নুসরাত হত্যা মামলা: পিবিআই প্রধানের জেরার আবেদন খারিজ


সিনিউজ, ফেনী: ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদারকে এ মামলায় সাক্ষী হিসেবে জেরার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন বিচারক।

রোববার এ আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়। এদিকে সোমবার মামলার বাদী রাফির ভাই নোমান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই-এর মো. শাহআলমের পুনরায় জেরা করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু।

এ ছাড়া মামলার দুই সাক্ষী নিশাত সুলতানা ও নাসরিন সুলতানা ফুর্তিকে পুনরায় জেরা করেছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু, কামরুল হাসান, আছান কবীর বেঙ্গল আদালতকে বলেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে বনজ কুমারকে এ মামলায় জেরা করার প্রয়োজন রয়েছে। পরে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে আবেদনটি খারিজ করে দেন বিচারক।

জেলা জজ আদালতের পিপি হাফেজ আহাম্মদ বলেন, মামলার এক নম্বর সাক্ষী নিশাত সুলতানা ও দুই নম্বর সাক্ষী নাসরিন সুলতানা ফুর্তি। গত ৩০ জুন ও ১ জুলাই ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে তারা সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা পুনরায় তাদের জেরার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করলে রোববার তারা হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেন।

তিনি জানান, গত ২৭ মার্চে নুসরাতের শ্লীলতাহানির সময় নিশাত সুলতানা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার কক্ষের বাইরে ছিলেন ও ফুর্তিও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলার আসামিপক্ষের একাধিক আইনজীবী বলেন, এর আগে নিশাত সুলতানা ও নাসরিন সুলতানা ফুর্তি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আমলি আদালতের বিচারকের কাছেও সাক্ষ্য দেন। পরে নারী ও শিশু নির্যতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারকের সামনেও সাক্ষ্য দেন। এ তিনটি সাক্ষ্যে বেশকিছু অমিল রয়েছে।

আসামি পক্ষের আইনজীবীদের মতে, এ দুই সাক্ষীকে আরও জেরা করার প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য বৃহস্পতিবার আদালতে এই দুই সাক্ষীকে পুনরায় হাজিরের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ ১৬ জনের সর্বোচ্চ শাস্তির সুপারিশ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এ মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments