লাইফস্টাইল

'নিষিদ্ধ' হচ্ছে না সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপন, কঠিন হচ্ছে নিয়ম


সি নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ মেয়াদে সেন্ট মার্টিন দ্বীপটি শুধু জীববৈচিত্র্যের জন্য সংরক্ষণ করা হবে এমন একটি সিদ্ধান্তে এসে দ্বীপটিতে পর্যটকদের রাত্রি যাপন নিষিদ্ধ করেছিল সরকার সিদ্ধান্তটি গ্রহণের তিন মাস পর সরকার নতুন করে জানাচ্ছে, এমন নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে পর্যটকদের ওপর থেকে তবে বহাল থাকছে সেন্টমার্টিনে যাওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন একটি নির্দিষ্ট ফি প্রদানের বিষয়টি

সেন্টমার্টিন দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দ্বীপটি কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের কাছে সমুদ্র সৈকতের পর অন্যতম আকর্ষণের প্রতিবছর পর্যটন মৌসুমে - টি জাহাজ যোগে প্রতিদিন গড়ে হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপ ভ্রমণে যান কিন্তু পরিবেশ সংকটাপন্ন দ্বীপটিতে পর্যটনকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ হোটেল-গেস্ট হাউস তাই অতিরিক্ত পর্যটক দ্বীপের ভারসাম্যের জন্য হুমকি এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে বলে পরিবেশ সমীক্ষায় উঠে এসেছে

বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক গণমাধ্যমকে জানান, ‘সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের রাত্রিযাপন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা না হলেও সীমিত করা হচ্ছে কারণ দ্বীপটির স্থানীয়দের কর্মসংস্থান মূলত বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের ঘিরেই চলে আসছে এছাড়া অনেক ব্যবসায়ীদের সেখানে বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে বিনিয়োগ রয়েছে রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ এমন সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নিলে তাদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে কারণে বিকল্প ব্যবস্থা চিন্তা করা হচ্ছে দ্বীপসংশ্লিষ্ট এবং স্থানীয়দের পুনর্বাসনের পরই রাত্রিযাপন বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে

দ্বীপে বসবাসকারীদের কর্মসংস্থান বিভিন্ন হোটেল-মোটেল বিনিয়োগকারীদের পুনর্বাসনের বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন পর্যটন মন্ত্রণালয়

সেন্টমার্টিনে রাতে পর্যটকদের অবস্থান নিষিদ্ধ হলে পর্যটন শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করে আসছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুখিন খাঁনের কথায়, এই প্রবাল দ্বীপে বেড়ানোর উদ্দেশে অনেক পর্যটক তিন দিন অথবা এক সপ্তাহের জন্য কক্সবাজারে আসেন সেন্টমার্টিনে রাতে থাকতে না পারলে কক্সবাজারবিমুখ হয়ে যাবে ভ্রমণকারীরা এতে পর্যটন খাত থেকে আসা রাজস্ব হ্রাস পাবে কক্সবাজারের হোটেল সী-গালের ম্যানেজার নূরে- আলম মিথুনও মনে করেন, সেন্টমার্টিনে রাতযাপন নিষিদ্ধ হলে কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা কমে আসবে

বেশিরভাগ ভ্রমণপিপাসু মনে করেন, মাত্র একদিনে সেন্টমার্টিন দেখা হয়ে ওঠে না কারণ, টেকনাফ থেকে সকালে জাহাজে চড়ে সেন্টমার্টিন পৌঁছাতে দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে যায় মাত্র দুই-তিন ঘণ্টায় কারও পক্ষে সেন্টমার্টিন উপভোগ্য মনে হবে না সেন্টমার্টিনে রাতে থাকতে না পারলে অনেকেই কক্সবাজারে আসা বন্ধ করে দেবেন বলে মনে করেন তাদের অনেকে

 কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় সেন্টমার্টিন দ্বীপের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের চিত্র তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন দেয় পরিবেশ অধিদফতর এর ভিত্তিতে ২৩ সেপ্টেম্বর দ্বীপ রক্ষায় গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের রাতযাপন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়

 সেন্টমার্টিন দ্বীপে ৬৮ প্রজাতির প্রবাল রয়েছে আরও আছে ১৫১ প্রজাতির শৈবাল, ১৯১ প্রজাতির মোলাস্ক বা কড়ি-জাতীয় প্রাণী, ৪০ প্রজাতির কাঁকড়া, ২৩৪ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, প্রজাতির উভচর, ২৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ১২০ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী এছাড়া এই প্রবাল দ্বীপে ১৭৫ প্রজাতির উদ্ভিদ, দুই প্রজাতির বাদুড় পাঁচ প্রজাতির ডলফিন দেখা যায়

Admin

0 Comments

Please login to start comments