বাংলাদেশ

পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ, ব্যয় বেড়েছে বিমান বাংলাদেশের


সি নিউজ ডেস্ক : ঢাকা থেকে সৌদি আরবের জেদ্দায় যেতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সময় লাগে প্রায় ৭ ঘণ্টা ২০ মিনিট। জেদ্দা যেতে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করে বিমান বাংলাদেশ। সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে উত্তেজনার কারণে ইসলামাবাদ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।

একারণে এক ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় লাগছে জেদ্দা যেতে। এছাড়া বাড়তি জনবল ও জ্বালানি ব্যয়ও বেড়েছে। তবে এর প্রভাব এখনো যাত্রীদের ওপর পড়েনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে- জেদ্দা নয়, লন্ডন, দাম্মাম, কুয়েত, দোহা যেতে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করা হয়।

সম্প্রতি আকাশসীমা লঙ্ঘন করে পাকিস্তানে বিমান হামলা চালায় ভারত। এরপর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা ব্যবহার বন্ধ করে বাণিজ্যিক এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য। এজন্য পাকিস্তানের কয়েকটি এয়ারলাইন্সও তাদের ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়।

এতে এশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরে  অনেক যাত্রী আটকা পড়েন। থাই এয়ারওয়েজ, এমিরেটস ও কাতার এয়ারওয়েজের অনেক ফ্লাইট পাকিস্তানের আকাশসীমা দিয়ে যায়। সেটি বন্ধ হওয়ায় ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য তারা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সেও সে প্রভাব পড়েছে।

বিমান সূত্রে জানা গেছে,  ফ্লাইটের সময় বেড়ে যাওয়ায় শিডিউলে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।  ফ্লাইট শিডিউল আগে নির্ধারিত হলেও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানো যাচ্ছে না গন্তব্যে। ফলে একটি উড়োজাহাজ এক ফ্লাইট শেষ করে অন্য ফ্লাইটে যেতে লাগছে বাড়তি সময়।

পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ হওয়ায় দাম্মাম যেতে ৫ ঘণ্টা ৫০ মিনিটের বদলে লাগছে ৬ ঘণ্টা ৩০ মিনিট, কুয়েত যেতে ৬ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের বদলে লাগছে ৭ ঘণ্টা, দোহা যেতে ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে বদলে লাগছে ৬ ঘণ্টা  ১৫ মিনিট, লন্ডন যেতে ১০ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের বদলে লাগছে ১২ ঘণ্টা।
ওই সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের আকাশসীমা দিয়ে যেতে না পেরে পথ পরিবর্তন করতে হচ্ছে।

 এতে ফ্লাইট গন্তব্য পৌঁছুতে বাড়তি সময় ও জ্বালানি লাগছে।  একইসঙ্গে লন্ডন ও জেদ্দা রুটে রাখতে হচ্ছে অতিরিক্তি কেবিন ক্রু। স্ট্যান্ডার্ড অপারেশন  প্রসিডিউর অনুযায়ী  সাধারণত লন্ডন ফ্লাইটে  ৩ জন  ককপিট ক্রু থাকতে হয়। তবে ফ্লাইটের সময় বেড়ে যাওয়ায় এখন ৪ জন ককপট ক্রু রাখতে হচ্ছে লন্ডন ফ্লাইটে। আর জেদ্দা রুটে দু’জনের পরিবর্তে তিনজন ককপিট ক্রু রাখতে হচ্ছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এম মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন,  পাকিস্তানের আকাশসীমা ঝুঁকিপূর্ণ  হওয়ায় বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত সময় বিমান উড়ায় জ্বালানি খরচ বাড়ছে।
 

Admin

0 Comments

Please login to start comments