রলীগের শীর্ষপদের অব্যাহতির কোনো প্রভাব ছাত্ররাজনীতিতে পড়বে না। বরং সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা এটাকে ইতিবাচক হিসেবে নেবে। এরকমই মনে করছেন বিএনপির শীর্ষনেতারা। যার ফলে বিএনপি থেকেই বলা হচ্ছে যে শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিতা আর রাজনৈতিক কৌশলের কাছে আবারও পরাজিত হলো বিএনপি।

Admin

0 Comments

Please login to start comments