জন স্বাস্থ্য ও সচেতনতা

পোল্টি মুরগী নিয়ে রয়েছে নানান স্বাস্থ্য ঝুঁকি।

পোল্টি মুরগী নিয়ে রয়েছে নানান স্বাস্থ্য ঝুঁকি


আমাদের দৈনিক খাদ্য তালিকার আমিষের চাহিদা মিটিয়ে থাকে গরু খাসি ও মুরগী মাংস। গরু ও খাসির দাম বেশি হওয়ায় সাধারন মানুষের পছন্দের তালিকায় রয়েছে বয়লার মুরগী।বর্তমানে ৪০-৪৫ শতাংশ মাংসের যোগান আসে পোল্টি ফার্মগুলো থেকে।কিন্তু এই পোল্টি মুরগী নিয়েও রয়েছে নানান স্বাস্থ্য ঝুঁকি।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতি ঢাকার পাঁচটি বাজার থেকে ফার্মের মুরগী সংগ্রহ করে তা ল্যাবে পরীক্ষা করতে দিয়েছিল।

ল্যাব টেষ্টে এসব মুরগীতে সীসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে জানান বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মাহবুব কবির মিলন।

তিনি আজ এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। পাঁচটি কাঁচাবাজার এবং একটি নামকরা চেইন শপ থেকে একটি করে মোট ছয়টি ব্রয়লার (ফার্মের মুরগী) চিকেন কিনে জবাই করে লেড (সীসা) হেভি মেটাল টেস্ট করতে দিয়েছিলাম।

একটি বাজার ছাড়া বাকি পাঁচটি স্যাম্পলে সহনীয় মাত্রা হতে দুই থেকে পাঁচগুন বেশি সীসা পাওয়া গেছে। অথচ সহনীয় মাত্রার সীসাও থাকার কথা নয়।

একটি মুরগী দিয়ে যেমন পাঁচটি বাজারের সব মুরগী সীসায় ভরা তা বলা যাবে না। তেমনি একটিতে মাত্রার চেয়ে কম পাওয়া গেছে বলে সেই বাজারের সব মুরগী সীসামুক্ত তা বলা যাবে না। তবে চিত্র যে ভয়াবহ, তা যে কোনো পাগলেও বুঝবে। সারাদেশের চিত্র হয়ত তাই হবে।

Source: (https://somoybarta24.blogspot.com/2018/07)

নিয়মিত এই মাংস খাওয়ার ফলে মুরগীর শরীরের বিদ্যমান এন্টিবায়োটিকগুলো চলে আসছে আমাদের শরীরে। যার ফলে আমাদের শরীরের ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুগুলো হয়ে উঠছে আগের থেকে শক্তিশালী, গড়ে তুলছে এন্টিবায়োটিকের প্রতিরোধক। এর জন্যই ১৯৪০ সালে আবিষ্কৃত জনপ্রিয় এন্টিবায়োটিক পেনিসিলিন মাত্র ১০ বছরেই তার কার্যকারিতা হারিয়েছিল, টেট্রাসাইক্লোন ১৯৪৮ সালে এসে ২ বছরও টিকতে পারেনি। ইরিথ্রোমাইথিন-এর আগমন ১৯৫২ সালে, কিন্তু ১৯৫৫ সালের মধ্যেই এটির কার্যকারিতা নষ্ট হতে থাকে, পরবর্তীতে পেনিসিলিনের সহায়তায় ১৯৬০ সালে আসা মেথিসিলিনও ১ বছরের মধ্যে অকার্যকর হয়ে পড়ে। দেহে এন্টিবায়োটিকের কার্যকারিতার অভাবে পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ অকালে মারা যাচ্ছে যা আসলেই মানবজাতির জন্য অত্যন্ত ভয়ংকর তথ্য। বিজ্ঞানিরা বলছেন ২০৫০ সালের মধ্যেই এন্টিবায়োটিক হারাতে পারে তার বাস্তব কার্যকারিতা।

source :(https://myorganicbd.com/)

১. কাঁচা মাংসে প্রচুর পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া থাকে। আর দোকানে যেভাবে একাধিক মুরগিকে এক সঙ্গে রাখা হয় তাতে দু-পাঁচটার শরীরে সেই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলি প্রবেশ করাটাও অস্বাভাবিক নয়। আর এমনটা যে হয় না, সে কথা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে কি? শুধু তাই নয়, যখন মুরগী কাটা হয় তখনও জীবিত মুরগির শরীর থেকে কাঁচা মাংসে ব্যাকটেরিয়া চলে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। আর এই জীবাণু যদি আমাদের শরীরে প্রবেশ করে তাহলে আর রক্ষা নেই।

২. পোলট্রিতে বড় করার সময় ব্রয়লার মুরগিদের অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন দেওয়া হয়। ফলে এমন ধরনের মুরগি বেশি খেলে আমাদের শরীরেও অ্যান্টিবায়োটিক রেজিজটেন্স তৈরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

৩. কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতো মাত্রাতিরিক্ত ব্রয়লার মুরগি খেলে রক্তে বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। তবে এই যুক্তির স্বপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

৪. আগেই বলেছি ব্রয়লার মুরগিদের যেভাবে বড় করা হয় বা তাদের মেটা করার জন্য যে পদ্ধিত অনুসরণ করা হয় তা মোটেই বিজ্ঞানসম্মত নয়। এ ক্ষেত্রে এমন কিছু কেমিক্যাল মুরগির শরীরে ঢোকানো হয়, যা আমাদের শরীরে প্রবেশ করলে নানা রকমের জটিল রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

