জাতীয়

প্রযুক্তির প্রভাবে মানুয় হচ্ছে শতগুণ স্মার্ট


সিনিউজ সুপারহিউম্যান’ বা অতিমানব অভিধাটি সায়েন্স ফিকশনের কাল্পনিক চরিত্র বা নতুন প্রজন্মের রোবটের চোখ ধাঁধানো দক্ষতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু গবেষকরা দাবি করছেন, সায়েন্স ফিকশন বা রোবট কেন অতিমানব হতে যাবে? বরং প্রযুক্তির অভাবনীয় বিকাশই মানুষকে আজ অতিমানব বানিয়ে দিয়েছে। তারা যুক্তি হিসেবে বলছেন, বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে চিকিৎসাবিজ্ঞান মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপনের যে ধারণা তুলে ধরেছিল, সেটা আজ অতি সাধারণ ঘটনা।
পঞ্চাশের দশকে যখন পেসমেকার বা কৃত্রিম হৃদপি- তৈরি হলো, তখনো এটার প্রতিস্থাপন ছিল বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর মতো। কিন্তু এখন পেসমেকার বসানো পুরনো ফোর্ড গাড়ির ওয়াটার পাম্প পাল্টানোর মতই সহজ ব্যাপার। চারপাশে চোখ বুলালেই বুঝতে পারবেন, প্রযুক্তির আশীর্বাদে বধির লোকও এখন শুনতে পায়। আর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী চোখে দেখার অনুভূতি পায়। বলা যায়, বর্তমানে মেডিক্যাল প্রযুক্তি সায়েন্স ফিকশনের মতই। কারণ গাড়ির পুরনো পার্টস পাল্টানোর মতই মানুষ একদিন অকেজো যে কোনো অঙ্গ পাল্টে নিতে পারবে। তবে গবেষকরা বলছেন, আগামীদিনে মানুষের জন্য দশটি চমক অপক্ষো করছে, যা মানুষকে চূড়ান্ত অর্থে অতিমানব বানিয়ে দেবে।
ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস: এটা সংক্ষেপে বিসিআই নামে পরিচিত। মানব মস্তিষ্কের সঙ্গে বাইরের কোনো ডিভাইসের সংযোগ ও লেনদেনই বিসিআই। কয়েক দশক ধরে বিসিআই ধারণাটি সায়েন্স ফিকশনগুলোতে সতেজ হয়ে আছে। ১৯২০ এর দশকেই মানুষ জেনে যায়, মানব মস্তিষ্ক থেকে এক ধরনের সিগনাল বের হয়। সঙ্গত কারণে এটা অন্য কোনো ডিভাইসের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে সক্ষম। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা বিসিআই প্রযুক্তিকে বাস্তবতার ছোয়া দিতে যাচ্ছেন।
বিদ্যুতচালিত কঙ্কাল: রবার্ট হেইনলিনের সায়েন্স ফিকশন উপন্যাস ‘স্টারশিপ ট্রুপার্স’ অবলম্বনে এ বিদ্যুৎচালিত কঙ্কালের ধারণা তৈরি হয়। এ ধারণা বাস্তব হলে পঙ্গু ব্যক্তি ফের চলাফেরা করতে পারবে। তবে এটার সামরিক প্রয়োগই বেশি হবে। যাতে সৈন্যরা নিজ দেহের চারগুণের বেশি ওজন বয়ে টানা দশ মাইল হাঁটতে পারে।
নিউরাল ইমপ্ল্যান্ট: বিদ্যুৎচালিত কঙ্কাল মানুষের পেশির শক্তি বাড়ালেও নিউরাল ইমপ্ল্যান্ট বাড়াবে মস্তিষ্কের শক্তি। শুধু তাই নয়, এটা মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্ত কোষও প্রতিস্থাপন করবে। সোজা কথা এটা বাইরের কোনা ডিডভাইস দিয়ে মানব মস্তিষ্ককে শক্তিশালী করবে। সাইবার ডিভাইস: ন্যানোপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের টিস্যুর ভিতর বায়োইলেক্ট্রনিক যন্ত্রাংশ সক্রিয় করাই এ প্রকল্পের টার্গেট। এতে মানুষ তার রোবটিক আর্ম সচল করতে পারবে সহজে। এক্সোকর্টেক্স: এটা মানব মন ও কম্পিউটারের একীভূত হয়ে যাওয়ার প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে তৈরি হবে উন্নতমানের বায়োলজিক্যাল বেইন। এতে যে কোনো তথ্য প্রক্রিয়াজাত করতে মস্তিষ্কের সময় লাগবে বর্তমানের চেয়ে অনেক কম। সিনথেটিক দেহ: বিজ্ঞানীরা দেহের প্রতিটি অঙ্গ সিনথেটিক প্রক্রিয়ায় তৈরি করতে চাচ্ছেন, যাতে কোনো অঙ্গ হারালেও মানুষের জীবনপ্রদীপ নিভে না যায়।
মাইন্ড আপলোডিং: ফিউচারিস্ট রে কার্জওয়েল ধারণা দিয়েছেন, ২০৪০ থেকে ২০৪৫ সালের মধ্যে মানুষ তার যাবতীয় সজ্ঞা কম্পিউটারে আপলোড করতে পারে। এতে মানবমন ও মস্তিষ্ক ডিজিটালের অণুর জগত চষে বেড়াবে। মানুষ বর্তমানের চেয়ে শতগুণ বেশি স্মার্ট হয়ে যাবে।

 

Admin

0 Comments

Please login to start comments