ফের অস্থির চালের বাজার


কিছুদিন স্বাভাবিক থাকার পর ফের অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার। পাইকারি খুচরা সব পর্যায়ে বেড়েছে চালের দাম। চালের ধরণ ভেদে বস্তাপ্রতি দাম বেড়েছে ২শ থেকে সাড়ে ৫শ টাকা পর্যন্ত। বরাবরের মতো পাইকাররা দুষছেন মিল মালিকদের। আর মিলাররা বলছেন, বাজারে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং সরকারি আমণ সংগ্রহ অভিযান শুরু হওয়ায় বেড়েছে চালের দাম।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকার বেশ কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজার এবং দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, শেরপুর, নঁওগা, বগুড়ার বাজার থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরায় বস্তাপ্রতি চালের দর বেড়েছে ২শ থেকে সাড়ে ৫শ টাকা পর্যন্ত।

মাত্র তিনদিন আগে খুচরা বাজারে প্রতিবস্তা মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ২২শ টাকা, আটাশ চাল ১৭শ টাকা, বিভিন্ন প্রকার নাজির চাল প্রতিবস্তা ২১শ টাকা থেকে ২৮শ টাকায়।

বর্তমানে রাজধানীর বাজারে প্রতিবস্তা মিনিকেট (নতুন) চাল বিক্রি হচ্ছে ২৪শ ৫০ টাকা, মিনিকেট (পুরনো) ২৫শ থেকে ২৫শ ৫০ টাকা, আটাশ চাল ১৮শ ৫০ টাকা, বিভিন্ন প্রকার নাজির চাল প্রতিবস্তা বিক্রি হচ্ছে ২২শ ৫০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকায়।

আমাদের দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, হঠাৎ অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরের খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি চালের দাম বেড়েছে ৩ থেকে ৪ টাকা। আর বস্তাপ্রতি বেড়েছে ১৫০ থেকে ২শ’ টাকা।

নওগাঁর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে যে মিনিকেট বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৪২ টাকা দরে, চলতি সপ্তাহের তা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৬ টাকায়।

বাজারে চাল বিক্রেতারা বলছেন, মিল মালিকরা হঠাৎ চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ দাম বাড়িয়ে দেয়াকে মিল মালিকদের চাল নিয়ে চালবাজি বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

হঠাৎ করে চালের দাম বাড়া নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে। চালের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। রাজধানীর মালিবাগ বাজারে চাল কিনতে আসা আশরাফুল ইসলাম বলেন, মাত্র চারদিন আগে যে চাল ৪৪ টাকা কেজি দরে কিনেছি আজ সেটার দাম হয়ে গেলো ৫০ টাকা। এ যেন মগের মুল্লুক!

একই অভিব্যক্তি জানালেন হাতিরপুল বাজারের আয়েশা খাতুন। তিনি বলেন, এ নিয়ে এক মাসের মধ্যে দু’বার চালের দাম বাড়ল।

চালের দাম বাড়ার জন্য বরাবরের মতো ব্যবসায়ীরা দুষছেন মিলকল মালিকদের।

তাদের মতে, বাজারে চালের বিক্রি নেই। এর ‍ওপর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে মিল মালিকরা। কিনতে দাম বেশি হওয়ায় তাদের বাড়তি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

বিক্রেতারা বলছেন, গত দুই/তিন দিন ধরে বাড়তি দাম রাখছেন মিল মালিকরা। এ কারণে দাম কিছুটা বাড়তি। আর ক্রেতারা বলছেন, এক মাসের মধ্যে দুই ধাপে চালের দাম বাড়লেও এ নিয়ে কোনো তদারকি নেই।

চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন প্রধান জানান, খাজানগরের চালের মোকামে বাসমতি, মিনিকেট, কাজললতা ও স্বর্ণা ধানের দাম প্রতি মণে গড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা বেড়েছে। সেই কারণে তাদেরকে চালের দাম কেজি প্রতি দেড় থেকে দুই টাকা বাড়াতে হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এক মাস আগে আমন মৌসুম চলাকালেও এক দফা চালের দাম বেড়ে যায়। পরে খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মিল মালিকদের দফায় দফায় বৈঠকের পর দাম কমে আসে। কিছুদিন বাজার স্বাভাবিক থাকার পর ফের বেড়েছে চালের দাম।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments