আন্তর্জাতিক

পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কারাবন্দি ৩২ নারী সাংবাদিক: সিপিজে


সি নিউজ ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কারাবন্দির রয়েছেন অন্তত ৩২ সাংবাদিক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ৩৩। ওই মাসে তুরস্ক এক নারী সাংবাদিককে মুক্তি দিয়েছে।

নারী দিবস উপলক্ষে তাদের বার্ষিক জরিপে ওঠে আসা এই তথ্য প্রকাশ করেছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে)। সিপিজে বলেছে, কারাবন্দি নারীরা প্রায়ই নির্যাতন ও অযাচিত তল্লাশির শিকার হয়।

সিপিজে অনুসারে, বর্তমান বিশ্বের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বন্দিত্বের শিকার হয়েছেন ২৫১ সাংবাদিক। এদের মধ্যে নারী সাংবাদিক রয়েছেন ৩২ জন। এই ৩২ জনের মধ্যে ২৬ জন রাজনীতি নিয়ে কাজ করেছেন, ২২ জন মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেছেন, ১৪ জন সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করেছেন, ১১ জন দুর্নীতি নিয়ে কাজ করেছেন, ১০ জন যুদ্ধ নিয়ে কাজ করেছেন।

সিপিজে অনুসারে, নারী সাংবাদিকদের মধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন তিন জন। এদের মধ্যে দুইজন যাবজ্জীবন খাটছেন তুরস্কে ও একজন চীনে। তবে বন্দি থাকা অর্ধেকের বেশি সাংবাদিকের বিরুদ্ধেই কোনো কারাদণ্ড নেই।

বিশ্বে সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশি বন্দিত্বের শিকার হয় তুরস্কে। নারী সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও সে ধারা বজায় রয়েছে। দেশটিতে বন্দি থাকা ৬৮ সাংবাদিকের মধ্যে ১৪ জন নারী সাংবাদিক রয়েছেন। বেশিরভাগের বিরুদ্ধেই রাষ্ট্র-বিরোধী কাজ করার অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে স্রেফ নারীদের গাড়ি চালনার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কথা বলায় চার নারী সাংবাদিককে বন্দী করে রেখেছে সৌদি আরব।এদের মধ্যে অনেকে আটক অবস্থায় যৌন হেনস্তারও শিকার হয়েছেন।  

প্রতিবেদনে বলা হয়, এরা সবাই স্থানীয় সাংবাদিক। নিজ দেশের রাজনীতি, দুর্নীতি ও মানবাধিকার নিয়ে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে বিশ্বজুড়ে কারারুদ্ধ হয়েছেন তারা। কেউ কেউ বন্দি হয়েছে সমানাধিকার নিয়ে কাজ করে।

এর মধ্যে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তুরস্কের আয়সে নাজলি উলুজ্যাক ও হাতিজে দুমান এবং চীনের গুলমায়ের ইমিন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তুর্কি সরকারের অভিযোগ, দুমান নিষিদ্ধ ঘোষিত মার্কস-লেলিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য। তিনি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছিলেন এবং সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিলেন।

২০১৬ সালে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর তুরস্ক সরকারের ব্যাপক ধরপাকড় অভিযানের সময় আটক হন সাংবাদিক নাজলি। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন তিনি।

চীনের গুলমায়ের ইমিন বিরুদ্ধে  রাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগ আনা হয়। ইমিন উইঘুর ভাষার ওয়েবসাইটে ভয়াবহ বিক্ষোভের তথ্য সরবরাহ করেন বলে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ করেন। এই অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান।

তুরস্কের পর সবচেয়ে বেশি নারী সাংবাদিক বন্দি হয়েছে চীনে। দেশটিতে মোট সাতজন নারী সাংবাদিককে তাদের কাজের জন্য বন্দি করা হয়েছে। 

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments