রাজনীতি

নৌকার মাঝি হলেন যেসব ব্যবসায়ী নেতা


সি নিউজ: দেশের রাজনীতিতে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবসায়ী রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে নৌকার টিকেটে নির্বাচন করতে চান, এমন ব্যবসায়ীর সংখ্যা ছিল অনেক। তবে, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন বা আছেন এমন প্রায় বিশ জন নেতা এবার মনোনয়ন চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পেয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এর সাবেক দুই সভাপতি সালমান এফ রহমান, ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, এক্সপোটার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ইএবি'র প্রেসিডেন্ট সালাম মুর্শেদী, আবাসন ব্যবসায়ী নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি টিপু মুনশি ও উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক প্রেসিডেন্ট সেলিমা আহমাদ।   এদিকে যে সকল ব্যবসায়ী নেতা রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন তাদের প্রায় সবাই ব্যক্তিগতভাবে কিংবা পারিবারিকভাবে বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সাথে সরাসরি যুক্ত। আবার কেউ কেউ রাজনীতি দিয়ে জীবন শুরু করলেও সময়ের বাস্তবতায় ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনার তুঙ্গে রয়েছেন এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি, বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তিনি দোহার-নবাবগঞ্জ নিয়ে গঠিত ঢাকা-১ আসনে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। একই আসন থেকে একই দলের প্রার্থী হয়ে এর আগেও সালমান এফ রহমান নির্বাচন করেছিলেন। কুমিল্লা-৩ আসনে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন (এফসিএ)। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। দলটির অর্থ ও বাণিজ্য সম্পাদকও ছিলেন তিনি। কিন্তু দুই দফা আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত হন। পরে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই এমপি হন। পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি। এবার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন।  তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ছিলেন আবদুস সালাম মুর্শেদী। উপ-নির্বাচনে জিতে তিনি খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য। এবারো তিনি একই আসনের মনোনয়ন পেয়েছেন।  তিনি সরকারের শীর্ষমহল থেকে সবুজসংকেত পাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, প্রথমে খেলোয়াড় ও পরে নেতৃত্বশীল ব্যবসায়ী হিসেবে মানুষ তাকে ভালোবাসে। এলাকায় তিনি সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাই জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশা রয়েছে তার।  এদিকে, বিজিএমএমই’র সাবেক সভাপতি টিপু মুনশি। রংপুর-৪ আসন থেকে আবারো তাকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।  ভোলা-৩ থেকে তার মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে। রিহ্যাবের বর্তমান কমিটি থাকা সংসদ সদস্য নূরন্নবী চৌধুরী শাওন নৌকার চিঠি পেয়েছেন।  কুমিল্লা-২ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন নিটল নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা আহমাদ। নারী ব্যবসায়ী হিসেবে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গেও তিনি সম্পৃক্ত। তিনি এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক। পরিচালক হিসেবে আছেন রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদেও।  বর্তমান সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। তিনি একটি আবাসন কোম্পানির সঙ্গে জড়িত। আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের সভাপতি ছিলেন সরকারে যুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত। ব্যবসায়ী এই নেতাকে ঢাকা-৩ আসন থেকে মনোনয়ন দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল।  রাজনীতিবিদ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি হলেও ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিম একজন সফল ব্যবসায়ী। তিনি মদিনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। আওয়ামী লীগের পক্ষে মনোনয়নের তাকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে।  রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী হিসেবে পরিচিত হলেও বেসরকারি মধুমতি ব্যাংকের পরিচালক শেখ ফজলে নূর তাপস। ব্যাংকটির নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যানও তিনি। বঙ্গবন্ধু পরিবারের এই সদস্য বর্তমানে ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য। এবারো একই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তাকে।  ঢাকা-১১ আসনের মনোনয়ন পেয়েছেন একেএম রহমতুল্লাহ। তিনি বেসরকারি খাতের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক পরিচালক।  মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য গাজী গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম দস্তগীর গাজীকে বেছে নিয়েছে। গ্রুপের মালিকানায় আছে বেসরকারি গাজী টেলিভিশন। এ ছাড়া একটি জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন রয়েছে গ্রুপটির মালিকানায়। জ্যামকন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ। বর্তমানে তিনি যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি এবারো আওয়ামী লীগের মনোনয়নে একই আসনে ভোট করবেন।  সাবেক আমলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এইচএন আশিকুর রহমান। রাজনীতিতে তার বেশি পরিচিতি থাকলেও রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পাওয়া মেঘনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান। রংপুর-৫ থেকে আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দিয়েছে।  রাজশাহী-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এনা গ্রুপের কর্ণধার এনামুল হক। গ্রুপটির আবাসন খাত, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেশকিছু খাতে বিনিয়োগ রয়েছে।সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও মনট্রিস গ্রুপের এমডি আবদুল মজিদ মণ্ডল। তাকেও মনোনয়ন দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে অর্ধ শতাধিক ব্যবসায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেন।  এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি ও মহাজোট থেকে মনোনীত জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমানও সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পার্টি থেকে নির্বাচনী চিঠি পেয়েছেন।

Admin

0 Comments

Please login to start comments