দেশজুড়ে

নড়াইলে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মাধ্যমে ভিক্ষুক থেকে স্বাবলম্বী


সি নিউজ ডেস্ক : “একটি টাকা দাও ও ভাই পয়সা আলা ১০০ টাকা ২০০ টাকা ১০০০ টাকা চাই না”। এই গানটি সিনেমার হলেও বাস্তবে রুপ নেয় আব্দুর রশিদের জীবনে।

এক সময় সুস্থ্য জীবনে থাকা কালিন রশিদ গ্রামের মানুষের গাছের নারকেল (গাছারু) পেড়ে দিয়ে নিজের ভাগের নারকেল বিক্রী করে সংসার চালাতো।

হঠাৎ ২০১০ সালে নারকেল গাছ থেকে পড়ে গিয়ে দুটো পা ভেঙ্গে যায় এবং সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যান আব্দুর রশিদ। এরপর সংসার চালানোর জন্য ভিক্ষা বৃত্তির পেশায় আস্তে আস্তে জড়িয়ে পড়েন।

নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার যোগানিয়া গ্রামের ফায়েক মোল্লার ছেলে আব্দুর রশিদ ভিক্ষা বৃত্তি করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে শুরু করে।

এভাবে ভিক্ষা করতে করতে একদিন তিনি কানাইপুর সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমিতির উঠান বৈঠাকে উপস্থিত হন এবং প্রস্তাপ দেন একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সদস্য হওয়ার জন্য।

সকলের সম্মতিতে তিনি একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সদস্য হয়ে ধীরে ধীরে সঞ্চয় জমা করেন ২৫০০ টাকা । সমিতি থেকে ঋন গ্রহন করেন ৫০০০ টাকা । ওই টাকা দিয়ে ভ্যানের উপর ভ্রাম্যমান দোকান ঘর তৈরি করেন আব্দুর রশিদ। দোকান ঘরটি প্রতিদিন যোগানিয়া হাই স্কুলের পাশে নিয়ে বসে দোকানদারি শুরু করেন তিনি ছেড়ে দেন ভিক্ষা বৃত্তি পেশাটি।

স্কুল শেষে দেখা যায় প্রতিদিনই ৯০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকার পন্য বিক্রী হয়েছে। ওই খান থেকে লাভের টাকা দিয়ে সংসারের ৫জন সদস্য নিয়ে সুন্দর ভাবে সংসার চালাতে থাকেন তিনি। ভিক্ষাকে চিরতরে না বলে সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করতে থাকেন আব্দুর রশিদ।

আব্দুর রশিদের সুখের জীবন শুরু হলেও তার কপালে নেমে আসে কালো অন্ধকার। সম্প্রতি তিনি রান্নার চুলার পাশে বসে আগুন পোহানোর সময় তার পায়ে আগুন লেগে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

বর্তমানে আব্দুর রশিদ কালিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী আব্দুর রশিদ অসুস্থ থাকার কারনে সংসার চলেছে টানা পোড়োনের মধ্যে দিয়ে।

সমাজের বিত্তবানদেরকে তার পাশে এসে দাড়ানোর আহবান জানিয়েছেন আব্দুর রশিদ। ইতিমধ্যে  একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কালিয়া উপজেলার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী তাকে আর্থিক সাহায্য করলেও তা অপ্রতুল। তাই সমাজের সকলে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন অসহায় আব্দুর রশিদের পরিবারের।

 

Admin

0 Comments

Please login to start comments