৫. ব্রয়লার চিকেন খেলে ফুড পয়জনিং হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। একাধিক গবেষণয়া দেখা গেছে প্রায় ৬৭ শতাংশ ব্রয়লার মুরগির শরীরে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা কোনোভাবেই কিন্তু আমাদের শরীরের পক্ষে ভালো নয়।

সূত্র : ওয়ান ইন্ডিয়া

বয়লার মুরগী স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ কারন এতে ব্যাকটেরিয়া থাকে।
কাচা সব ধরনের মাংসেই ব্যাকটেরিয়া থাকে।সব ব্যাকটেরিয়া  মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর না।মাংসের অধিকার ব্যাকটেরিয়াই তাপে মারা যায় তাই কাচা না আধা কাচা মাংস খাওয়া উচিৎ না। যে মাংস ই খান না কেন তা ভাল করে সিদ্ধ করে খেতে হবে। 

তথ্য সুত্র (http://www.biologydiscussion.com/food-microbiology/heat-sensitivity-of-micro-organisms-microbiology/59095) 

ব্রয়লার মুরগিদের অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন দেওয়া হয়ঃ 
বয়লার মুরগীতে ইঞ্জেকশন এর মাধ্যমে এন্টিবায়োটিক দেয়া হয় না।এন্টিবায়োটিক গুলো পাউডার ফর্মে পাওয়া যায়,যেগুলো খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো হয়।বয়লার মুরগি তে অধিকাংশ এন্টিবায়োটিক গুলো মানুষের জন্য ক্ষতিকর না। 

স্ট্রেপটোমাইসিন, নরফ্লক্সাসিন, পিফ্লক্সাসিন, কলিস্টিন সালফেট, রিফামপিসিন ইত্যাদি। প্লোট্রি ও লাইভস্টকে ব্যবহৃত এসব এন্টিবায়োটিক দ্বারা হিউমানে এন্টিবায়োটিক রেজিট্যন্সী হওয়া অসম্ভব। কারন রেজিস্ট্যাসীর অন্যতম শর্ত হলো ক্রমাগত এন্টিবায়োটিক খেতে হবে।

কিছু  এন্টিবায়োটিক মানুষ ও পোল্ট্রিতে সমান ভাবে ব্যাবহার করা হয়।

কিছু এন্টিবায়োটিক আছে যেগুলো তাপ প্রয়োগে ধ্বংস হয়

কিছু এন্টিবায়োটিক আছে যা তাপ প্রয়োগে ধ্বংস হয় না।
যে এন্টিবায়োটিক গুলো তাপ প্রয়োগে ধ্বংস হয় সেগুলো রেজিটেন্স হবার সম্ভাবনা নেই কারণ  এগুলা তাপে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পোল্ট্রি তে ব্যাবহৃত অধিকাংশ এন্টিবায়োটিক ই এই গ্রুপের। বিভিন্ন ল্যাব পরীক্ষায় দেখা গেছে যে এসব এন্টিবায়োটিক ১২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এ নষ্ট হয়ে যায়।আমাদের দেশে রান্না করা হয় যেভাবে সে হিসাবে এন্টিবায়োটিক এর কার্যকরীতা থাকার কথা না।

আর যেসব এন্টিবায়োটিক তাপে ধ্বংস হয় না সেগুলো  উচ্চ তাপে  কার্যক্ষমতা কমে অর্ধেক  হ্রাস পায়।

তথ্য সুত্রঃ( https://www.google.com/url?q=http://diyhpl.us/~nmz787/pdf/Journal_of_Antimicrobial_Chemotherapy_1995_Traub_149-154.) 
 

ব্রয়লার মুরগীর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য মুলত এর জেনেটিক্সগত উন্নতিসাধন ও সুষম খাদ্য দায়ী। ব্রয়লার মুরগীর জিনগত ভাবেই এমন দ্রুত বর্ধনশীল। সাথে সুষম পুষ্টিযুক্ত খাদ্য এর বৃদ্ধির হারকে ত্বরান্বিত করে। সুতরাং ব্রয়লার মুরগী খেলে ক্যান্সার বা অন্য কোন রোগ হবার সম্ভবনা নেই।

লাল মাংস অপেক্ষা সাদা মাংসে শতকরা হিসেবে কোলেস্টেরল কিছুটা কম থাকে। যেমন প্রতি ১০০ গ্রাম গরুর মাংসে কোলেস্টেরল থাকে ৭২ মিলিগ্রাম, শুয়োরের মাংসে থাকে ৭০ মিলিগ্রাম এমনকি প্রতি ১০০ গ্রাম মাছেও কোলেস্টেরল থাকে ৭০ মিলিগ্রাম। যেখানে প্রতি ১০০ গ্রাম ব্রয়লার মুরগীর মাংসে কোলেস্টেরল থাকে মাত্র ৬৪ মিলিগ্রাম।  তাই যারা কোলেস্টেরল সচেতন তারা নিশ্চিন্তে ব্রয়লার মুরগীর মাংস খেতে পারেন।

তথ্যসূত্রঃ https://en.m.wikipedia.org/wiki/List_of_cholesterol_in_foods

পোল্ট্রি  ডক্টরস বিডি ডট কমে এ নিয়ে আরও বিস্তারিত  ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাওয়া আছে। 

(https://www.poultrydoctorsbd.com/) 

তথ্যসুত্রঃ ডাঃ শুভ দত্ত
ডি.ভি.এম. (সিকৃবি)
সি.এস.ও., নারিশ পোল্ট্রি এন্ড হ্যাচারী লি

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments