আন্তর্জাতিক

নিহত ফিলিস্তিনি নার্সের শোকে স্তব্ধ গাজা


সিনিউজচোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে পড়তে নিজের ২১ বছরের মেয়েটির কথা স্মরণ করছিলেন মা সাবরিন আল-নাজ্জার। বলছিলেন, ‘ও এসে দাঁড়ালো আর আমাকে একটি হাসি দিয়ে বললো, বিক্ষোভে যাচ্ছে।’ গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় খুজার এই ৪৩ বছর বয়সী বাসিন্দা এভাবেই স্মরণ করছিলেন ইসরায়েলি হামলায় নিহত মেয়ে রাজানের কথা। গত শুক্রবার দশম সপ্তাহের মতো চলছিল ৩০ মার্চ শুরু হওয়া ওই বিক্ষোভ। ইসরায়েলের দখলকৃত ভূমি ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে সীমান্তে বিক্ষোভ করে আসছে গাজাবাসী। সেখানে ইসরায়েলি হামলায় আহতদের চিকিৎসা দেয়ার জন্য গিয়েছিলেন নার্স রাজান। শেষ পর্যন্ত এই চিকিৎসাকর্মী রেহাই পায়নি ইসরায়েলি বুলেট থেকে। রাজানের শোকে এখন স্তব্ধ গাজা। তার মা সাবরিন বলছিলেন, ‘চোখের পলকেই ও দরজার বাইরে চলে গেলো। ওকে আরেকবার দেখার জন্য আমি দৌড়ে বেলকনিতে গেলাম। কিন্তু ততক্ষণে ও আমার দৃষ্টির বাইরে চলে গেছে। মনে হলো, আমার সামনে থেকে পাখির মতো উড়ে চলে গেলো।’  বিক্ষোভে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শুক্রবার নিজের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যাগটি নিয়ে রাজান সীমান্ত বেড়ার কাছে গিয়েছিলেন। ১০০ গজ দূর থেকে দুই হাত তুলে তিনি ইসরায়েলি সেনাদের বোঝাতে চাইছিলেন, তিনি কোনো হুমকি নয়। রাজান সীমান্ত বেড়ার কাছে আহত এক ফিলিস্তিনির চিকিৎসার জন্য ছুটে গিয়েছিলেন। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই তার বুকে গুলি করে ইসরায়েলি বাহিনী। একটি জীবন্ত বুলেটে বুকের এফোড় ওফোড় হয়ে আরেকটি জীবন কেড়ে নিলো। চলমান এই বিক্ষোভে রাজানকে নিয়ে ১১৯ ফিলিস্তিনি মেয়েকে হত্যা করলো ইসরায়েল। আহত হয়েছে অন্তত ১৩ হাজার মানুষ। রাজানকে যখন গুলি করা হচ্ছিল, তখন তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল আরেক চিকিৎসা কর্মী রিদা নাজ্জার। ২৯ বছরের এই নারী বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের চিকিৎসার জন্য আমরা যখন বেড়ার ভেতর প্রবেশ করলাম, ইসরায়েলি বাহিনী আমাদের দিকে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করছিল।’ তিনি আরো বলেন, ‘এরপর একটি স্নাইপারের গুলি এসে সোজা রাজানকে আঘাত করলো। বুলেটের ভাঙা অংশগুলো আমাদের টিমের আরো তিনজনকে আহত করেছিল। রাজান প্রথমে বুঝে উঠতে পারেনি, ও গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এরপরই চিৎকার করে উঠে বলছিল- আমার পিঠ, আমার পিঠ। সঙ্গে সঙ্গেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে।’ রিদা বলেন, ‘দূর থেকে আমাদের ইউনিফর্ম স্পষ্টভাবেই বোঝা যাচ্ছিল। আমাদের মেডিক্যাল ব্যাগও দেখা যাচ্ছিল। যে কেউ বুঝতে পারছিল, আমরা বিক্ষোভকারী ছিলাম না।’ গত ২০ এপ্রিল এক সাক্ষাৎকারে রাজান জানান, আহত বিক্ষোভকারীদের সেবা দেয়া তিনি নিজের ‘দায়িত্ব ও কর্তব্য’ মনে করেন। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলি যত খুশি গুলি করতেই থাকে। ওরা উন্মাদ।’শনিবার রাজানের দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিল হাজারো ফিলিস্তিনি। কলিগদের কাছে থাকা তার হত্যার ভিডিও ক্লিপ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন সবাই। হাস্যকরভাবে রাজানের হত্যার জন্য হামাসকে দায়ী করে বিবৃতি দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

Admin

0 Comments

Please login to start comments